somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কার স্বার্থে অবরোধ?

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৫ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। শুরুতেই এ কথাটি বলে রাখতে চাই, অবরোধ কোনো রাজনৈতিক পরিভাষা হতে পারে না। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বলতে পারি, অবরোধের নামে দেশে যা হচ্ছে, তা সন্ত্রাসবাদের নামান্তর। আমরা যদি ৫ তারিখের আগের পরিস্থিতিটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বলতে পারব, দুটি রাজনৈতিক দলের ৫ তারিখের কর্মসূচি জনবান্ধব ছিল না। এটা মূলত ছিল- একটি দলের অবৈধভাবে অর্জিত ক্ষমতার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে। পক্ষান্তরে অপরটি ছিল, ক্ষমতা থেকে বহুদিন দূরে থাকা একটি দলের ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে নেতাকর্মীর সমাবেশ। এ দুয়ের মধ্য কি একটি শব্দও আছে- যা জনগণ সংশ্লিষ্ট? ইতিমধ্যে অবরোধে নিহত মানুষের সংখ্যা ২৫ ছাড়িয়েছে। আহত প্রায় ১ হাজার। প্রতিদিন দেশের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। ঢাকার জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। সহস্রাধিক মালবাহী গাড়ি ও যাত্রীবাহী গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পণ্য সঠিকভাবে দেশের মধ্যে পরিবহন না হওয়ায় অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেলেও ক্লাস করতে পারছে না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কৃষক তেলের অভাবে জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। তাদের উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য পরিবহনের অচলাবস্থায় নামমাত্র মূল্যেও বিক্রয় হচ্ছে না। তারা কেউ কেউ নিঃস্ব হওয়ার পরর্য পড়েছেন। মোটকথা, পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি খাতসহ দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক খাতই চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছে, যা বছর শেষে জিডিপিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মানুষের মৌলিক চাহিদা পাঁচটি। যথাক্রমে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই দরিদ্র। এদের অধিকাংশই দিন আনে দিন খায়। এরা গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, অর্থনীতি বা জিডিপি বোঝে না। এরা গায়ে-গতরে খেটে খাওয়ার সংস্থান করতে পারলেই সন্তুষ্ট। এরা রাজনীতি, টেন্ডারবাজি, বোমাবাজি কী- জানে না। এরা শুধু জানে, সকাল হলেই পথে বেরোতে হবে। রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করার পর যে পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে, তা দিয়ে কয়েক কেজি মোটা চাল আর হয়তো সামান্য কাঁচাবাজার নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে। অন্যথায় পরিবারের লোকজন অনাহারে থাকবে। হয়তো উপার্জন ভালো হলে বউয়ের জন্য এক ডজন প্লাস্টিকের চুড়ি, সন্তানের জন্য একটি আদর্শলিপির বই ও একটা বেলুন কিনবে। আর কিচ্ছু চাই না এদের। এরা তো এভাবেই খুশি। কিন্তু এ অযৌক্তিক অবরোধ এদের মুখ থেকে এ খুশিটুকুও কেড়ে নিয়েছে। রাজনীতিকরা একটু ভেবে দেখবেন কী- গণতন্ত্র তো আর মৌলিক অধিকার নয়। যেখানে মানুষ তার প্রধান মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেখানে কি গণতন্ত্রের চর্চা খুবই দরকার? প্রাচীনকালে এক রাজার কাছে একটি অদ্ভুত বিচার এসেছিল। দুই নারীই একটি সন্তানের মাতৃত্ব দাবি করছিল। যখন রাজা বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে কে আসল মা- তা নির্ধারণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন, তখন তিনি হঠাৎ জল্লাদকে ডেকে বললেন-
: বাচ্চাটাকে দুই টুকরা করে দুজনকে দিয়ে দাও।
তখন আসল মা রাজার উদ্দেশে বললেন-
: বাচ্চাটা উনাকেই দিয়ে দিন হুজুর। আমি বেঁচে থাকতে আমার সন্তানের কোনো অমঙ্গল আমি সহ্য করতে পারব না।
রাজা তখন আসল মায়ের কোলে বাচ্চাটিকে তুলে দিলেন।
জনগণের জন্যই যখন দুই নেত্রী রাজনীতি করেন, তো সন্তানসম জনগণকে কে বেশি ভালোবাসেন- তা প্রমাণ করার এখনই সময়।

...............................................
আমার এ লেখাটি দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সকালের খবরে প্রকাশিত হয়েছে।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×