somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি (অ)গু রু ত র ব্যপার ও একটি দুঃসহ স্বপনের যন্ত্রনা !

১১ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটি নিতান্তই সাদামাটা গল্প বলি ।
ঘটনাটি এমন গুরুতর নয় । আমার এক বন্ধুবর , বড়ই দুশ্চিন্তাপ্রবন । নির্বাচনের আগে নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অন্ত হইতে পারে,কিন্তু তার দুশ্চিন্তার কোন অন্ত নাই । কিছুদিন আগের কথা । ঘুরতে যাব এক জায়গায় তাকে নিয়ে । মনে বড়ই আনন্দ নিয়ে কমলাপুর গিয়ে হাজির । আজ্ঞে না, আপনি যেই কমলাপুর রেলস্টেশনের কথা ভাবছেন সেইখানে না । আমার বন্ধুটির একটু সমস্যা আছে । বাসের ভেতর একটু পর পর কমলালেবুর গন্ধ না শুঁকলে তার বমি পায় । যদি শুধু শুঁকলেই কাজ হত,তাহলেও কথা ছিল । কমলা শুঁকার সাথে সাথে সেটি খেয়ে না ফেললে নাকি ব্যপারটা কেমন লাগে । তাই কোথাও বেড়াতে গেলেই আমরা প্রতিবার ওই জায়গাটি থেকে বিপুল পরিমাণ কমলা কিনি ।আমরাই জায়গাটার নামকরণ করেছি কমলাপুর । যাই হোক,নির্দিষ্ট সময়ে নৈশ বাস ছাড়ল(আসলে,ওই বাসের কাউন্টার থেকে এক কাপ করে চা খাওয়ানো হয়েছিল, তাই আর আসল কথাটি বললাম না যে,আমাদের বাস পুরো দুই ঘন্টা দেরিতে ছাড়ছে !) । গাড়ির চাকা ঘুরতে শুরু করার সাথে সাথেই আমার বন্ধুটির দুশ্চিন্তার যেন রীতিমত রেস শুরু হল ।বাসের ড্রাইভারের হাব-ভাব, চালানোর ভঙ্গি, চালানোর গতি,পেছনের সিটে বসা যাত্রী-কোনো বিষয় নিয়েই তার দুশ্চিন্তার দূর হচ্ছেনা । বাস যতবারই দ্রুতগতিতে বাঁক নেয়, সে আঁতকে উঠে এই ভেবে যে বাস বুঝি খাদে পড়ছে । যতবারই বাস ঝাঁকি খায়, সে ঝিমুতে ঝিমুতে ‘লা ইলাহা......’ বলে চেঁচিয়ে ওঠে । আমি তার আচরনে অভ্যস্ত, তাই কানে হেডফোন গুঁজে দিলাম । ঝিমুনি-টিমুনি নয়, এইবার লক্ষ সরাসরি ঘুম । আমি যে একান্তই নির্ভার মানুষ, তা কিন্তু নয়(প্রায় ৮০ কেজি ওজনের বিশাল বপুর গর্বিত অধিকারী) । তবুও, আমার দুশ্চিন্তার কোন প্রভাব দেশের কর্মকাণ্ডে পড়বেনা নিশ্চিত হয়ে নির্ভার হওয়ার ভান করি আর কি ! সেই যাত্রায় তেমন কিছু হয়নাই । কোন এক জায়গায় আমাদের বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসতে থাকা একটি ট্রাকের চাকা রাস্তার মাঝে সৃষ্ট একটি গর্তে একই সাথে পড়ে ও সংঘর্ষ বাঁধে । ট্রাকের সামনের দিকের লোহা ভেদ করে যায় আমার বন্ধুটির হাঁটু । ছোট্ট একটা সড়ক দুর্ঘটনায়(পরবর্তী দিন একটি জাতীয় দৈনিকের ছোট কলামে সেটিকে ছোট্ট দুর্ঘটনাই বলা হয়েছিল) আমি হারালাম আমার দাঁত আর আমার বন্ধুটি হারাল তার পা । কিন্তু বাদ দিন তো, এই দেশে এর চাইতে ঢের বেশি জরুরী ঘটনা ঘটে। তাই আমরা ধরে নিতেই পারি খারাপ রাস্তা অথবা এই খারাপ রাস্তার কারনে দৃপ্তময় জীবনগুলোর পঙ্গুত্ববরণ- কোনোটাই তেমন গুরুতর কিছুই নয় । শুধু সীমাহীন দুশ্চিন্তা যে সেই অর্থে ফলপ্রসূ কোনো সমাধান নয়,প্রমানিত হইল ।
একটি (দুঃ)স্বপ্ন দেখছিলাম ( দেখুন ,লেখকদের আবাস ভাবের জগতে। গল্প শেষের দাবিতে লেখকরা চাহিদামত লেখায় বিরতি দিয়ে দু-একটা স্বপ্ন দেখে নিতেই পারেন ।দ্যাটস নট অ্যা বিগ ডিল ) । স্বপ্নটি এরকমঃ আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি । রাস্তাটা বেশ ফাঁকা । কিছুক্ষন আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি মীটিঙে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ওই রাস্তা দিয়ে গেছেন । হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখে পড়ল একদম ছোট পার্স সাইজের ব্যাগ । কি মনে করে উঠিয়ে নিলাম । কিছুক্ষন তাকিয়ে ভাবলাম, না খুলে তো আর এর মালিকের খোঁজ করা যাবেনা । খুলে দেখি ভেতরে “ছুপার কনফিডেনশিয়াল” লেখা একটি ডিভিডি । আমিও তো মানুষ বই আর কিছু নয়, তাই বোধহয় ‘কনফিডেনশিয়াল’ লেখাটি দেখে ডিভিডি-টি একবার চালিয়ে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না । মানবিক তাড়নার প্রবল চাপে , বাসায় এনে চালানোর শুরুতেই তো আমি এক্কেবারে “হতবাকম্ভিত”(হতবাক,বাকরুদ্ধ ও স্তম্ভিত’র যৌগিক রুপ আর কি ) ! দেশের মন্ত্রীপরিষদের সকলের আয়-ব্যায়ের যাবতীয় তথ্য আমার হাতে(সাদা-কালো সহ আরও যেন কীসব রঙের টাকা থাকে,সব কিছুর হিসেব সহ)। তারপর অতি দ্রুত একসময় দরজায় কড়াঘাত পড়ল । সরকারের বিশেষ বাহিনী আমাকে গ্রেফতার করে গোপন হেফাজতে নিল । রাষ্ট্রদ্রোহ এবং দেশীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি ও পাচারের অভিযোগ আনা হল আমার বিরুদ্ধে । আমার পেছনের বিদেশী মদদদাতা চক্র এবং বিরোধীদলের ইন্ধন আছে কী না খতিয়ে দেখা শুরু হল । আমার মুক্তির দাবিতে অনেক গুলো ফেসবুক ইভেন্ট, গ্রুপ, পেইজ খোলা হল । মানবাধিকার সংস্থাগুলো যখন সরকারের বিভিন্ন মহলের কাছে আমার ব্যাপারে জবাব চেয়ে চাপাচাপি করতে থাকল, তখন সংশ্লিষ্ট মহল একটি কথা বলেই মাইক্রোফোন অফ করে চলে যেতে লাগল । কথাটি ছিল-“ এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যপার । এ ব্যাপারে এখনি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা ।”
আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল (ভেঙ্গে দিলাম আর কি!)। এই স্বপ্ন আর দেখতে ভাল্লাগছিলনা । তার চাইতে কিছুক্ষন প্রান খুলে হাসুন তো । আমার কথা শুনে কেন অযথা হাসবেন-এটা নিয়ে আবার শুধু শুধু ভাবনা না করে প্রান খুলে হাসতে থাকুন।
আচ্ছা একটা পার্সিয়ান জোকস বলিঃ এক তুর্কিশ ভদ্রলোক গ্রাম পরিদর্শনে গেছেন। আচমকা তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হল । থামার নাম নেই । ভারি বর্ষণ রুপ নিল বন্যায় । সেই তুর্কিশ ভদ্রলোক তার হাঁটু সমান পানি নিয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়ালেন । এক ফায়ারসার্ভিস কর্মী তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়ালেন । কিন্তু তুর্কিশ ভদ্রলোক বললেন, “আমার খোদা আমায় বাঁচাবেন ।” ফায়ারসার্ভিস কর্মী চলে গেলেন । পানি কোমড় সমান হল । পাশ দিয়ে এক মাছ ধরা নৌকা যাচ্ছিল । সেই মাঝি চাইল তাকে সাহায্য করতে । কিন্তু সে তুর্কিশ ভদ্রলোক আবার বললেন, “আমার খোদা আমায় বাঁচাবেন ।” পানি বাড়তেই থাকল । তুর্কিশ ভদ্রলোক বাধ্য হলেন, একটি বাসার ছাদে উঠতে । এগিয়ে এল একটি হেলকপ্টার । কিন্তু তুর্কিশ ভদ্রলোক সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমি তোমাদের ওখানে উঠছিনা, আমার খোদা আমাক বাঁচাবেনই।” কিন্তু, তার নির্বুদ্ধিতার পরিনাম হল বন্ন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যু । মৃত্যুর পর তাকে তার খোদার কাছে নিয়ে যাওয়া হল । সেই তুর্কিশের প্রথম প্রশ্ন, “হে খোদা, তুমি আমায় বাঁচালে না কেন ?” খোদা উত্তরে বললেন, “আমি তিনবার চেষ্টা করেছিলাম,একবার ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পরের বার জেলে ও সব শেষে একটি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ।”
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×