তোমার থেকে হাজার মাইল দূরে শুরু হয় আমার একলা ভোর। ভীষণ একলা হয়ে আমার এই একলা ঘরের জানালা দিয়ে আসে একটু আলো। ঘুমহীন চোখে এই কংক্রিটের চারদেয়ালের শিকল ছিঁড়ে বেড়িয়ে পড়ি, এ ঘরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।
এ শহর আমার ভাল লাগে না। আমি যেতে চাই অনেক দূরে, যেখানে তোমার ঠিকানা। কিন্তু বাঁধ সাধে আমার অক্ষমতা কিংবা তোমার অবহেলা। তারপর আমি হারিয়ে যাই এই অসহ্য সভ্যতার ঠাস বুনোটের ভিড়ে। ব্যস্ত হাইওয়ের কোন এক ব্যস্ত বাইপাস থেকে কুড়োই একমুঠো বিষণ্ণতা। সেই বিষণ্ণতা গায়ে মেখে পথ চলি, চলতে হয়।
ইচ্ছে ছিলো তোমার হাত ধরে বুড়ো হয়ে যাবো। সারাদুপুর ঝুম বৃষ্টি শেষে গোধূলিবেলার নীলচে আকাশ তোমার গালে মেখে, তোমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কিছু সুপ্ত ইচ্ছে ছিলো। তোমার হাতে থাকা কফি মগের উষ্ণতা হতে ইচ্ছা হয়।
আমি জানি তোমার এসব কিছুই ইচ্ছা করেনা, আমাকে একটু হলেও ভাবো এই মিথ্যে আশাও করিনা। আমি জানি এসবের অধিকার অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি।
শুধু জেনে রেখো, গত কদিনে পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে একটা বোকাসোকা চেহারার একজন চুপচাপ তোমার সাথে স্মৃতির রুবিক কিউব মেলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
****
তোমাকে নিয়ে অবসাদে ভুগছি। রাত হলে অবসাদ বাড়ে ব্যাপারটা এমন নয়। ব্যাপারটা হলো তুমিই আমার অবসাদ। আমি এটাকে চুইংগামের মত টেনে দীর্ঘ করছি।
ধরো, রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কানে হেডফোন দিয়ে, পকেটে হাত গুজিয়ে হাঁটার গতি কমিয়ে দিয়ে তোমার অবসাদে ডুবে যাই।
তোমাকে নিয়ে আমার অবসাদ শীতলতার সমানুপাতিক। আমি তাই এসি খুঁজি। এসি মার্কেটে ঢুকে একটা রেড বুল নিয়ে বসে যাই। দু ঘন্টা/তিন ঘন্টা পেরিয়ে যায়, আমি তোমাকেই ভাবি।
আবার ধরো, এসি বাসে উঠে যাই। এখান থেকে ৪/৫ ঘন্টা দূরত্বের একটা যাত্রায় উঠে যাই। জানালার গায়ে মাথা ঠেকিয়ে ছুটে যাওয়া দৃশ্য দেখি, আর তোমাকে আঁকি। যাত্রা শেষ হলে বিরক্তি নিয়ে বাস পরিবর্তন। আবার ফিরতি পথে এভাবে আসি।
তোমার অবসাদে ডুবে যাবার আরও একটি প্রিয় বাহন হলো এল আর টি। এল আর টিতে উঠে সারাদিন কাটিয়ে দেয়া যায় এভাবে।
রাত গভীর হলে ফ্লাইওভারের ফুটপাথে বসি। সোডিয়ামের আলোয় তোমার অবসাদের রঙ ফুটে ওঠে অশরীরী প্রেরণায়।
আমি তোমার অবসাদ ভালোবাসি, ভালোবাসি তোমার ভাবনা। এই অবসাদটুকু যেন শেষ না হয়। আজকাল আমার শুণ্যে ভেসে অবসাদের স্বাদ পেতে ইচ্ছে করে।
****
এখানে গভীর অন্ধকার, পাখির ডানার ভাঁজে। দরজা পেরিয়ে চৌকাঠ, ওখানে কালো বিড়াল। বাদামী চোখ আর রাত পাখি মিলে সৃষ্টি হলো এক অশরীরী।
অশরীরীর মায়ায় হেঁটে যাওয়া হোক পৌরাণিক এই সিঁড়ি ধরে। পোড়া ইটের দেয়ালে লেপ্টে আছে কৌতূহলী দৃষ্টি।
দৃষ্টির দাবীতে দীর্ঘতম বিরহের গান লিখতে চেয়েছি, তোমার ঘাড়ের পেছনে অন্ধকারকে সাক্ষী রেখে। অথচ তুমি চুল বেঁধে নিলে, কোমরে জড়ালে ওড়না। ধীর পায়ে এগোলেই চাঁদ চমকে মেঘের আড়ালে লুকালো।
বাদামী চোখ সতর্ক করে দিলো তোমার ছলনা। আমি থোড়াই ভেবে হাত বাড়িয়ে দিলাম, ঘাড় বাঁকিয়ে দেখি সুউচ্চ ছাদ আবছা হয়ে গেছে, রাত পাখি উড়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



