শুক্রবার আসলেই বিটিভিতে দুপুরে বাংলা ছায়াছবি আর রাত্রে
৮ টার বাংলা সংবাদের পর, "আলিফ লায়লা"
দেখা যেনো একটা নিয়মিত সাপ্তাহিক রুটিনের মধ্যে চলে এসেছিল।
এমন লোক হাতে গুনে খুব কম পাওয়া যাবে যারা শুক্রবারে
"আলিফ লায়লা" মিস করতো। এই আলিফ লায়লা
দেখতে যেয়ে ছোট বেলায় আব্বুর হাতে কম মার খাইনি!
ছোট বেলায় শুক্রবারে জুম্মার নামাজ মিস হইলেও বিটিভির
বাংলা সিনেমা দেখা মিস হইতোনা।
এমনকি নামাজের কাতারে দাঁড়াইয়াও চোখে "ইলিয়াস কাঞ্চনের"
ফাইটিং ছিন গুলো চোখে ভাসতো।
আমার একবারের ঘটনা বলি, আমার বয়স তখন ৯/১০ হবে।
আমাদের বাসায় টিভি ছিলোনা। আব্বু নামাজী মানুষ হওয়ার
কারনে ঘরে টিভি রাখার প্রশ্নই উঠতো না।
আর আমাদের যারা
ভাড়াটিয়া ছিল তাদের ঘরেও টিভি রাখতে দিতোনা আব্বু।
টিভি থাকলেই বাসা ভাড়া দিবেনা।
কিন্ত ভাড়াটিয়ারা গোপনে
টিভি চালাতো। এতে আমাদের তিন ভাই বোনেরও ভালোই
উপকার হতো। প্রতিদিন রাতে পড়া শেষ করে যায় কি না যায়?
শুক্রবার দুপুর আর রাতে, ভাড়াটিয়াদের বাসায় যাওয়ায় লাগবে।
একবার শুক্রবার রাতের বেলায়,
আমি আমার বড় আপু
আর ছোট বোন আলিফ লায়লা দেখতে চলে গেছি ভাড়াটিয়াদের
বাসায়। আব্বু বাসায় ছিলোনা তখন। আমরা আলিফ লায়লা
দেখতে দেখতে আব্বু বাসায় চলে এসেছে।
এসেই তো আমাদের
খোঁজ শুরু করে দিয়েছে। বাসাতে যখন আমাদের পেলোনা তখন
সন্দেহ করেছিলো, ভাড়াটিয়াদের বাসায় আছি কিনা। গোপনে বাইরে
থেকে দাড়িয়ে জানালা দিয়ে দেখলো। ভেতরে কেমন শো"
চলতেছে। আব্বু যে জানালা ধরে দেখছিল সেটা আমার দুই
বোন টের পেয়ে জলদি বেরিয়ে গেলো। শুধু টের পাইছিলাম না আমি।
আমি চেয়ারে বসে আলিফ লায়লা দেখছিলাম। হঠাৎ দেখলাম
আব্বু চলে আসছে ঘরের মধ্যে। আব্বুর হাতে ছিল আবার আমার তিন দিন আগে
কেনা সেই র্যাকেট! আব্বুরে দেইখা আমি কি করবো বুঝতে পারলাম না।
সামনে তাকিয়ে দেখলাম আমার দুই বোন গায়েব!
আমি টেরই পাইনাই ওরা কখন বেরিয়ে গেছে।
আমি পলানোর
আর চান্স পেলাম না। তার আগেই "মফিজ কট!
আমার হাত ধরে টানতে টানতে আব্বু বাইরে নিয়ে গেলো।
তারপর দিলো র্যাকেটের উড়াক' তাড়াক বাড়ি! বাড়ি খেয়ে
পিঠ বাঁকাইতে বাঁকাইতে আমি দৌড়াইয়া ঘরে ঢুইকা বড় আপুর রুমের
খাটের তলে আশ্রয় নিলাম। আব্বুতো ঘরে এসে আমারে তন্ন তন্ন
করে খুজতে লাগলো। কিন্ত পাইতেছিল না।
আমি নিজের মুখ
নিজে চাইপা ধরে খাটের নিচে শুইয়া ছিলাম। মাগার বেশিক্ষন
চাইপা ধরে রাখতে পারলাম না। ব্যাথা আর কতক্ষন চাইপা রাখা যায়?
জোরে কাইন্দা উঠলাম। আর আমার শ্রদ্ধেয় বাপ ঠিক পাইয়া গেলো।
খাটের নিচে তাকাইয়া কি সুন্দর করে ডাকতেছিল। আদরের ডাক!
আমি তো বুঝচ্ছিলাম বাইরে বের হইলে রক্ষা নাই।
আদর কইরা ডাইকা যে ধোলাই দেবে?
তা খাওয়ার মধ্যে আমি নাই। তাই বাইরই হয়নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




