!! একে খন্দকারের বই ১৯৭১: ভেতরে বাহিরে- একটি নতুন বিতর্ক !!
মুক্তিযুদ্ধের অনেক বীরত্বগাঁথার বই আমরা আগেও পেয়েছি। এখনো পাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকেই বিতর্কিত করার একটা প্রবনতা আমরা দেখেছি। সেই প্রবনতার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরাজিত পাকিস্তানী শক্তির একটা কুমতলব জড়িত। পরাজিতরা কখনোই বিজয়কে ভালোভাবে গ্রহন করতে পারে না। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে পরাজয়। পাকিস্তানও বাঙালিদের কাছে ১৯৭১ সালের সেই পরাজয় মন থেকে মানতে পারেনি। আজো পাকিস্তান বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে। বাঙালি জাতিকে সবচেয়ে বেশি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করে। এখনো পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের অনেক লেনদেন জড়িত। পাকিস্তান এখনো আমাদের যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেয়নি। বিহারিদের ফিরিয়ে নেয়নি।
১৯৭৪ সালের ওআইসি সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশকে পাকিন্তান যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটিও ছিল মুসলিম নেতাদের খুশি করার মত একটা ঘটনা। মন থেকে বাংলাদেশকে পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হবার পর পাকিস্তান তাদের মিত্রদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশকে এক ধরনের স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেটা কেবল বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর তাদের মধ্যে যে খুশি কাজ করছিল, সেই স্বীকৃতি। কিন্তু প্রকৃত বিচারে পাকিস্তান বাংলাদেশকে আজো স্বীকৃতি দেয়নি। বরং বাংলাদেশে তাদের দোসর ও এজেন্টদের দিয়ে নানাভাবে অঘটন করার খায়েস তাদের অন্তরের আসল মোটিভ।
জনাব খন্দকার সাহেব সুস্পষ্টভাবেই ৪২ বছর পরে স্মৃতিচারণমূলক বই লিখতে গিয়ে কিছু বিষয়কে ইচ্ছে করেই উসকে দিয়েছেন। এতে বইটির কাটতি ভালো যাবে বটে। কিন্তু জনাব খন্দকার সাহেবের আসল উদ্দেশ্য কি তাতে সফল হবে!! আমরা জানি না। খন্দকার সাহেব ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খুনী মোশতাকের মন্ত্রীসভায় জায়গা পাবার চেষ্টা করেছিলেন। সামরিক প্রেসিডেন্ট জিয়া ও এরশাদের সময়ও খন্দকার সাহেব রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। এমন কি আওয়ামী লীগের আগের সরকারেও তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রীর মত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাহলে এখন হঠাৎ করে খন্দকার সাহেবের এমন একটি বিতর্কিত বই লেখার আসল উদ্দেশ্য আসলে কি?
শেখ হাসিনার বর্তমান মন্ত্রীসভায় স্থান না পাবার ক্ষোভ? নাকি তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদদে এটি করেছেন? নাকি তিনি রাজনৈতিকভাবে চুপসে যাওয়া বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে গতি আনার জন্য এমনটি করেছেন? খন্দকার সাহেবের ছেলেমেয়েরা কেউ বাংলাদেশে থাকে না। কারণ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের যারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন, তাদের ছেলেমেয়েরা প্রায় সবাই বিদেশে থাকেন। এটা এখন বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে। তাহলে কি খন্দকার সাহেবরা আজীবন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করার মত মতলব নিয়ে জন্মগ্রহন করেছেন। বাংলাদেশের বাকি ১৬ কোটি সাধারণ মানুষ জালের কাঠি?
খন্দকার সাহেবের বইয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছু বিষয়ে জল ঘোলা করার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যগুেলার পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছেন, তারা আসলে গভীর জলের মাছ। সেই সব রাঘব বোয়ালদের আমরা কখনোই চিনতে পারি না।
বাংলাদেশে চেতনা বিক্রি করে, মুক্তিযুদ্ধ বিক্রি করে অনেকেই দু-চার পয়সা আয়রোজগার করেছেন। এখনো করছেন। যদি খন্দকার সাহেবের জল ঘোলা করে আয় রোজগারের বিষয় থাকে, তাহলে তিনি একটি খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। ৪২ বছর পরে আপনি যতোই মেধাবী হোন না কেন, সকল ঘটনা আপনার মনে থাকবে না। ধারাবাহিকভাবে থাকবে না। আপনি ৪২ বছর পর এখন যা যা বলছেন, যেভাবে বলছেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে বলছেন অথবা আপনার এই লেখার পেছনে আসলে যে উদ্দেশ্যটি সবচেয়ে মুখ্য, সেটি আবারো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার কুমতলব থেকেই করেছেন। আপনার এই কুমতলবটি বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে গ্রহন করার কথা নয়।
খন্দকার সাহেব সারা জীবন ঘি খাবেন, আর একবার দুবার ঘি ভাগে না পেলেই মাথা খারাপ করে পাগলামি করবেন, আর আমরা আপনার সেই পাগলামি মেনে নেব, এটা মনে হয় পাগলের প্রলাপই হবে। আপনার উদ্দেশ্যটি অসৎ। এটি আসল কথা। আপনার মতলবটি নিয়ে এখন যতই তর্ক বিতর্ক হোক, আপনার বুড়ো বয়সের ভিমরতিতে জাতি হিসেবে আমাদের অনেক দুর্নাম হয়ে গেল। লাভ হল পাকিস্তানের। আপনি পাকিস্তানকে ৪২ বছর পরেও সহযোগিতা করতে চাইছেন। তাই মিস্টার খন্দকার সাহেব আপনাকে আর গ্রহন করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ আপনাকে খারিজ করে দিচ্ছে। আপনি স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে আসলে কোন পক্ষের প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত ছিলেন, সেই রহস্য এখন নতুন করে গবেষণার বিষয় হতে পারে। নতুবা মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী সাহেবেরই নিয়ম অনুযায়ী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা। ওসমানী সাহেবের বদলে আপনার সেই উপস্থিতি তাহলে কি পাক সেনাদের নিরাপত্তার বিষয়টির সঙ্গে জড়িত? আপনি তাহলে কি পাকিস্তানীদেরই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সেদিন?
৪২ বছর পর আপনার মুখোশটি আসলে উন্মোচিত হয়ে গেল। আপনি এতোদিন বাংলাদেশের অনেক রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও আপনার মুখোশটি আজ উন্মোচিত হয়ে গেছে। আপনি আসলে পাকিস্তানের দালাল। এতোদিন মুখোশ পড়ে ছিলেন। এখন মুখোশটি নিজেই খুলে দিলেন। মিস্টার খন্দকার সাহেব, আপনার মুখোশটি উন্মোচিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেক সুবিধা হল। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!
বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না
এক
বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???
আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন
সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।
হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।