somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা অসমাপ্ত ভালোবাসা

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রক্তিম আর সুপ্তির মাঝে চমৎকার একটা ভালোবাসার সম্পর্ক। একজন আরেকজনকে জান দিয়ে ভালোবাসে। বর্তমান যুগে এরকম সম্পর্ক খুব কম দেখা যায়। তাঁদের মাঝে বিশ্বাসটাও প্রবল। তাঁদের মাঝে না আছে কোনো অপূর্ণতা, না আছে কোনো ঝগড়া। খুব ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল তাঁদের ভালোবাসার দিনগুলো।

তাঁদের সম্পর্কের দেড় বছর পর রক্তিম হঠাৎ আবিষ্কার করে যে সুপ্তি ফেসবুকে মোটামোটি পপুলার একজন হয়ে উঠেছে। দেশের অনেকেই তাকে চিনে। আর এই পপুলার হওয়ার সুবাদেই দেশ ও দেশের বাইরের বেশ কয়েকজনের সাথে ঘনিষ্ঠতা হয়ে উঠে সুপ্তির।

এর মাঝে একজনের নাম অরণ্য। রোমে থাকে। অরণ্য সাহিত্যপ্রেমী মানুষ। গল্প, কবিতা উপন্যাস ভালো লেখে। সুপ্তির আবার সাহিত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ আছে। তাই অল্প কয়েকদিনের ভেতরেই অরণ্যর সাথে সুপ্তির চমৎকার একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সুপ্তি অরণ্যর সাথে রাত ৪টা পর্যন্ত চ্যাট করে ফেসবুকে। অবশ্য রক্তিম এর কিছুই জানে না। মানে, পুরোটাই রক্তিমের অজান্তে।

রক্তির আর সুপ্তির মাঝে অরণ্য ঢুকে যায় পুরোপুরি। অরণ্য রোমে সেটেল বড়লোক বাবার একমাত্র সন্তান। অবশ্য সুপ্তির মাধ্যমে রক্তিমের সাথেও অরণ্যর বন্ধুত্বের একটা ভাল সম্পর্ক হয়ে যায়। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। এই সম্পর্কের কারণেই রক্তিম অরণ্যকে কিছু বলতেও পারে না।

ধীরে ধীরে সুপ্তি, রক্তিমের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। মনমালিন্য, ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। তাঁদের সম্পর্কের মাঝে মিথ্যা ঢুকে যায়। বিশ্বাসটাও নষ্ট হতে থাকে। দিনরাত ঝগড়া থাকলে কোনো সম্পরকই টিকে না। অবশ্য রক্তিম সুপ্তিকে আগের মতোই ভালোবাসে। তাঁদের মাঝে যোগাযোগটাও ধীরে ধীরে কমে আসে। অবশ্য তখনো তাঁদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক বিদ্যমান।

একদিন রাত মাঝে ১১টা ৪৭। রক্তিম আর সুপ্তির মাঝে কথোপকথন।

রক্তিমঃ জান, শরীরটা ভালো লাগছে না। শুয়ে পড়বো।
সুপ্তিঃ ওকে শুয়ে পড়। আমারও প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। গুড নাইট।

এই ছিল সেই রাতে তাঁদের দুজনের কথোপকথন।

রাত ৩.৪১ এ রক্তিমের প্রচণ্ড পেটব্যথা আর রক্তবমি শুরু হয়ে যায়। অবস্থা খুব খারাপ দেখে রক্তিমের রুমমেটরা রক্তিমকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে প্রচণ্ড ব্যথা সত্ত্বেও রক্তিম সুপ্তিকে এসএমএস করে, “জান, আমার প্রচণ্ড পেটব্যথা। খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার জন্য দোয়া করিও। “

ঠিক একমিনিট পরেই রিপ্লাই আসে। “ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকো। সব ঠিক হয়ে যাবে।“

রক্তিম ফিরতি এস এম এস করে। “ তুমি ঘুমাও নাই! তুমি না বললে ঘুমাবে! এইজন্য তোমাকে ফোন দিয়ে আর জাগালাম না। এসএমএস দিলাম!”

সুপ্তিঃ আরে, আমি এতো তাড়াতাড়ি ঘুমাই না। তোমাকে এমনি বলেছিলাম। অরণ্যর সাথে চ্যাট করছি।
রক্তিমঃ এতো রাতে?
সুপ্তিঃ হুম, রোমে এখনো এতো রাত হয় নাই। তাই কথা বলছি। ও একটা চমৎকার ঘটনা বলছে। মজা পাচ্ছি। পরে এসএমএস করবো তোমাকে।
রক্তিমঃ জান, আমি মারা যাচ্ছি ব্যথায়।
সুপ্তিঃ কিছুই হবে না। চুপচাপ শুয়ে থাকো।

রক্তিম সুপ্তির চ্যাটে আর ডিস্টার্ব করলো না। শুধু এসএমএস দিয়ে বলল,” ওকে জান, আই লাভ ইউ। মিস ইউ লট।“

সুপ্তি এই এসএমএস আর কোনো উত্তর দেয় নাই। সে তখন অরণ্যর সাথে সরেস চ্যাটে ব্যস্ত। ভোর ৬.১১ তে রক্তিম মারা যায় হাসপাতালের বেডে। ডাক্তার বলে ফুড পয়জনিং এ রক্তিম মারা গিয়েছে। রক্তিমের ফ্রেন্ডরা রক্তিমের বাসায় ফোন করে জানিয়ে দেয়। এরপর সুপ্তিকে ফোনের পর ফোন করে। কিন্তু সুপ্তি ফোন ধরে না। হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে, অথবা এখনো অরণ্যর সাথে খোশ চ্যাট করছে। উপায় না দেখে রক্তিমের বন্ধুরা সুপ্তির মোবাইলে এসএমএস করে রাখে দুঃসংবাদটা।

সুপ্তি যখন ঘুম থেকে উঠে এসএমএস চেক করে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সবশেষ ততক্ষণে। তখন বাজে দুপুর ১.৪৯। সুপ্তি সেদিন ভোর ৫.৩৭ পর্যন্ত অরণ্যর সাথে চ্যাট করেছিল। রক্তিমের লাশ রক্তিমের পরিবার হাসপাতাল থেকে ততক্ষণ নিয়ে গেছে। রক্তিমকে শেষ দেখাও দেখতে পারে নাই সুপ্তি।

এরপর সুপ্তির কী হয়েছিল লেখক তা জানতে পারে নাই।

রক্তিমের মারা যাওয়ার ঠিক ৯৭ দিন পর ইতালির পুলিশ অরণ্যকে গ্রেফতার করে। অরণ্য ছিল আন্তর্জাতিক মাফিয়া। অবৈধ অস্ত্র আর ড্রাগসহ রোমের পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অরণ্যর গ্যাং।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×