somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোন কম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য

২৬ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন জামাই, শ্বশুরের সাথে সামান্য কথা তো বলা লাগে, তো কি বলবে কিভাবে বলবে বুঝতে পারছিল না। যেহুতু বলালাগে তাই জামাই শ্বশুরকে বলেছে, আব্বা আপনার কি বিয়া হইছে?
শ্বশুরতো শুনেতো রেগে আগুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এক পর্যায়ে পড়ে থাকে বাঁশের কঞ্চিদিয়ে সপাংসপাং কয়েকটা......!
প্রাসঙ্গিক ও প্রচলিত বেশ কয়েকটা চুটকি মনে আসছে কিন্তু এগুলো বলতে গিয়ে আপনার ধর্যের বাঁধ ভাঙ্গবো না।
মায়ের কাছে যদি কেউ মাসির গল্প করেন তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয় তা আর বলব না, কারণ আপনি ভাল জানেন।
জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে! জি একটু নড়েচড়ে আজকের ২৬/৩/২০১৫ স্বাধীনতা দিবসের প্রথম আলো পত্রিকায় রবির একটা বিজ্ঞাপন দেখবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ২৬ শে মার্চ উপলক্ষে এতো বিনয় এতো আবেগ এতো ভালবাসা এর আগে মনেহয় কাররই চোখে পড়ে নাই।
লিখেছে, 'এই প্রজন্মের পক্ষথেকে মুক্তিযোদ্ধেদের "ধন্যবাদ "।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উত্তর প্রজন্ম কৃতজ্ঞতা জানাবে, ঋনী হয়ে থাকবে।
কিন্তু ভাবি নাই কেউ ধন্যবাদ দিয়ে বসবে। হ্যাঁ ধন্যবাদ একটি কৃতজ্ঞতা সুচক শব্দ কিন্তু ধন্যবাদ দিয়ে কেমন যেন ঋণ শোধ করার করার প্রবনতা বিদ্যমান। কি দিয়ে যে বলি, আমি যা বলতে চাচ্ছি তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছি না, এ আমার ব্যর্থতা।
অনেক সময় বলতে শুনেছি, ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। তার অর্থ কৃতজ্ঞতা বোঝায়। ঋণ শোধকরা সম্ভব নয় এমন বোঝানো হয়, এটি শিষ্টাচার। তাহলে মোবাইল অপারেটর রবি কোন আক্কেলে মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ দেয়া প্রসঙ্গে ছবি সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন।
এটি কি শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্ম নয়? ২৬ মার্চ আসছে তো কিছু বলা উচিত! তাই বলে, যা তা বলে দেবে? সামান্য কৃতজ্ঞতা বোধটুকুও দেখাবে না!
ওরা মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কে কতটুকু জানে, কতজন এই প্রজন্মের বলদ ওদের সাথে আছে? যারা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ এর মধ্যে পার্থক্য বোঝে না। ঢালাওভাবে বলে "এই প্রজন্মের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ"।
আমি এই প্রজন্মের অংশীদার, আমি  মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার ধন্যবাদ ওরা দেয় কোন সাহসে? আমি তো এতোবড় অকৃতজ্ঞ নই। তাই আমার ধন্যবাদ ফিরিয়ে নিলাম।
অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা কোন সিম কম্পানির হাতে তুলে দেই নাই।
"রবি"কে বলি অনুগ্রহ করে মায়ের কাছে মাসির গল্প করবেন না। পত্রিকায় যেমন ইচ্ছা তেমন ইভেন্ট প্রকাশ করবেন না। কারণ আমরা পত্রিকা পড়ি। ভদ্রভাবে বলি শিষ্টাচার  বজায় রাখুন।

জি পি! বুঝি না, কিভাবে গ্রামীনফোনের বিজ্ঞাপনে বাপ মা আর ছাওয়াল মিলে ঘরের ছাদ ভেঙ্গেফেলে দিয়ে নাচানাচি করে!
এভাবে 3G তো ঋণাত্মক অর্থ উপস্থাপিত হচ্ছে! সমসাময়িক সময়ে আরেকটা বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছিল সেটিও 3G কে নেতিবাচক অর্থে দেখিয়েছিল। দেখে মনেহচ্ছিল 3G  ছেলেমেয়েদের নষ্ট করে দেবে!
আরেকটা ভীষণ বাজে বিজ্ঞাপন দেখাত, বাঁশে তেল দেয়া.... কত বড় ফাজিল। বিরক্ত হয়ে চ্যানেল পরিবর্তন করিয়েই ছাড়ত!

কোন ফোন কম্পানি যেন ঘ্যচাং অফার চালু করল। কতবড় বেয়াদব! ঘ্যচাং করে প্যান্ট কেটেফেলে! যার প্যান্ট সে কি করবে তার ব্যপার! এই বদমাইশি করে প্যান্ট ধরে কেটে দেয়ার দরকার কি!

অফার সম্পর্কে দুচারটা কথা না বললেই নয়। একটা হিসাব করুন, গত একবছররে দেশে কতটা ফোন কম্পানি ছিল? তাদের কতটা অফার চালু ছিল? যাবতিয় অফারে কত শর্তছিল? সেগুলো বুঝতে ও অন্যদের বোঝাতে কত মূল্যবান সময় লেগেছে?
দেশের আপাময় জনগোষ্ঠী যদি অফার বুঝে ফেলেন! যার অর্থ আর ধোকা খাবার চাঞ্চ নাই! তো অফার চেঞ্জ!
অফিস আদালতে কিংবা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীর চরম ব্যস্ততার পরে সামান্য সময় পান, সেটুকু আনন্দ বা জ্ঞানগর্ভ ও মুক্ত আলোচনা করার কথাছিল কিন্তু এই অফারের জ্বালায় তারা বলাবলি করেন, আচ্ছা সোসাল প্যাকেজ থেকে আনসোসাল হতে কত নাম্বারে এস এম এস করতে হয় জানিস নাকি?......ইত্যাদি।
ধরাযাক মোবাইলের অফার বুঝতে সপ্তাহে দশমিনিট নষ্ট হয় তবে সামগ্র জনগোষ্ঠীর কত সময় নষ্ট হয়ে গেছে? এই বছর তো ইন্টানেটের প্যাকেজ এককে সিম কম্পানির সাত থেকে আটটা। অনুগ্রহ করে খেয়াল করবেন।
একটা ফোনকম্পানি যেন একটা অফার এক বছরের কমে চেঞ্জ করতে না পারে সেজন্য আমি সরকারের কাছে দাবীকরছি। মোবাইল সিমের অফার সংক্রান্ত নীতিমালা করেন। নয়তো এই প্রজন্মের মস্তিষ্কে ঘিলুর বদলে পয়সার ঝনঝনানি শুরুহবে। এই প্রজন্ম মোবাইল ফোন কম্পানির দখলে যায় কি করে? এই প্রজন্ম মোবাইলের পয়সা নিয়ে ভাববে নাকি সৃষ্টিশীল কিছু নিয়ে ভাববে তা সরকার ও অভিভাবকদের আগেই ভেবে রাখতে হবে। নয়তো সব নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।


৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×