somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সজিব ওয়াজেদ জয়--বাংলাদেশের এক ডালিম কুমার (প্রথম পর্ব)

১৯ শে অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
১. আইটি বিশেষজ্ঞ জয়..

ছবিটি ভালভাবে লক্ষ করুন।



ছবিতে সজিব ওয়াজেদ জয়ের Linkedin প্রফাইলের আংশিক অংশ দেওয়া আছে। ( click this link ) প্রফাইল থেকে তার উল্লেখযোগ্য বিবরন পাওয়া যাচ্ছে। উনি নিজেকে আইটি বিষয়ে বিশেষভাবে জানা মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা। এখন দেখা যাক আইটিতে উনার অবদান বা অর্জন কতটুকু।
• উনি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিষয়ে পড়েছেন এগুলো তেমন স্বনামধন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় না। তারপরেও তার প্রফেশনাল প্রোফাইলে আছে কম্পিউটার ল্যাব ম্যানেজার। এরকম যোগ্যতা সম্পন্ন কয়েক ডজন ছেলে বাংলাদেশেও আজকাল পথে ঘাটেই পাওয়া যায়। আরেকটি পদবির কথা লেখা আছে কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার।
• তিনি বাকি যেদুটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলেছেন তার মধ্যে দ্বিতীয়টি খুজে পেলাম না। প্রথম প্রতিষ্ঠানটির ও কোন ওয়েবসাইট নেই। তবে বর্তমানে ওয়াজেদ কনসাল্টিং ইন্ক নামের আকেটি প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পদবি দেয়া আছে। এই প্রতিষ্ঠানেরও কোন ওয়েবসাইট নেই। বিজনেস কনসাল্টিং ফার্ম অথচ তাদের কাজেরও কোন সুনির্দিষ্ট বিবরন নেই।

একটি পত্রিকার খবর.. “বিশিষ্ট আইসিটি বিজ্ঞানী প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের তথ্য প্রযুক্তি কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে এসব বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ-টুআই কর্মসূচি, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ল্যাপটপসহ ভিওআইপি উন্মুক্তকরণ, তথ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হাই-টেক পার্কসহ আইসিটি উন্নয়নের পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ টেলিফোন শিল্প সংস্থার উদ্যোগে যেসব ল্যাপটপ তৈরি হবে এর স্যাম্পলসহ সজিব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করেছেন। গত ১৪ ডিসেম্বর জয় তথ্য,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানকে নিয়ে শেরোবাংলাস্থ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অফিস পরিদর্শন করেন। তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আইসিটি খাতের উন্নয়ন বিষয়ে কথা বলেন।“ (Click This Link )

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি পলিসি নিয়ে কোন প্রোটোকলে উনি পরামর্শ দেন? উত্তর উনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ডিগ্রি যদি উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্যতা হয় আমার মনে হয় এমন একাধিক বা অনেকে আছেন যারা এই খাতে প্রবাসে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন - তারা তো এই সুযোগ পাচ্ছেন না। আর যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হওয়ার কারনে তিনি পরামর্শক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন তাহলে বলব এখানে সরকারের ক্রেডিবিলিটি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছেলে যে বিজ্ঞানী - তা তো জানা ছিলো না! আবারও প্রশ্ন,
• কিন্তু জয় কীভাবে বিজ্ঞানী?
• খ্যাতনামা কোনো জার্নালে উনি লিখেন না-কি?
• মৌলিক কোন বিষয়ে কোনো লেখা বা প্রকাশনা আছে কি জয়ের?
• উনি কি এম এস করেছেন?
• উনি কি কিছু আবিষ্কার করেছেন?

এসব প্রশ্নের কোন উত্তর খোজে পাওয়া যায়নি..প্রিয় পাঠক আপনাদের কারও জানা থাকলে বলবেন।

২. জয়ের পড়াশুনা...

জয়ের ভাষায় `I have a Bachelor of Science with a triple major in Physics, Mathematics and Computer Science from St. Joseph's College, an affiliate of Bangalore University. I am also a graduate of the University of Texas in Arlington, Texas with a Bachelor of Science in Computer Engineering. I am currently back in school, working towards a Masters in Public Administration at the John F. Kennedy School of Government at Harvard University.’

উনি সর্বমোট কত বছর ধরে ব্যাচেলর ডিগ্রী করেছেন এটি নিয়ে নানা মুখরোচক কথা বার্তা শোনা যায়। জয়ের এই পড়ালেখার পেছনে তার অর্থায়নের বিষয়টিও আলোচনার দাবী করে। পকেটের পয়সায় যারা বিদেশে পড়াশুনা করেন তাদের প্রতি বছর টিউশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি যোগাতে অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় ভ্যাকেশনে ও টার্ম টাইমে। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র টেক্সাস, হার্ভার্ড, ব্যাঙ্গালোর থেকে ডিগ্রী নিচ্ছেন এটা যেমন গর্বের কথা তেমনি ভাবনার বিষয়- এত খরচের টাকা আসে কোত্থেকে?

আসুন আমরা টেক্সাস ও হার্ভার্ডের একটা খরচের আনুমানিক হিসাব বের করি।
• টেক্সাস ইউনিভার্সিটির মোটামুটি খরচ প্রতি বছর ১৩৫২০-২৪৬০৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় আনুমানিক ১১-২০ লাখ টাকার সমান।
• অন্যদিকে হার্ভাডের এমসি/এমপিএ প্রোগামে এক বছরের খরচ ৭৬৪১১ মার্কিন ডলার [Tuition $37576 + Summer Session $6611+ Activity Fee $150+ Emergency on campus health services Fee $1,126+ Health/Hospital Insurance (BC/BS) $1714+ Room and Board $21530+ Personal/Travel $5,266+ Books and Supplies $2,438= Total (Direct and Indirect Costs) $76,411]. যা প্রায় ৬৩ লক্ষ টাকার সমান।
• অর্থাৎ গ্রাজুয়েজন ও মাষ্টার্স মিলিয়ে খরচ বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে।

২০০১-২০০৬ সময়ে শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন, মন্ত্রীর সমপরিমাণ বেতন পেতেন। বাংলাদেশে একজনমন্ত্রীর বেতন ৩২,০০০ টাকা মিনিষ্টার্স প্রিভিলেজ এক্ট ২০০৫ অনুযায়ী। ডঃ ওয়াজেদ মিয়াও একজন নামকরা পরমাণু বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনিও উপার্জনক্ষম ছিলেন। দুজনের উপার্জন থেকে পারিবারিক খরচ বাদ দিয়ে কত সাশ্রয় করা সম্ভব? ওয়াজেদ সাহেব মৃত্যুকালে ৩০ লাখ টাকা রেখে গেছেন, যা একজন সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সদুপায়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

জয়ের হার্ভার্ডের গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়কার মন্তব্য শুনে এটা পরিস্কার বোঝা যায়, ঐসময়ে তার কোন কাজ ছিলো না। বাংলা পত্রিকার সাথে আলাপকালে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ''আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল হার্ভার্ড থেকে আমি গ্রাজুয়েশন করি। তাঁর এই স্বপ্ন পূরণে সফল হতে পেরে ধন্য মনে করছি। এছাড়াও আরো অনেক কিছুই করার আছে। তার সবটাই চেষ্টা করবো পূরণ করতে। তিনি বলেন, আমি এখন চাকুরী খুঁজছি। যে কোন প্রাইভেট কোম্পানীতে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করতে চাই। এজন্য আবেদন পাঠাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায়। এজন্য তিনি দেশবাসীর দোয়া প্রার্থী বলে জানান।''

আরেকটি ব্যাপার এখানে গূরুত্বপূর্ণ যে, এটর্নী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ারকে জয় বিয়ে করেছেন ২০০২ এর ২৬শে অক্টোবর। সেক্ষেত্রে যদি যুক্তির খাতিরে ধরে নেয়া যায় তার স্ত্রী তাকে অর্থ সাহায্য করেছেন তাতেও বৃহদ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে উল্লিখিত অর্থের সংস্থান পরিস্কার হয় না। ২০০৮ সালের নির্বাচনকালে জয়ের মাতা শেখ হাসিনা তার সম্পত্তির যে হিসাব দিয়েছেন, তাতে ৩,৬৫,০২,৯০৪ টাকার সম্পদের বিপরীতে ২০০৭-০৮ বছরে পারিবারিক খরচ ছিল ২ লাখ টাকা। এতে করে শেখ হাসিনার স্থায়ী সম্পত্তি ও অপারপর হিসেব বিবেচনা করেও জয়ের এ সব শিক্ষাখরচের অর্থের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না।


বিঃদ্রঃ
প্রতিবেদনের শিরোনামটি ধার করা। আর লেখাটি তৈরী করতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট এবং কিছু ব্লগ এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৮:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×