somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কষ্টগুলো এমন কেন ?.......

২৪ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের আকাশটা ঘন মেঘে ঢাকা। বৃষ্টি হবে। কেমন একটা মন খারাপ করা ওয়েদার। ওয়েদার মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে বা আদৌ প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে কি না আমি জানি না। তবে আজকে যে আমার মনটা ভীষণ, ভীষণ খারাপ হয়ে আছে এটা সত্যি। অনেক গুলো মন খারাপ করা ব্যাপার আমার মনের ছোট্র আকাশটা ঢেকে রেখেছে। আমি চেষ্টা করি সব সময় মন ভাল রাখতে। কিন্তু মাঝে মাঝেই কপট ভাল লাগায় কষ্টগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারি না। প্রবাসের এই একাকী জীবনে খারাপ লাগা দিন গুলো কি ভয়াবহ ভাবে কাঁটে, অনেকের পক্ষেই তা বুঝা সম্ভব নয়।

গত রাতে আমাদের কানাজাওয়া বাংলাদেশী কমিউনিটি-র একজন সদস্য, মনি ভাই, জাপান ত্যাগ করেছেন। আগামী সাতাশ তারিখে আরো একজন দেশে ফিরে যাবেন। কারো দেশে যাওয়া দেখলে কেন জানি মনটা খারাপ হয়ে যায়। আজকের মন খারাপ লাগাটা যতটা না ওয়েদার ইনফ্লুয়েনস্ড, তার চেয়ে বেশী মনি ভাইয়ের দেশে ফেরা। যতটা সম্ভব যেষ্টা করি দেশকে, দেশের সুন্দর স্মৃতি, মনের আনাচে কানাচে একটু একটু করে স্থান দখল করে থাকা মানুষ গুলো, গ্রাম, নদী, খোলা প্রান্তর, দখিনা বাতাস, গ্রামের পায়ে চলা মেঠো পথ, সেই পথে হেটে বেড়ানোর সময় পায়ে জড়িয়ে যাওয়া ধুসর মায়ার ধুলো, সব সব ভূলে থাকতে। তারপর ও যখন মাঝে মাঝেই নষ্টালজিয়াতে ভুগী, পারি না। কেন জানি অতীতটা মনের ক্যানভাসে হঠাৎ করেই জীবন্ত হয়ে ওঠে। তারপরও মনকে বলি এইতো আর ক'টা দিন। তারপরই তো আবার সবাইকে কাছে পাব। মাকে জড়িয়ে ধরে আদর নেব। বাবার বকুনি খেতে ও আমার আর খারাপ লাগবে না। রাত দুপুরে বিলের ঠিক মাঝখানটায় ছেট্র ব্রীজে বসে ঝিরিঝিরি বাতাসে মন এলিয়ে দিয়ে মাটির সোঁধা গন্ধ নেব। অন্ধকার রাতে ঘরের পেছনের ছোট্র ঝোপটাতে অসংখ্য জোনাকীর মিটিমিটি আলোর পেছনে ঘুরে ঘুরে অস্থির হব একটা জোনাকী ধরে আদরের নিয়াজ কে দিতে। একদম ভরদুপুরে পুকুর পাড়ের বড় কড়ই গাছটাতে বসে যখন কোন অলস পাখি, ফিঁঙ্গে কিংবা দোয়েল, আপন মনে ডেকে যাবে, আমি সিঁথানের দখিনা জানালা খুলে দিয়ে সেই গান সুনে যাব আধবোঁজা চোখে। কম্পিউটার কিংবা সিডি প্লেয়ারের গানের চেয়ে আমার গ্রামের সেই ছোট্র পাখির গান যে আরো বেশী করে ছুঁয়ে যায় আমার হৃদয়। গাছের সবচাইতে বড় জাম্বুরাটি পেরে ভর্তা বানিয়ে নিয়ে এসে ছোট বোনটি যখন দরজার পাশে দাড়িয়ে ডাকবে, আমি তখন তার আনন্দে চিকচিক করা মুখ খানির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকব। মায়ের হাতে বেড়ে দেয়া এক মুঠো ভাত আর এক চামচ লাউ শাক দিয়ে পেট পুড়ে খেয়ে নেব। এক বারও বড় মাছ কিংবা তাজা গরুর গোস্ত খাওয়ার বায়না ধরব না। খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে গোয়াল থেকে গরু বের করে দুধ দোইয়ে এনে মাকে বলব মাটির চুলোয় হালকা তাপে গরম করে দিতে। তারপর সিলভারের মগে নিয়ে সমস্ত তৃপ্তি মিশিয়ে একটানে শেষ করে ফেলব। এক চামচ চিনি ও চাইব না। বন্ধুদের সাথে অভিমান করে রাত দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে সোজা চলে যাব অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা আমার শান্ত গ্রামে। নির্জন মাঠ, ঘাট, তেপান্তর পেড়িয়ে দুপুর রাতে দরজায় প্রথম বার কড়া নাড়ার শব্দ শুনেই মা বলবে, কে ? আমি ছোট্র করে বলব, মা আমি। মা আমার ঘুম জড়ানো চোখ নিয়ে দরজার কপাট খুলে দেবে। তারপর মায়ের গলা জড়িয়ে লক্ষ্যি সোনা হয়ে ঘুমিয়ে পড়ব। শীত লাগলে মায়ের আচল টেনে শরীর ঢেকে নেব। আর মায়ের কানে কানে বলব, মা আমি আর কখনোই তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবনা। তুমি তোমার ছোট্র আঁচল আগলে রেখ আমাকে। ভরদুপুরে বাংলো ঘরের সামনের ছোট্র আম গাছটার নীচে সবুজ ঘাসে গা এলিয়ে বসে শীতল বাতাসে মন জুড়াবো। বলব, এই ছায়া ছেড়ে আমি আর কোন ছায়ায় যেতে চাই না। মরলে ও যেন এই ছায়ায়-ই ঘুমিয়ে থাকতে পারি অনাদি অনন্ত।

কেউ কি বলতে পারেন, উপরে উঠার এই সিঁড়িটা কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে ? এই মায়ার সিঁড়িটা যে আমাকে আমার কাছের মানুষ, কাছের সব কিছু থেকে দিন দিন দূরে আরো দূরে নিয়ে যাচ্ছে ! আমি আর উপরে উঠতে চাই না।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৯:১৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×