এতদিন বিজ্ঞান জানিয়েছিল, ‘ও’ গ্রূপের রক্তই একমাত্র সব ধরনের ব্লাড গ্রুপের মানুষকে দেয়া যেতে পারে৷ অন্যদিকে ‘এবি’ ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিরা পরিচিত সর্বজনীন গ্রহীতা হিসাবে৷ যদিও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই এনজাইমের প্রভাবে এবার রক্তের অপ্রতুলতার সমস্যা কিছুটা হলেও মিটতে চলেছে বলে দাবি করছেন গবেষকরা৷ প্রয়োজনের সময় অমিল নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্ত৷ ব্লাড ব্যাঙ্কে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না৷ এমনকী, পরিচিত কারো সঙ্গেও রক্তের গ্রুপ মিলছে না৷ রোগীর আত্মীয়দের মাথায় হাত৷ হাসপাতাল, নার্সিং হোমে হামেশাই দেখতে পাওয়া এই দৃশ্য এবার সম্ভবত বদলাতে চলেছে৷ কারণ গবেষকদের দাবি, যুগান্তকারী একটি এনজাইমের প্রভাবে অচিরেই যেকোনো ব্লাড-গ্রুপের অধিকারী মানুষের দান করা রক্তকে সর্বজনীন রূপ দেয়া যেতে পারে৷ ফলে তা যেকোনো ব্লাডগ্রুপের মানুষের শরীরে চালান করাও সম্ভব হতে পারে খুব সহজেই৷ আর এভাবেই বাঁচানো যেতে পারে নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্তের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া অসংখ্য মানুষকে৷ যুগান্তকারী এই উত্সেচকটি আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক।
কিন্তু কীভাবে কাজ করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই এনজাইম? দলটির মুখ্য বৈজ্ঞানিক ডেভিড কোয়ান বলেছেন, “আমরা যে এনজাইম আবিষ্কার করেছি, তা ‘এ’ এবং ‘বি’ ব্লাড গ্রুপের রক্তে উপস্থিত অ্যাণ্টিজেনগুলোর প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে দেয়৷” তার মতে, এই এনজাইমের প্রয়োগে যেকোনো ব্লাড গ্রুপের রক্তকে ‘ও’ গ্রুপের রক্তের সমসাময়িক রূপ দেয়া যেতে পারে৷ ‘ডাইরেক্টেড ইভলিউশান’ নামে নতুন এক ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমেই এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তারা৷ মাত্র পাঁচবারের প্রয়োগেই রক্তের নমুনায় এই উত্সেচকের সক্রিয়তা ১৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে দেখেছেন গবেষকরা৷
যদিও এখনও চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা৷ কারণ, চিকিৎসা জগতে ‘ও’ ব্লাড গ্রুপের স্থান নেয়ার আগে শুধু ‘এ’ বা ‘বি’ ব্লাড গ্রুপের অ্যাণ্টিজেন নয়, সব ধরনের অ্যাণ্টিজেন দূর করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে এনজাইমটিকে৷ ততদিন গবেষণা চলবে৷
বিডোনেটর.কম হচ্ছে রক্তদান এবং গ্রহনের জন্য একটি উন্মুক্ত মাধ্যম।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




