আজিজ সাহেবের হাতে জ্বলন্ত সিগারে।তাকে দেখে চিন্তিত মনে হচ্ছে।আজিজ সাহেব একজন বিখ্যাত লেখক।একটি স্বনামধন্য সাহিত্য পত্রিকায় গল্প লিখতে হবে।তাই গল্পের প্লট নিয়ে ভাবছেন।একটি প্লট কিছুক্ষন ধরেই বেশ যন্ত্রনা দিচ্ছে।মনে হচ্ছে, না লিখা পর্যন্ত যন্ত্রনা দিয়েই যাবে।আজিজ সাহেব তাই মনস্থির করে ফেললেন,সেই যন্ত্রনাকারী প্লটটি নিয়েই গল্প লিখবেন।শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারার আনন্দে তিনি আরেকটি সিগারেট ধরালেন।প্রথম কাজ শেষ।এখন দ্বিতীয় কাজটি করতে হবে।প্লট ঠিক করেছেন। এখন কল্পনা করতে হবে।আজিজ সাহেবকে এখন কিছু চরিত্র নিয়ে একটি কাল্পনিক ঘটনা সৃষ্টি করতে হবে।লেখক হওয়ার অনেক যন্ত্রনা।সেই যন্ত্রনা উপভোগ করার জন্য আজিজ সাহেব প্রস্তুত।তিনি খাতা কলম নিয়ে খুব আয়োজন করে বসলেন।
গল্পটির মূল চরিত্র একটি বালিকা। নিজেকে নিয়ে যার রয়েছে হাজারো রকম স্বপ্ন।যে এখনো কুতকুত এবং দড়িলাপ খেলা নিয়ে বান্ধবীদের সাথে নিয়মিত ঝগড়া করে।বাসায় মায়ের বকুনি খেয়ে আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করে।আবার রাতে ভুতের ভয়ে মায়ের কোলে আশ্রয় খোঁজে।বালিকাটির সরলতা আজিজ সহেবকেও স্পর্শ করে।লেখকেরই সৃষ্ট কাল্পনিক চরিত্রের কাল্পনিক আবেগ,স্বপ্ন,অনুভুতি লেখকের মনে শিহরন জাগায়।আজিজ সাহেব জানেন এটি লেখকদের একটি অসুখ,যে অসুখের কোন চিকীৎসা নেই।হঠাৎ গল্পে কিছু অবাঞ্চিত যুবকের আবির্ভাব ঘটে।যারা সারা দিন বিভিন্ন সমাজ এবং মানবতা বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকে এবং রাতে বিচরন করে নেশার ভয়াল জগতে।এদের অভিশপ্ত কামনার স্বীকার হয় বালিকাটি।একদিন কোন এক অভিশপ্ত সময়ে বালিকাটি ধর্ষিত হয়।নেশায় বুদ কয়েকটি নরপিশাচ বালিকাটিকে ধর্ষনের পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় ডোবায়।গল্পের এই অংশটুকো লিখতে আজিজ সাহেবের খুব কষ্ট হয়।তিনি যেন স্পষ্ট বালিকাটির আর্তনাদ শুনতে পান।নরপিশাচদের উল্লাস তাকে অস্থির করে তোলে।তিনি লিখতে চান না,কিন্তু লিখে চলেন।
এই সময় কারো ডাকে আজিজ সাহেব বাস্তবে ফিরে আসেন।করিম দাড়িয়ে আছে।করিম আজিজ সাহেবের দূর সম্পর্কের ফুফাতো ভাই।বর্তমানে এই বাসায় আশ্রিত হিসেবে আছে।করিমকে খুব উত্তেজিত মনে হয়।করিম বলে,ভাইজান খবর শুনছেন?পাশের বাসার কাজের মাইয়্যাটারে মাইরা কারা যেন ফ্যানের লগে লটকাইয়া রাখছে।সাংবাদিক আর পুলিশও আইছে।আপনে যাবেন নাকি একবার?আজিজ সাহেব খুব বিরক্ত হয়।তিনি রাগত স্বরে করিমকে বলেন,তোকে বলেছি কাজের সময় ডিস্টার্ব করবি না।এইসব ফালতু ব্যাপারে মাথা ঘামানোর সময় কই?করিম ভয় পেয়ে চলে যায়।
আজিজ সাহেব আবার গল্পে হারিয়ে যান।গল্পের গাঁথুনী ভালো হয়েছে।আজিজ সাহেবের কাল্পনিক বালিকার অব্যক্ত যন্ত্রনা তাকে কষ্ট দেয়।নিজের সৃষ্ট কাল্পনিক চরিত্রের দুঃখে,আজিজ সাহেবের চোখে অশ্রু গড়ায়।
কাল্পনিক নয়,বাস্তব অশ্রুজল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

