somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাত্রী নির্বাচন (সংলাপ)

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পত্রিকার ভিতরের পাতায় মনোযোগ দিয়ে পড়িবার মত কিছু থাকে বলিয়া আমার জানা নাই। কিন্তু আধাঘন্টা ধরিয়া আবির গভীর মনোযোগ সহকারে কি যেন দেখিতেছে। ব্যাপারখানা কি? টান দিয়া লইয়া দেখিলাম "পাত্রী চাই" বিজ্ঞাপনে ভরা। বেচারা এতক্ষণ ধরিয়া এই জিনিস-ই দেখিতেছিল। পত্রিকা রাখিয়া বলিলাম-
: কাহার জন্য?
: সবার জন্য!
: মানে?
: মানে আবার কি? আমরা যারা ব্যচেলর গ্রুপের সদস্য, মানে নোঙ্গরহীন সমাজের সভ্য পুরষ তাহাদের সবার জন্য নোঙ্গর তলাশ করিতেছি।
: বুঝলাম না!
: বুঝিবার দরকার নাই। কারণ কাঙ্খিত পাত্রী এই পাতায় পাওয়া যায় নাই।
: কি? এত বড় পাতা জুড়িয়া বিজ্ঞাপন; আর তোর একটা পাত্রীও পছন্দ হইল না্? বিজ্ঞাপন দাতা সত্যিই মনোকষ্টে ভুগিবে।
: ভুগিলে ভুগিবে। কিন্তু আমি যেমনটি চাইতেছি তেমনটি পাওয়া যাইতেছে না্।
: কেন? তোর ডিমান্ড কি খুব বেশী? পাত্রীর বাড়ী-গাড়ী থাকিতে হইবে? নাকি পাত্রীকে স্বর্গের অপ্সরী হইতে হইবে?
: আরে নাহ..
: তাইলে পাত্রী কি ইরানী, তুরানী বংশের হইতে হইবে? নাকি পাত্রীর ডাবল এম.এ লাগিবে?
: তাও নাহ...
: তাহা হইলে?
: শোন, ব্যটা! বর্তমান বাজারের যে অবস্থা, তাহাতে বিবাহের অর্থ জানিস?
: তুই-ই বল!
: বিবাহ হইল বিবাহ পূর্ববর্তী খরচ, বিবাহকালীন খরচ ও বিবাহ পরবর্তী খরচ, এই তিন খরচের সমষ্টি।
: এত বিশাল খরচের চিন্তা করিলে আর পাত্রী দেখিবার দরকার কি? বিবাহ-ই বা করিবার দরকার কি?
: এই জন্যেই তো বিশেষ অফারের চান্স খুঁজতেছি।
: মানে? পাত্রী কি বাজারের সওদা যে, বিশেষ প্যকেজ ঘোষণা করা হইবে?
: ধ্যৎ! আমাকে কি অতটা নির্বুদ্ধ মনে হয় তোর?
: তাহলে পাগলের মত ঐসব কি বলিতেছিস?
: শোন চান্সটা তোর কানে কানে বলিয়া দেই। তোরও কাজে লাগিতে পারে!
: বল! (কানটা তাহার দিকে বাড়াইয়া দিয়া)
: শোন, এখন তো নারীবাদীরা বেশ সোচ্চার তাইনা ? নারীনীতি নিয়ে সমানাধিকারের দাবী রহিয়াছেই।
: কিন্তু আবির! তাহাদের দিয়া তোর লা্ভ কি?
: ঐ সমাজের কোন পাত্রী পাওয়া গেলে সবদিক দিয়াই লাভ।
: কিভাবে? চমকাইয়া উঠিতে বাধ্য হইলাম!
: সভ্যতার আইন ভাঙ্গিয়া তাহারা সমানাধিকার চাই। সুতারং তাহারা নিশ্চয়ই সমানাধিকারের দাবী তুলিবে না! বিবাহের পরে বউ নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা বর্তমানে একটি মহাসমস্যা। কামাইয়ের অর্ধেকটাই এই বাসা ভাড়ায় খাইয়া ফেলিবে। কিন্তু সমানাধিকারের কোন পাত্রী পাইলে সমস্যা দূর হইত। অতসব টেনশন না করিয়া পাত্রীর বাবার বাড়ীতে আস্তানা গাড়া যাইত।
: কিন্তু তাহাতে যে ঘর জামাই বলা হইবে?
: অবজেকশন তোর কথায়। মেয়েরা স্বামীর বাবার বাড়ীতে থাকিলে কি তাহাদের কখনো "ঘর বউ" বলা হয়?
: না।
: তাহা হইলে ইহাকেও ঘর জামাই বলা যাইবে না।
: তোর কথায় যুক্তি আছে তো! কিন্তু...
: কিন্তু কি? ঘরের কাজ করিবার কথা বলিতেছিস?
: হুম.. সেটা নিয়েই তো চিন্তা!
: শোন, চিন্তার কোন কারণ নেই। একটি সিক্রেট কথা বলি। পানি গরম করা ছাড়া ঐ আগুন কোম্পানীর কোন কাজই আমার জানা নেই। একদিন আমি আরেক দিন সে রান্না করিবে। আমি আমার দায়িত্ব পালনে কোন রকম অবহেলা করিব না। তবে আমার রান্না খাইয়া উনার বমি আসিলে আমার কিছু করিবার নাই। দু'দিন যেতে না যেতেই উনি আমাকে রান্নার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য হইবেন। একদিন আমি বাজারে যাইব আরেক দিন আমার বউ বাজারে যাইবে- ইহা ভাবিতেই আমার কেমন যেন সুখ সুখ অনুভব হইতেছে।
: তারপরেও...
: দোস্ত! চিন্তা করিস না। এমন কিছু কাজ রহিয়াছে যে, হাজার চেষ্টা-সাধনা করিলেও তাহা পুরুষের উপর চাপানো যাইবে না।
: যেমন?
: যেমন ধর- গর্ভধারণ করা, বাচ্চারে দুধ পান করানো ইত্যাদি।
দেখিলাম আবির অনেক দুর ভাবিয়া রাখিয়াছে।
: দোস্ত এমন পাত্রী পাইলে সত্যিই তুই বিবাহ করবি?
এবার আবির কথার সুর পাল্টাইয়া বলিল....
:এই ধরণের পাত্রী রাস্তাতেই মানায়। বনের পশু যেমন ঘরে বেমানান, তেমনি উহারাও ঘরে বেমানান। সমানাধিকারের আড়ালে জরায়ু স্বাধীনতার দাবী উত্থাপনকারীণি এসব নারীরা অসভ্য, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি। উহাদের দেহ পাবলিকের মালিকানাভূক্ত। ঠিক তাজমহলের মত সবার জন্য খোলা। উহারা কখনো বউ হইতে পারে না।

আমি ভয় না পাইয়া কেবল হো হো করিয়া হাসিতে লাগিলাম.....
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×