সঙ্গতিহীন সিলেবাসে আনার্স কোর্স সম্পন্ন করে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিএসসিইন হেলথ টেকনোলজি (ডেন্টাল)-র ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা। নিজেদের দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও প্রাপ্ত সনদের সঙ্গে মিল না থাকায় কর্মক্ষেত্রে আবেদন করে বার বার ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা। বিষয়টি নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েও ফল পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। তাই নিজেদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট ও অনশনসহ পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ডেন্টাল) স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল দুপুরে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। লিখিত বক্তব্যে ইসরাত সুলতানা রুনা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোর্স খোলা জানিয়ে ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজি ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে কোর্সটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, টেকনোলজি সম্পর্কিত গ্রাজুয়েশন হলেও তাদের কোর্সের অধীনে এমন কোনো বিষয় নেই যা প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। বরং কোর্সের সিলেবাসে যা রয়েছে তা সম্পূর্ণ বায়োলজিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল। বিশ্বের আর কোনো দেশে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নামে কোনো কোর্স পরিচালিত হয় না বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এই কোর্স সম্পন্ন করে আমরা আজ বেকার এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন। চিকিত্সা স্বাস্থ্যের বায়োলজিক্যাল ও ক্লিনিকাল সিলেবাস অধ্যায়ন করা সত্ত্বেও তাদের দেশে কোনো কর্মসংস্থান ও প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নেই। এমনকি গ্রাজুয়েটরা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
সারোয়ার হোসেন ভূইয়া বলেন, যা পড়ানো হয় তা যদি করতেই না পারি তাহলে তা পড়ানো হবে কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি একটি কোর্সের ভবিষ্যত্ না দিতে পারে তাহলে এই কোর্স পরিচালনা করা হবে কেন?
এ বিষয়ে কলেজ প্রিন্সিপ্যাল ও সংশ্লিষ্ট ডিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জানিয়ে এর সংস্কারের দাবি জানান তারা। কিন্তু এসব কর্তাব্যক্তিরা একজন অন্য জনের উপর দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিব্রত করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
কর্তৃপক্ষ তাদের দায়ভার না নেয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায়ে পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো—কোর্সের নাম বিএসসি ইন ডেন্টিস্ট করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের জব ডেসক্রিপশন প্রণয়ন করতে হবে, বিএমডিসি কর্তৃক অনুমোদন করে প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে, সব হাসপাতালে পদ সৃষ্টি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, সারা দেশে অভিন্ন নাম ও সিলেবাসে কোর্স পরিচালনা করতে হবে, চার বছরের একাডেমিক এবং এক বছরের ইন্টার্নশিপ চালু করা। এসব দাবি আদায় না হলে আগামী ১৩, ১৫, ও ১৮ নভেম্বর যথাক্রমে চিকিত্সা অনুষদের ডিন, স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ২৪ নভেম্বর প্রতীকী অনশন, ২৯ নভেম্বর সংহতি সমাবেশ এবং ৪ ডিসেম্বর ডিন অফিসের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করার ঘোষণা করেন। এরপরও দাবি আদায় না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করবেন বলে জানান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


