somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোটাধিকার প্রয়োগের ন্যূনতম বয়স?

২৩ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। সম্প্রতি, একটি নতুন রাজনৈতিক দল ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়ার দাবি তুলেছে এবং প্রার্থিতার ন্যূনতম বয়স ২৩ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে এর সুবিধা ও অসুবিধা কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা যাক ……
১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়ার সম্ভাব্য অসুবিধা
✓ অভিজ্ঞতার অভাব: ১৬ বছর বয়স সাধারণত আবেগপ্রবণ সময়। এই বয়সের তরুণরা রাজনৈতিক কৌশল, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য বোঝার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞ নাও হতে পারে, ফলে সহজেই প্রভাবিত হতে পারে।
✓ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রোপাগান্ডা: রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাদের ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে পারে।
✓ রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি: তরুণ ভোটারদের টার্গেট করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ক্যাডার তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারে, যা রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়াতে পারে।
✓ পরিণত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা: আবেগের বশে তরুণ ভোটাররা এমন নেতাকে বেছে নিতে পারে, যিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারেন।
✓ পারিবারিক ও সামাজিক চাপ: অনেকে পরিবার বা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে ভোট দিতে পারে।
✓ সামাজিক বিভাজন: তরুণরা অনেক সময় জাতিগত বা ধর্মীয় বিভেদ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা না করেই মত প্রকাশ করতে পারে, যা সামাজিক বিভক্তি বাড়াতে পারে।
১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়ার সম্ভাব্য সুবিধা
✔ রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: তরুণরা দেশ নিয়ে ভাবতে শিখবে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। তারা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
✔ নেতৃত্ব বিকাশ: তরুণরা রাজনীতিতে আগ্রহী হলে ভবিষ্যতে তারা নেতৃত্ব দিতে পারবে এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
✔ প্রযুক্তি ও অর্থনীতিনির্ভর উন্নয়ন: তরুণরা প্রযুক্তি-নির্ভর নেতৃত্ব চাইবে, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক হতে পারে।
✔ সামাজিক পরিবর্তন: তরুণরা নতুন নতুন কৌশল ও পরিবর্তনের চিন্তা করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।
✔ দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ: ভোটাধিকার পেলে তরুণরা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শিখবে।
অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা
বেশিরভাগ দেশে ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হলেও, কিছু দেশ ১৬ বছরে নামিয়ে এনেছে। যেমন:
✦ অস্ট্রিয়া – ২০০৬ সালে ভোটের বয়স কমিয়ে ১৬ করা হয়।
✦ ব্রাজিল – ১৯৮৮ সালের সংবিধানে ১৬ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়।
✦ আর্জেন্টিনা – ২০১২ সালে ১৬ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়।
✦ ইকুয়েডর, কিউবা, নিকারাগুয়া – এসব দেশেও ১৬ বছরেই ভোট দেওয়া যায়।
✦ মাল্টা – ২০১৮ সালে সংসদীয় নির্বাচনে ১৬ বছর বয়সীদের ভোটের অনুমতি দেওয়া হয়।
কেন ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে?
✔ তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে
✔ সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়াতে
✔ জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে
✔ রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়ার আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:
1. রাজনৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন: স্কুল-কলেজ পর্যায়ে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও দায়িত্বশীল ভোটার হওয়া সম্পর্কে কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
2. প্রচারমাধ্যমের নৈতিকতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
3. তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তরুণদের মতামতকে স্বাগত জানানো, কিন্তু তাদের ব্যবহার না করা।
4. সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: তরুণদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন হলে রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তরুণরা যদি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হয়, তাহলে তারা একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে, বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তরুণদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। সঠিক শিক্ষা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই, সরাসরি ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়া না হলেও, তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আপনার মতামত কী?
আপনি কী মনে করেন—বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৬ বছর বয়সের তরুণরা দায়িত্বশীল ভোটার হতে পারবে? নাকি ১৮ বছর বয়সই যথাযথ?

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ২:৩৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলাধুলা কি পেটে ভাত দেয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫২


যখন এই ব্লগটি লিখতে বসেছি, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিশাল কেলেঙ্কারি বেঁধে রয়েছে। এক শ্রেণির ভুয়া জাতীয়তাবাদীদের চক্করে পড়ে আবেগী জনগণ হাততালির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংসের মুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সংসদ নির্বাচন: যেভাবে ভাগ হতে পারে ৩০০ আসন

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮

২০২৬ সংসদ নির্বাচন: যেভাবে ভাগ হতে পারে ৩০০ আসন

ছবি সংগৃহিত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগন ও সিরিয়াস নক্ষত্রমন্ডলী

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


ধূসর সাহারা মরুভূমির পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ নাইজার। নাইজারের দক্ষিণে মালি নামক এক মালভূমিতে বাস করে ডোগন (Dogon) নামক এক জাতিগোষ্ঠী। বহুকাল আগে থেকেই স্থাপত্য আর ভাস্কর্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র কোরআনুল কারীম এর তেলাওয়াত ১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


অশান্ত মনে প্রশান্তি আনতে পবিত্র কোরআনুল কারীম এর তেলাওয়াত শুনুন অথবা পড়ুন। যখন আপনার মন অশান্ত থাকবে তখন তেলাওয়াত শুনন; অবশ্যই ভালো লাগবে। মন শান্ত হবে। মনে এক ঐশরীক... ...বাকিটুকু পড়ুন

টবি ক্যাডম্যানের প্রস্থান: ট্রাইব্যুনাল না কি ট্র্যাজেডি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৮

টবি ক্যাডম্যানের প্রস্থান: ট্রাইব্যুনাল না কি ট্র্যাজেডি?

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায়-তবে কোনো ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নয়, বরং একজন আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞের নীরব প্রস্থান ঘিরে। ব্রিটিশ ব্যারিস্টার টবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×