somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জুলাই বিপ্লব না হলে আমাদের দেশের মন্ত্রী মিনিস্টাররা আজকে কোথায় থাকতো

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুলাই বিপ্লব না হলে আমাদের দেশের মন্ত্রী মিনিস্টাররা আজকে কোথায় থাকতো আর কী করত সেটা কিন্তু সবাই জানে এমনকি এই মন্ত্রী মিনিস্টাররাও কিন্তু ভালো করে জানে। তারপরও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পর জুলাইয়ের সাথেই বেইমানি করা শুরু করল সেটা কেউ কখনো আশাও করছিল না। তবে চলুন আজকে আরও একটু জেনে নেই ২০২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সফলতা না আসলে কারা কোন জায়গায় থাকতো।

শুরুতেই আমাদের এখন আসতে হয় ইমু ফ্রিল্যান্সার নেতার কাছে যিনি দীর্ঘ সতেরো বছর ইমুর মাধ্যমে রাজনীতি করেছেন। জুলাইয়ে যদি আন্দোলন সফল না হতো তাহলে তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করতেন। ইমুতেই ভাষণ দিতেন দলের জন্য। এমনকি তিনি হয়তো তার মায়ের সাথে শেষ দেখাটাও করতে পারতেন না এবং মরহুম বেগম খালেদা জিয়া জনগনের এত ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন না কারণ ক্ষমতা থাকতো হাসিনা আপার কাছে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তিনি এত লোকজন মাঠে কখনো নামতেও দিতেন না। এখন যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছেন, তিনি এখনো শিলংয়ে আবহে বাতাস খেতেন আর আফসোস করতেন দেশের দায়িত্ব পালন করতে হতো না।

জুলাই বিপ্লব না হলে আবার অন্যদিকে আমাদের দেশের সবচেয়ে প্রবীণ নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোজার ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বাসায় বিশ্রাম নিতেন আর অপেক্ষা করতেন পরের ঈদের জন্য কারণ তখনও তো আরেকবার আন্দোলনের জন্য ঘোষণা দিতে হতো। এভাবেই ঘোষণা চলতে থাকতো কিন্তু কখনো আন্দোলন আর হতো না। ঢাকা আট আসনে নির্বাচিত হওয়া সম্মানিত নেতা ওরফে বউকে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া নেতা লুকায় লুকায় লীগের সাথে খাতির রেখে ব্যবসাপাতি পরিচালনা করতেন আর মালটু কামাতেন। আরও কয়েকটা ব্যাংকের মালিক হতেন। আর এসব নেতাদের চেলাপেলারা কখনো এভাবে ফেসবুকে গলা উচুক করে কথা বলত না। হয়তো পলাতক থাকতো নয়তো চুপচাপ জীবন যাপনে ব্যস্ত থাকত। বুঝতেই দিত না যে তারা বিএনপির রাজনীতি করত। আজকে ছাত্রদল যেইভাবে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গ্যাদারিং দেখায় সেই গ্যাদারিং কখনো দেখাতে পারত না। দেখাতে গেলে সোচা পিচ্ছন লাল করে হলের সামনে সুকা দিয়ে দিত আর শিবির তো জ্যাম নিয়ে তাদের সাথে মিলেমিশে ভঙ্গ ধরে থাকত। তেমন ভঙ্গ ধরেই আজীবন থাকত আর সাধারণ মানুষের কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা হতো না। একদিকে অন্যায় হতো আর এদিকে আপনাদের বসে বসে শুধু মিমস ট্রলি শেয়ার দিয়ে চল লাগত। আর দেশ পুলকি মারা খেয়েছে তো কারণ ব্যাংকের রিজার্ভের পেছন তো আপার মন্ত্রীরা আগেই খালি করে দিচ্ছিলো।

তবে আন্দোলন যদি কোনোভাবে সফল না হতো তাহলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ত এ দেশের সাধারণ মানুষেরা যারা নিজের খেয়ে নিজের পরে আপনাদের ভালোর জন্য আন্দোলনে নেমে এসেছিল। তাদের অবস্থা এমনই হতো যে তারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে গিয়ে মারা খেত আর কেউ হয়তোবা কখনো বাসায় ফিরতে পারত না। আর সেই আন্দোলনের সাথে আপনারা গাদ্দারি করা শুরু করছেন যে আন্দোলনের সুবাদে আজকে ক্ষমতায় বসে সেই আন্দোলনের মানুষের গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য হাইকোর্টে রিট দিচ্ছেন। আর সেই আন্দোলনের মানুষদের চাওয়া পাওয়ার সংস্কারকে সংসদের প্রথম দিনে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিলেন। আর আগের সংবিধান অনুযায়ী চলতে শুরু করলেন। আগের সংবিধান যদি আপনাদের কাছে বৈধ হয় তাহলে তো আপনারাও এখন অবৈধ। কারণ সংবিধানে তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল পাঁচ বছর পরপর। তাহলে চব্বিশ নির্বাচন হওয়ার পর আবার ছাব্বিশ সালে কেন হলো? সবই তো তাহলে অবৈধ ভাই। এভাবে গাদ্দারি করে চইলেন না, দেশের মানুষ আবার আপনাদের বিরুদ্ধে নামতেও দ্বিধাবোধ করবে না।

এমন অবস্থা হইতে পারে আপনারা সংসদে বসে যদি দেশবিরোধী আইন করেন, মানুষ নিজের জানমালের কথা ভাইবা সব বন্ধ কইরা, সংসদে গিয়েও আপনাদেরকে পিটাইতে পারে। আপনারা তখন যত ইংলিশে মুখ বলার চেষ্টা করেন তাতে আপনারা টিকতে পারবেন না।

সুতরাং আপনারা জনতার রাজনীতিতে ফিরেন, কেনে জনতার রাজনীতিতে ফিরবেন? এই যে অনেক লোক আছে, এই ভাবনীয়া জুলাই সনদের ব্যাপারে আপনারা ভালো কথা বলতে চান না, জুলাইয়ের সনদকে আপনারা অত গুরুত্ব দিতে চান না, বলেন এটা আবেগের ব্যাপার না ?
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি; বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্কের ভেতরে এখন স্পষ্ট টানাপোড়েন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে পারস্পরিক অস্বস্তি ও বাকযুদ্ধ। এনসিপির সাম্প্রতিক আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুদ্ধিমান হোন, সঠিক কাজটি করুন!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:০৮



দক্ষিন স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল।

এপ্রিলের ১৫ তারিখে এক সপ্তাহের জন্য এসেছি; গ্রানাডা, কর্ডোবা আর মালাগার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। লোকাল কুইজিনের স্বাদ নিচ্ছি। বিশ্বখ্যাত স্থানগুলো ঘুরে দেখছি............পুরাই চিল মুডে। এলাকাগুলোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরবানি: তাকওয়া না লৌকিকতা?— একটি ব্যক্তিগত অনুভুতি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো, আমি কোনো ইসলামিক স্কলার নই। ধর্মতত্ত্ব বা শরিয়তের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো গভীর জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য কোনোটিই আমার নেই। আমি এ সমাজের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু মাকেই মনে পড়ে

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ২৫ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২০

মা মারা গেলো,
সেদিন থেকে আর কেউ খবর নেয়নি।
বাবা বিয়ে করলেন,
বাবাও আর খবর রাখলেন না।
আমার একটাই বোন,
সেও কোনোদিন খোঁজ নেয়নি।
রাস্তায় থেকেছি,
কেউ খবর রাখেনি।
না খেয়ে থেকেছি,
তবুও কেউ খোঁজ নেয়নি।
রাতে ঘুমানোর জায়গা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×