somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানার বাকি অনেক কিছু!! বই পড়লে নাকি মস্তিস্কের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়!!

০২ রা এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগে জানতাম বেশি বেশি বই পড়লে নাকি মানুষ পাগল হয়ে যায় কিন্তু এখন এ কি শুনলাম। বই পড়লে নাকি মস্তিস্কের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়!!


অনেক মানুষই দাবি করেছে যে তাদের জীবন পরিবর্তন হয়েছে একটা বিশেষ বই পড়ে।কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছে যে একটা উপন্যাস উপভোগ করে পড়লে মস্তিষ্কেরও বাস্তব, পরিমেয় পরিবর্তন তৈরি করতে পারে। আমেরিকান গবেষকরা গল্প পড়ার সাথে মস্তিস্কের নেটওয়ার্ক এর সংযুক্তিটা সনাক্ত করতে FMRI স্ক্যানার ব্যবহার করেছেন এবং কিছুদিন একটা দুর্দান্ত গল্পের বই পড়ার পর মস্তিস্কের কিছু পরিবর্তন খুঁজে পেয়েছেন।কিভাবে গল্পগুলো মানুষের মস্তিস্কের ভিতর প্রবেশ করে তার রহস্যের জট খুলতে তারা যাত্রা শুরু করেছে এবং সাহিত্যের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবটা খুঁজেছে। যুক্তরাষ্টের এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলেছেন উপন্যাস পড়লে মস্তিস্কের বিশ্রাম অংশের পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে যা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।‘ গল্পের গঠন আমাদের জীবন এবং কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে গড়ে উঠে’ বলেছেন প্রধান লেখক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোপলেছি সেন্টারের পরিচালক জনাব গ্রেগরি বারন্স।তিনি আরও বলেছেন ‘আমরা বুজতে চাই কিভাবে গল্পগুলো তোমার মস্তিস্কে প্রবেশ করে এবং তারা ঐখানে কি করে’।
গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে ‘ব্রেইন কানেক্টিভিটি’ নামক একটা সাময়িকীতে, আর কিভাবে মস্তিস্কের নেটওয়ার্ক জড়িত থাকে গল্প পড়ার সময় তা দেখার জন্য বিজ্ঞানিরা FMRI স্ক্যানার ব্যবহার করেছেন।মোট ১২ জন ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে এই পরীক্ষাটা করা হয় যা একনাগাড়ে ১৯ দিনেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত হয়েছিল এবং তাদের পড়তে দেয়া হয়েছিল একই উপন্যাস যার নাম ‘পম্পেই’ যা রবার্ট হেরিসের একটা রোমাঞ্চকর উপন্যাস যা প্রাচীন ইতালির মাউন্ট ভেসুভিয়াস এর অগ্ন্যুত্পাতের ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা।এই উপন্যাসটা মনোনীত করা হয়েছে এর টানটান উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনীর জন্য যা পম্পেই নগরীর বাইরের নায়ক বা প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে যিনি অগ্ন্যুত্পাতের লক্ষণ দেখে ঐ শহরে অনেক কষ্ট করে ফিরে যান তার ভালবাসার মানুষটিকে বাঁচানোর জন্য।অধ্যাপক বারন্স বলেন ‘এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে এই বইটাতে একটা বলিষ্ঠ কাহিনী ছিল’।যখন পূর্বের বেশিরভাগ গবেষণাগুলো ফোকাস করেছিল জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াকে যখন মানুষ FMRI স্ক্যানারের ভিতর গল্প পড়তেছে আর এই গবেষণাটা প্রাথমিকভাবে সম্পর্কযুক্ত ছিল বই পড়ার পর তার প্রভাবের সাথে।
পরীক্ষাটায় ছাত্রছাত্রীদের মস্তিস্কের বিশ্রাম অংশকে প্রথম পাঁচ দিন প্রতি সকালে স্ক্যান করা হয়েছিল।
তারপর তাদেরকে বইটার ৯টা অধ্যায় ৯ দিনের জন্য দেয়া হল এবং বলা হল প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রতি অধ্যায়ের ৩০ পাতা করে পড়ার জন্য।
তারপর তারা পরদিন সকালে ল্যাবে আসলো এবং তাদের মস্তিস্কের অপঠিত অংশকে স্ক্যান করা হল FMRI স্ক্যানার দ্বারা এবং পরে একটা প্রশ্ন উত্তর পর্ব করা হল নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে তারা ঐ অধ্যায়টা পড়েছে কিনা।
উপন্যাসটির ৯ টি অধ্যায় শেষ করার পর অংশগ্রহণকারীদের ৫ দিন সকালে তাদের মস্তিস্কের বিশ্রাম অংশকে স্ক্যান করা হয়েছিল।
এই পরিক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়া গিয়াছিল এবং ফলাফলে দেখা যায় মস্তিস্কের বাম টেম্পোরাল কর্টেক্স যা মস্তিস্কের ভাষাগত দক্ষতা নিয়ন্ত্রণ করে তার সাথে স্নায়ুর যোগাযোগের ব্যাপক মাত্রায় উন্নতি সাধন হয়।
‘ যদিও অংশগ্রহণকারীরা প্রকৃতপক্ষে স্ক্যানারের ভিতর থাকা কালীন সময়ে পড়তেছিল না তবুও তারা এই উন্নত যোগাযোগটা ধরে রেখেছিল’ বলেছেন অধ্যাপক বারন্স।
তিনি আরও যোগ করেন ‘ আমরা এটাকে ‘ছায়া কার্যকলাপ’ বলতে পারি যা প্রায় পেশী সৃতির মতো’।
উন্নত যোগাযোগটা আরও দেখা যায় মস্তিস্কের সেন্ট্রাল সাল্কাসে যা মস্তিস্কের প্রাইমারী সেন্সরি মোটর অঞ্চল নামে পরিচিত।
এই অঞ্চলের স্নায়ু গুলো সংযুক্ত হয়ে শরীরে সংবেদন তৈরি করে সুতরাং শুধুমাত্র চলমান সম্পর্কে চিন্তা করে উদাহরনস্বরূপ চলমান শারীরিক কাজকে সক্রিয় করতে পারা যায় স্নায়ু সংযুক্তির মাধ্যমে।
‘স্নায়ুর যে পরিবর্তন আমরা খুঁজে পায়েছি তা শারীরিক সংবেদন এবং চলাফেরার পদ্ধতির সাথে সংযুক্ত যা থেকে ধারনা করা যায় যে উপন্যাস পড়ার সময় তোমাকে প্রধান চরিত্র বা নায়কের শরীরের ভিতর পরিবহন করাইতে পারে’, বলেছেন অধ্যাপক বারন্স।
আমরা ইতিমধ্যে জানি যে ভাল গল্প প্রতীকী অর্থে তোমাকে কারো জুতর ভিতরও রাখতে পারে।আমরা এখন দেখতেছি যে কিছু ঘটনা জীববিজ্ঞানিকভাবে ঘতে।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে এই স্নায়ুবিক পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হয় না এটা উপন্যাস পড়ার পর ৫ দিনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
অধ্যাপক বারন্স বলেন,’ এই স্নায়ুবিক পরিবর্তন কতদিন থাকে তার উত্তর অনিশ্চিত’।
কিন্তু প্রকৃত ঘটনা এই যে আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি কিছু দিন একটা প্রিয় উপন্যাস পড়লে তা অবশ্যই তোমার মস্তিস্কে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী জৈব প্রভাব ফেলবে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×