somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার অপমৃত্যু

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্টেশনে বসে আছে নীরা আর অভিক। আজ তাঁদের বিয়ে করার কথা। নীরা ধনীর দুলালী। ওর বাবার প্রচণ্ড ক্ষমতা। আর অভিক জীবন সংগ্রামে যুদ্ধ করা এক সাহসী যুবক। নীরার পরিবার মেনে নেবে না বলে সবার অলক্ষে তারা অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। যেখানে শুধুই তারা দুজন, পরস্পর মুখোমুখি বসে গল্প করতে পারে। কেউ বাঁধা দিবে না যেখানে।

নীরার বাসা থেকে বারবার ফোন দিচ্ছিল নীরাকে। নীরা ফোন অফ করে রেখেছে। না জানি বাসায় এখন কতই না হুলস্থূল কাণ্ড ঘটে গেছে! অভিকের বাবা নেই। একমাত্র বোন আর মাকে নিয়ে টানাটানির সংসার। ছোট্ট একটা চাকরি করে সে। যা বেতন পায়, ও দিয়ে কষ্টে কোনোরকমে চলে অভিকরা। কিন্তু, অভিকের এখন রাজ্যের চিন্তা। কোন কিছু না ভেবেই নীরাকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে সে। হাজার হোক, ধনীর দুলালী। ওর অভাবের সংসারে মানিয়ে নিতে পারবে তো?

:এই কী ভাবছ?
:কিছু না।
: আর লুকাতে হবে না। আমি জানি কী ভাবছ?
:কী ভাবছি?
:দেখো, আমি কিন্তু সব জেনেই তোমাকে ভালবেসেছি। আমাকে নিয়ে তোমার এতো ভাবতে হবে না। মেয়েরা ইচ্ছে করলেই সবখানে মানিয়ে নিতে পারে। তুমি তো না খেয়ে থাকবা না, তাই না? যা খাও, আমিও তাই খাব। এতো চিন্তা করো না তো। প্লিজ।

এই তুমি আমি এখন পাশাপাশি বসে আছি। এতো রোমান্টিক একটা মুহূর্তকে তুমি শুধু শুধু নষ্ট করছ।

:ওকে। যাও। আর চিন্তা করবো না। বলেই অভিক হেসে উঠে।

ওরা এখন তাঁদের ভবিষ্যৎ সাজাতে ব্যস্ত। কে কী করবে, ছেলে মেয়ের নাম কী রাখবে, ঠিক করছে।

নীরা কথা বলেই যাচ্ছে। আর অভিক শুধু ওর মুখের দিকে অপলক তাকিয়েই আছে। এতো সুন্দর একটা মেয়ে তার কপালে এসেছে। তার সাত পুরুষের ভাগ্য।

ট্রেন চলে এসেছে। কিন্তু একি! স্টেশনে এতো পুলিস কেন? তবে কী বাবা ……………….. ??

নীরার বাবাকে সবাই এক নামে চিনে। সে হিসেবে নীরাকেও অনেকে চিনে। তাই নীরাকে খুঁজতে পুলিশের বেশি বেগ পেতে হয় নাই। দুজনকেই থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

নীরার বাবার অগাধ টাকা। ধরাকে সরাজ্ঞান করে। এক রকম টাকার জোড়েই অভিকের নামে অপহরণের মামলা করে। অভিকের অগাধ বিশ্বাস ছিল, নীরা হয়তো অস্বীকার করবে। কিন্তু নীরা অস্বীকার করে নি। আদালতে দাঁড়িয়ে নীরা যখন বলেছিল যে, অভিক তাঁকে অপহরণ করতে চেয়েছিল, সেদিন অভিকের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছিল। পৃথিবীটা তখন অভিকের কাছে অর্থশূন্য মনে হয়েছিলো।

বিচারে অভিকের ১২ বছরের জেল হয়।

অভিকের কাছে নীরা এখন শুধুই একটা অভিশাপ। সব কি তাহলে মিথ্যে ছিল? নীরার খুনসুটি, একসাথে বসে চাঁদ দেখা, বিকেল বেলায় চটপটি ফুসকা নিয়ে কাড়াকাড়ি, হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটে চলা মুহূর্তগুলো কি সব মিথ্যে ছিল? জেলে বসে অভিক শুধুই এইসব ভাবতো আর নীরাকে অভিশাপ দিতো।

কিন্তু নীরা কেন মিথ্যাসাক্ষী দিয়েছিল, এটা কেউ জানে না।

ঠিক তিন মাস পর , নীরা একটা সুইসাইড নোট লেখে তার বাবাকে।

“বাবা, তোমার কথামত অভিককে জীবিত রাখতে আমি মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছিলাম। অভিককে আমি ভালোবাসি বাবা। অনেক বেশি ভালোবাসি। ও অন্য সবার মত ছিল না। ও তোমার টাকাকে ভালবাসে নাই। ও তোমার মেয়েকে ভালবেসেছে বাবা।

আমি এটা কখনোই মানতে পারতাম না, আমি বেঁচে থাকতে অভিক এই দুনিয়ায় থাকবে না। তাই, অভিককে বাঁচিয়ে রাখতে তোমার কথার মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছিলাম। ভালবাসা তো তাই বাবা, যেখানে ভালোবাসার মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।

কিন্তু বাবা, আমি অভিককে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আমি পারছি না বাবা, তার সাথে কাটানো ভালোবাসার রঙ্গিন মুহূর্তগুলোকে ভুলতে। প্রতি মুহূর্তে বিবেক আমাকে আঘাত করছে বাবা। এই হৃদয় অভিকের সান্নিধ্য ছাড়া বাঁচতে পারছে না বাবা। তাই আমি চলে যাচ্ছি বাবা। তোমাদের সব মায়া ছেড়ে, এই পৃথিবী ছেড়ে।

বাবা, একটা অনুরোধ, অভিককে কিছু জানিও না বাবা। ও সহ্য করতে পারবে না। বিদায় বাবা। শুভ বিদায়। “

অভিক তার প্রচণ্ড ঘৃণা নিয়েই বেঁচে আছে। কোনোদিন কি নীরার পরিণতির কথা জানতে পারবে? জানলে কী মনে হবে তার?

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×