somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বাসের কারাগার ও মুক্তির দিগন্ত

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষ যা বিশ্বাস করে, তা-ই তার জগতের সত্য। আর যা তার বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে না, তা হয়ে যায় মিথ্যা, বিভ্রান্তি, শত্রুতা। যুক্তির দোহাই দিয়ে সবাই ভাবে, তারা নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়, চিন্তার জগতে স্বাধীন; কিন্তু আসলে মানুষ এক অদৃশ্য শিকলে বাঁধা। এই শিকল কেউ পরায়নি, সে নিজেই পরেছে—তার অভ্যাস, তার গোষ্ঠী, তার শৈশবের শেখানো সত্য দিয়ে। নতুন কোনো ধারণা সামনে এলে সে শঙ্কিত হয়, যেন তার বিশ্বাসের ভিত নড়ে উঠছে, তার পরিচিত দুনিয়াটি ধ্বংসের মুখে। আর তাই, আত্মরক্ষার সহজ পন্থা হলো নতুন সত্যকে অস্বীকার করা, তাকে বিকৃত বলা, তাকে তাচ্ছিল্য করা।

মানুষ একা বাঁচতে পারে না, কারণ একাকিত্ব মানেই অনিশ্চয়তা। সে তাই নিজের মতো মানুষ খোঁজে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব গড়ে, যারা তার চিন্তাকে নিশ্চিত করে, তার বিশ্বাসকে পোক্ত করে। দলবদ্ধ হওয়ার এই প্রবণতা তার মানসিক স্বস্তির জন্য জরুরি, কারণ দল মানেই নিরাপত্তা, পরিচিতি, স্বীকৃতি। আর এই গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষগুলো একসময় নিজেদের মতকে করে তোলে একমাত্র সত্য, বাইরের সব কিছুকে তারা দেখে সন্দেহের চোখে। গোষ্ঠীর স্বার্থেই তারা নতুন ভাবনাকে শত্রু ভাবে, বিপরীত মতকে বিদ্রূপ করে, আর নিজেদের চিন্তার দেয়ালকে আরও শক্ত করে গেঁথে নেয়।

কিন্তু সত্য কি এতটাই সংকীর্ণ? সত্য কি কোনো গোষ্ঠীর গণ্ডিতে বন্দি থাকে? যারা সত্যের পথযাত্রী, তারা জানে—এই দেয়াল আসলে এক কারাগার, যার ভিতরে মানুষ আরাম খোঁজে, কিন্তু মুক্তি পায় না। নতুন সত্য জানতে হলে এই দেয়াল ভাঙতে হয়, পরিচিত বিশ্বাসের আয়নাকে চূর্ণ করতে হয়। দেয়াল ভাঙা সহজ নয়, নতুন আলো চোখে ধাক্কা দেয়, কিন্তু সেই আলোই মানুষকে সত্যিকারের মুক্তি দেয়। যারা সাহসী, তারা সেই আলোতে নিজেকে সঁপে দেয়; যারা দুর্বল, তারা অন্ধকারকেই নিরাপদ ভাবে। আর যুগ যুগ ধরে, এক পক্ষ দেয়াল ভাঙে, আরেক পক্ষ দেয়াল বানায়—এটাই মানুষের চিরন্তন দ্বন্দ্ব।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামাবাদে জুলাই শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩



পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপা আর ফিরে আসবে না......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ

(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় বহিয়া যায়…..

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫

খৃষ্টপূর্ব পাঁচ শতকের গ্রীক দার্শনিক হেরাক্লিটাস বলেছিলেন, "No man ever steps in the same river twice"। অর্থাৎ নদীর জল বহমান, সেটা দৃশ্যমান হলেও বা না হলেও। একটা মানুষ নদীর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×