somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিদ্রহীসূত
পাঠকের মুগ্ধতাই আমার লেখার প্রেরণা, সত্য প্রচার আমার লেখার উদ্দেশ্য আর মিথ্যাকে বিনাশ করে দিকেদিগন্তে সত্যের আলোকচ্ছটার বিচ্ছুরণই আমার লেখার চূড়ান্ত লক্ষ্য।

ভ্রান্ত জঙ্গি আদর্শের বিপরীতে সঠিক ও শক্তিশালী আদর্শ প্রয়োজন

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি একজন মুসলমান, হৃদয়ের মধ্যে দৃঢ়ভাবে লালন করছেন ধর্মের প্রতি বিশ্বাস। আপনাকে মারলে, নির্যাতন করলে, কপালে অস্ত্র ধরে মৃত্যুর ভয় দেখালে আপনি কি আপনার ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করবেন? আপনার সামনে বহু মুসলিমকে যদি এভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয় তবে কি আপনি ভয়ে ভীত হয়ে ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করবেন? বেশিরভাগ মানুষই তা করবে না। একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে সে ধর্ম ত্যাগে বাধ্য হলেও নতুন ধর্মের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ও বিশ্বাস কোনোটাই থাকবে না বরং বিশ্বাসগতভাবে সে পূর্বের ধর্ম ইসলামের প্রতিই আকৃষ্ট থাকবে। কিন্তু আপনারই কোনো পূর্বপুরুষ অন্য একটি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাকে নির্যাতন করতে হয়নি, ভয় দেখাতে হয়নি বরং ইসলামের সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাকে বোঝানো হয়েছিল তার অনুসৃত ধর্ম তথা আদর্শটি সঠিক নয়, তার ধর্ম বা আদর্শ তাকে মুক্তি দিতে পারবে না অপর পক্ষে ইসলাম হলো সঠিক ধর্ম বা আদর্শ, এতেই রয়েছে মুক্তি। তিনি ইসলামকে উত্তম আদর্শ হিসাবে শ্রদ্ধাভরে আলিঙ্গন করেছিলেন। এভাবেই যুগে যুগে মানুষ তাদের আদর্শ পরিবর্তন করেছে স্বেচ্ছায়, কেবল নতুন সেই আদর্শের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আদর্শ নির্মূলের পন্থা কথানোই পূর্ণরূপে সফল হয়নি, হওয়া সম্ভব নয়। জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও গোঁড়াপন্থীরা ইসলামের বিধি-বিধানকে জোর করে মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে চায়- এটা মোটেও সঠিক পন্থা নয়। কিন্তু একইভাবে যারা এই আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে তাদেরকেও শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগ করে ফেরানোর চেষ্টা একটি ভুল পদ্ধতি।

জঙ্গিবাদ একটি ভ্রান্ত, বিকৃত আদর্শ। শক্তি প্রয়োগ করে এই আদর্শকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। একজন মুসলমান, একজন হিন্দু (সনাতন ধর্মী), একজন খ্রিষ্টান, একজন বৌদ্ধ বা একজন ইহুদিকে শক্তি প্রয়োগ করে, নির্যাতন করে ধর্ম ত্যাগ করানো যতটা কঠিন ঠিক একজন জঙ্গিকেও তার আদর্শ থেকে ফেরানো ততটাই কঠিন। তাদেরকে এই রাস্তা থেকে ফেরাতে হলে প্রয়োজন তাদের আদর্শ যে ভুল, তারা যে ঐ পথে মুক্তি পাবে না, জান্নাতের বদলে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সেটা বুঝিয়ে দেওয়া একই সাথে তখন প্রশ্ন আসবে তাহলে কোন পথে মুক্তি? তখন মুক্তির সঠিক রাস্তাটাও তাকে দেখাতে হবে। এটা না করা গেলে তাদেরকে ফেরানো যাবে না।

এখন পুলিশ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যতই সফলতার জয়োগান গাক, সরকার যতই বলুক- “জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আমরা সফল”, চিন্তাশীল মহলে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে আদতে তারা জঙ্গিবাদের রাস্তায় কতটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পেরেছে! এর চেয়ে অনেক বেশি সফলতা যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিধর দেশগুলোর ঝুলিতে আছে কিন্তু তাতে কি বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকানো গেছে? মোটেও না, বরং দিনকে দিন তা বেড়েই চলেছে, বেড়ে চলেছে দ্রুত গতিতে। শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জঙ্গি হামলা সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা যাবে কিন্তু জঙ্গিবাদকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। তাছাড়া যারা জঙ্গিবাদের সাথে যুক্ত হয়েছে, জঙ্গিহামলা চালাচ্ছে বা চালানোর পরিকল্পনা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় নেওয়া সম্ভব কিন্তু যারা ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদের পথে পা বাড়াবে তাদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? এখানেই আমার কথা- শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি অবশ্যই আদর্শিক লড়াই লাগবে।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ, চিন্তাশীল, নিরাপত্তা বিশ্লেষক সকলেই এখন একমত যে জঙ্গিবাদ নির্মূলে আদর্শ লাগবে। এই আদর্শিক লড়াইয়ে ভাড়া করা হচ্ছে তথাকথিত মাদ্রাসা শিক্ষিত ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের। যারা হাদিয়ার বিনিময়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়ে, নানা ওয়াজ করে জঙ্গিবাদের ভ্রান্ততা প্রমাণের চেষ্টা করছে কিন্তু তাদের মুক্তির পথ কি দেখাতে পারছে? জঙ্গিবাদ নামক ভ্রান্ত আদর্শ ত্যাগ করে তারা কোন পথে গেলে সত্যিকার মুক্তি পাবে সেটা কি তারা বাতলে দিতে পারছে? তারা নিজেদের মধ্যেই এই পথ নিয়ে নানা বিতর্কে লিপ্ত। তা ছাড়া ঐ জঙ্গিরা এ সমস্ত তথাকথিত আলেমদের পথ বহুদিন ধরে দেখে দেখে বীতশ্রদ্ধ হয়েই তো জঙ্গিতে পরিণত হয়েছে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই করতে হলে অবশ্যই শক্তিশালী আদর্শ লাগবে, কারণ জঙ্গিবাদ ভ্রান্ত ও বিকৃত আদর্শ হলেও তা শক্তিশালী। কোনো একটি আদর্শ কতটা শক্তিশালী তা বোঝা যায় সেই আদর্শের অনুসারীদের ত্যাগ, কোরবানি দেখে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেই আদর্শকে যদি মানুষ আকড়ে ধরে থাকে তবে বুঝতে হবে আদর্শটির শক্তি আছে। আর যে আদর্শে ত্যাগ নেই, কেবল ভোগ আছে বুঝতে হবে তার কোনো শক্তিও নেই। জঙ্গিবাদের আদর্শ ধারণ করে মানুষ তার সর্বস্ব উৎসর্গ করতে পারে, জীবন দিতে পারে, জীবন নিতে পারে- বুঝতে হবে তার একটি সাংঘাতিক শক্তি আছে অপরপক্ষে ধর্মব্যবসায়ীদের নিকট যে আদর্শটি আছে তা মোটেও ত্যাগ করতে শেখায় না, কেবল ধর্মের কাজ করে বিনিময় নিতে শেখায়। কাজেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এই মোল্লাদের ওয়াজ কখনোই জঙ্গিবাদের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

জঙ্গিবাদ ভাইরাসের মতো সংক্রমিত হচ্ছে মানুষের মাঝে। এখন প্রতিশেধক টিকার ব্যবস্থা না করা গেলে কোটি কোটি মানুষ সংক্রমণের আশংকায় থাকবে। তাহলে এখন সেই সঠিক আদর্শ কোথায় পাওয়া যাবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৩৪
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×