২০ জুলাই ১৯৭৬ সাল
কর্নেল তাহেরকে জানানো হয়, ২১ জুলাই সকালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হবে। তিনি সে সংবাদ গ্রহণ করেন এবং সংবাদবাহকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তারপর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি তাঁর ডিনার শেষ করেন। পরে একজন মৌলভিকে আনা হয়। মৌলভি তাঁকে তাঁর পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। তাহের বলেন, ...'তোমাদের সমাজের পাপাচার আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আমি কখনো কোনো পাপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমি নিষ্পাপ। তুমি এখন যেতে পারো, আমি ঘুমাব।'
তিনি একেবারে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে গেলেন। রাত ৩টার দিকে তাঁকে জাগানো হলো। সময় জেনে নিয়ে তিনি দাঁত মাজলেন। তারপর শেভ করে গোসল করলেন। উপস্থিত সবাই তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এলে তিনি বললেন, 'আমি আমার পবিত্র শরীরে তোমাদের হাত লাগাতে চাই না।' তিনি নিজেই তাঁর কৃত্রিম পা খানি লাগিয়ে প্যান্ট-জুতা পরে নিলেন। চমৎকার একটা শার্ট পরলেন। ঘড়িটি হাতে দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ে নিলেন। তারপর উপস্থিত সবার সামনে আম খেলেন, চা পান করলেন এবং সিগারেট টানলেন।
সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, 'হাসো। তোমরা এমন মনমরা হয়ে পড়েছো কেন? মৃত্যুর চেহারায় আমি হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। মৃত্যু আমাকে পরাভূত করতে পারে না।' তাঁর কোনো ইচ্ছা আছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'আমার মৃত্যুর বদলে আমি সাধারণ মানুষের শান্তি কামনা করছি।' এরপর তিনি সেখানে উপস্থিত সবাইকে নিজের একটি কবিতা পাঠ করে শোনান, 'জন্মেছি, সারা দেশটাকে কাঁপিয়ে তুলতে, কাঁপিয়ে দিলাম। জন্মেছি, তোদের শোষণের হাত দুটো ভাঙব বলে, ভেঙে দিলাম। জন্মেছি, মৃত্যুকে পরাজিত করব বলে, করেই গেলাম। জন্ম আর মৃত্যুর দুটি বিশাল পাথর রেখে গেলাম। পাথরের নিচে শোষক আর শাসকের কবর দিলাম।'
এরপর তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে উঠে নিজেই দড়িটা গলায় পরে নেন এবং বলেন, 'বিদায় দেশবাসী। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।'
আজ এত বছর পর ফের কর্নেল তাহেরের সেই কোর্ট মার্শালের নথি তলব করা হয়েছে , সত্যের জয় শেষ পর্যন্ত হবেই ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


