১. যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই। বাসে উঠে দেখি আমার সিটে অন্য একজন বসে আছে। লোকটা বসে আছে মুখ কাচুমাচু করে আর বারবার কল্লা উচু করে চারপাশে দেখছে কখন সিটের আসল মালিক এসে উপস্থিত হয়। আমি বল্লাম, দাড়া তোর কল্লা উচু করা দেখাইতেছি (মনে মনে)। শালা শুরুতেই ফ্যাকড়া। বাঘের মেজাজ নিয়ে সিটের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। অপেক্ষাকৃত “ভালো” সিটের অফার ফিরিয়ে দিয়ে ব্যাপক ভাবসহকারে গম্ভীর গলায় বললাম- “নো”। তাতেই কাজ হলো। যাত্রা হলো শুরু। শুভ যাত্রা।
২. ঝিনাইদহে পৌছালাম রাত সাতটা নাগাদ। বাস টার্মিনাল থেকে শহরের দিকে যাবার জন্য অটো-তে উঠলাম। যাত্রী আমরা মাত্র দুজন। আমার সামনে বসা ছেলেটি এই শীতেও হাফহাতা একটা পাতলা গেন্জি গায়ে। শীতে তার বিন্দু মাত্র সমস্যা হচ্ছেনা। মনে হয় সামথিং রং আছে। আমার হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে ছোড়াটা বললো “কোন জাগাত্তে আসচেন”। আমিও হাত ঘড়িটার তাকিয়ে বললাম “ঢা-ঢা-ঢাকা থেকে।”
৩. হোটেলে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া সেরে আরাম করে শুয়ে টিভি অন করতেই জিহাদ নামের শিশুটির খবর। আমি যেন একেবারে ভেঙ্গে পড়লাম। এ খবর দেখার মানসিক শক্তি আমার ছিলোনা। আমি প্রায় বোধ শুন্য অবস্থায়, সমস্ত কিছুর শেষ আশ্রয়স্থল, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে হাত পাতলাম- বাচাও, বাচাও শিশুটাকে বাচাও। জানিনা কেন আমি কাদছিলাম।
৪. তাপমাত্রা সাত ডিগ্রির কিছুটা উপরে। এই তীব্র শীতে আমি ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলাম। খুব ভালো লাগলো। মনে হলো যেন শীত ছেড়ে গিয়েছে। এখন বেরুতে হবে।
৫. সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে টিভি অন করতেই জিহাদের করূণ মৃত্যুসংবাদ। আমি টিভি বন্ধ করে ঢাকায় ফিরবার জন্য ব্যাগ গোছাতে লাগলাম।
গুড বাই ঝিনাইদহ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


