আজ দৈনিক প্রথম আলো শুদ্ধস্বর-এর প্রকাশক ও কবি আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলের যে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছে, এটা যে কত বড় একটা আহম্মকের কাজ এটা কী পত্রিকার যারা দায়িত্বে আছেন, তারা একবারও উপলব্ধি করতে পেরেছেন? টুটুলের সাক্ষাৎকার এই মুমূর্ষু অবস্থায় নিতে হবে? কে আপনাদের সাংবাদিকতার পাঠ শিখিয়েছে? একজন মানুষ যে ট্রমার ভেতর থেকে যাচ্ছেন, এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তার এমন দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেবার এটাই আপনাদের দৃষ্টিতে সঠিক সময়? পৃথিবীর কোথায় পেয়েছেন এমন সাংবাদিকতার শিক্ষা?
আপনারা কেবল বাণিজ্যটা বুঝলেন! যে মানুষটার এখন সেই ভয়ংকর ট্রমা ভোলার সময়, আর সাংবাদিক শেখ সাবিহা আলম কিনা তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সেই চূড়ান্ত ট্রমার অংশটাই শুনতে চাচ্ছেন? কোথায় পেয়েছেন আপনারা সাংবাদিকতার এমন নিষ্ঠুর শিক্ষা? ছিঃ ছিঃ, আপনাদের সাংবাদিকতা দেখলে বড় করুণা হয়। টুটুলের এই আশংকাজনক অবস্থায় কে আপনাকে সাক্ষাৎকার নিতে অ্যাসাইনমেন্ট দিল? দৈনিক প্রথম আলোতে কী একজন লোকও দায়িত্ববান নেই, যিনি এই বিষয়টি বোঝেন?
বাংলাদেশে অন্যান্য সকল সেক্টরের মত সাংবাদিকতার যে কতটা অধপতন হয়েছে তা টুটুলের মুমূর্ষু অবস্থায় নেওয়া এই সাক্ষাৎকার থেকেই সুস্পষ্ট। একদল বাণিজ্য লিপ্সু মানুষ এখন সাংবাদিকতায় নেমেছে, যাদের সাংবাদিকতা বিষয়ে যথেষ্ঠ ধারণা, জ্ঞান না থাকলেও ব্যবসা সম্পর্কে চূড়ান্ত খচখচানি আছে। একজন মানুষের যখন চূড়ান্ত রেস্ট প্রয়োজন তখন সেই মানুষকে ট্রমা মনে করিয়ে দিয়ে প্রথম আলো আসলে কীসের প্রতিনিধিত্ব করল? সাংবাদিকতার কোন ইথিক্সে পড়ে এটা? আমি সরাসরি প্রথম আলো'র সম্পাদক মতিউর রহমানের কাছে এটা জানতে চাই। কয়েক দিন পরে এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিলে কী ব্যবসা কম হতো? আপনাদের সাংবাদিকদের কে কী অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বাইরে পাঠান? পাঠানোর আগে ন্যূনতম কিছু জ্ঞানের ছবক দিয়ে পাঠানো উচিত। অন্তত কখন কী করা যায়, কী করা উচিত, এসব। নইলে মুর্খ এসব সাংবাদিকদের দিয়ে হয়তো সংবাদ সংগ্রহ করা যায়, কিন্তু তা দিয়ে ব্যবসা হলেও তা সাংবাদিকতার ন্যূনতম এথিক্স রক্ষা করে না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন এসব রোগীদের কাছে কোনো ধরনের সাংবাদিকদের ভিড়তে না দেওয়া। আপনাদের শুধু চিকিৎসা সেবা দিয়েই কাজ শেষ হয়ে যায় না। একজন রোগী কীসে কীসে বিরক্ত হতে পারে, কীসে তার কমফোর্ট না লাগতে পারে, কী কী বিষয় তার সদ্য অতীত হওয়া ট্রমাকে আবার উসকে দিতে পারে, এসব বিষয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে এই নিয়ে কথা বলে কী আদৌ কোনো লাভ হবে? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বজিৎকে যখন কোপানো হয়, তখনো সাংবাদিকরা তার ছবি ধারণ নিয়ে ব্যস্ত ছিল। অথচ কেউ বিশ্বজিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার মত মানবিক আচরণ দেখায়নি। আর টুটুল হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন। কিন্তু আমাদের পাপারাজ্যির খাটাস সাংবাদিকরা আর কোনো কিছু না পেয়ে তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়ে নিজের নামের সঙ্গে কিছু ক্রেডিট যোগ করায় ব্যস্ত। সাংবাদিকতার কোন কাজে ক্রেডিট যোগ হয় আর কোনটাতে ক্রেডিট মাইনাস হয়, সেই জ্ঞান রাখে না এরা। ধিক শত ধিক জানাই প্রথম আলোর এই প্রচেষ্টাকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




