জুলাই বিপ্লব না হলে আমাদের দেশের মন্ত্রী মিনিস্টাররা আজকে কোথায় থাকতো আর কী করত সেটা কিন্তু সবাই জানে এমনকি এই মন্ত্রী মিনিস্টাররাও কিন্তু ভালো করে জানে। তারপরও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পর জুলাইয়ের সাথেই বেইমানি করা শুরু করল সেটা কেউ কখনো আশাও করছিল না। তবে চলুন আজকে আরও একটু জেনে নেই ২০২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সফলতা না আসলে কারা কোন জায়গায় থাকতো।
শুরুতেই আমাদের এখন আসতে হয় ইমু ফ্রিল্যান্সার নেতার কাছে যিনি দীর্ঘ সতেরো বছর ইমুর মাধ্যমে রাজনীতি করেছেন। জুলাইয়ে যদি আন্দোলন সফল না হতো তাহলে তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করতেন। ইমুতেই ভাষণ দিতেন দলের জন্য। এমনকি তিনি হয়তো তার মায়ের সাথে শেষ দেখাটাও করতে পারতেন না এবং মরহুম বেগম খালেদা জিয়া জনগনের এত ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন না কারণ ক্ষমতা থাকতো হাসিনা আপার কাছে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তিনি এত লোকজন মাঠে কখনো নামতেও দিতেন না। এখন যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছেন, তিনি এখনো শিলংয়ে আবহে বাতাস খেতেন আর আফসোস করতেন দেশের দায়িত্ব পালন করতে হতো না।
জুলাই বিপ্লব না হলে আবার অন্যদিকে আমাদের দেশের সবচেয়ে প্রবীণ নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোজার ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বাসায় বিশ্রাম নিতেন আর অপেক্ষা করতেন পরের ঈদের জন্য কারণ তখনও তো আরেকবার আন্দোলনের জন্য ঘোষণা দিতে হতো। এভাবেই ঘোষণা চলতে থাকতো কিন্তু কখনো আন্দোলন আর হতো না। ঢাকা আট আসনে নির্বাচিত হওয়া সম্মানিত নেতা ওরফে বউকে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া নেতা লুকায় লুকায় লীগের সাথে খাতির রেখে ব্যবসাপাতি পরিচালনা করতেন আর মালটু কামাতেন। আরও কয়েকটা ব্যাংকের মালিক হতেন। আর এসব নেতাদের চেলাপেলারা কখনো এভাবে ফেসবুকে গলা উচুক করে কথা বলত না। হয়তো পলাতক থাকতো নয়তো চুপচাপ জীবন যাপনে ব্যস্ত থাকত। বুঝতেই দিত না যে তারা বিএনপির রাজনীতি করত। আজকে ছাত্রদল যেইভাবে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গ্যাদারিং দেখায় সেই গ্যাদারিং কখনো দেখাতে পারত না। দেখাতে গেলে সোচা পিচ্ছন লাল করে হলের সামনে সুকা দিয়ে দিত আর শিবির তো জ্যাম নিয়ে তাদের সাথে মিলেমিশে ভঙ্গ ধরে থাকত। তেমন ভঙ্গ ধরেই আজীবন থাকত আর সাধারণ মানুষের কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা হতো না। একদিকে অন্যায় হতো আর এদিকে আপনাদের বসে বসে শুধু মিমস ট্রলি শেয়ার দিয়ে চল লাগত। আর দেশ পুলকি মারা খেয়েছে তো কারণ ব্যাংকের রিজার্ভের পেছন তো আপার মন্ত্রীরা আগেই খালি করে দিচ্ছিলো।
তবে আন্দোলন যদি কোনোভাবে সফল না হতো তাহলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ত এ দেশের সাধারণ মানুষেরা যারা নিজের খেয়ে নিজের পরে আপনাদের ভালোর জন্য আন্দোলনে নেমে এসেছিল। তাদের অবস্থা এমনই হতো যে তারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে গিয়ে মারা খেত আর কেউ হয়তোবা কখনো বাসায় ফিরতে পারত না। আর সেই আন্দোলনের সাথে আপনারা গাদ্দারি করা শুরু করছেন যে আন্দোলনের সুবাদে আজকে ক্ষমতায় বসে সেই আন্দোলনের মানুষের গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য হাইকোর্টে রিট দিচ্ছেন। আর সেই আন্দোলনের মানুষদের চাওয়া পাওয়ার সংস্কারকে সংসদের প্রথম দিনে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিলেন। আর আগের সংবিধান অনুযায়ী চলতে শুরু করলেন। আগের সংবিধান যদি আপনাদের কাছে বৈধ হয় তাহলে তো আপনারাও এখন অবৈধ। কারণ সংবিধানে তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল পাঁচ বছর পরপর। তাহলে চব্বিশ নির্বাচন হওয়ার পর আবার ছাব্বিশ সালে কেন হলো? সবই তো তাহলে অবৈধ ভাই। এভাবে গাদ্দারি করে চইলেন না, দেশের মানুষ আবার আপনাদের বিরুদ্ধে নামতেও দ্বিধাবোধ করবে না।
এমন অবস্থা হইতে পারে আপনারা সংসদে বসে যদি দেশবিরোধী আইন করেন, মানুষ নিজের জানমালের কথা ভাইবা সব বন্ধ কইরা, সংসদে গিয়েও আপনাদেরকে পিটাইতে পারে। আপনারা তখন যত ইংলিশে মুখ বলার চেষ্টা করেন তাতে আপনারা টিকতে পারবেন না।
সুতরাং আপনারা জনতার রাজনীতিতে ফিরেন, কেনে জনতার রাজনীতিতে ফিরবেন? এই যে অনেক লোক আছে, এই ভাবনীয়া জুলাই সনদের ব্যাপারে আপনারা ভালো কথা বলতে চান না, জুলাইয়ের সনদকে আপনারা অত গুরুত্ব দিতে চান না, বলেন এটা আবেগের ব্যাপার না ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




