somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জন কেরির বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে আমাদের এজেন্ডা কী !!!

২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওবামা প্রশাসনের দীর্ঘ আট বছরের শাসনামলে কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেননি। আগামী নভেম্বর মাসের ৮ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এখন কেবল রুটিন ওয়ার্ক করছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারির ২০ তারিখে তিনি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। যতদূর জানা যায় আগামী ৩০শে আগস্ট ‘ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল ডায়ালগ’-এ মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন জন কেরি। মানে ভারতের সঙ্গে জন কেরির সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়েই আলোচনা হবে। দিল্লী যাবার আগে জন কেরি ২৯ আগস্ট ঢাকা হয়ে যাবার আগ্রহ দেখিয়েছেন!

কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো জানে না বা প্রস্তুত নয় মিস্টার কেরির সঙ্গে তারা কী নিয়ে আলোচনা করবেন! এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট এজেন্ডার কথা বলতে পারেনি। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক অমিমাংসিত বিষয় রয়েছে। আমাদের তৈরি পোষাক খাতের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে একটি জটিলতা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি-সুবিধা চুক্তি, অন্যান্য অশুল্ক বাধা দূর করার মত অনেক প্রসঙ্গ আছে। বঙ্গবন্ধু'র খুনীদের যারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। অর্থ্যাৎ দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির কার্যকারিতার বিষয়টি আছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার উপায় নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।

কিন্তু আমাদের যেটা মনে রাখতে হবে মিস্টার জন কেরি এর আগে একাত্তরের মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে বেশ কয়েকবার যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের আপিল শুনানি আগামী রোববার শুরু হচ্ছে। এমন সময়ে মিস্টার কেরি মীর কাসেমকে বাঁচাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশ সফর করছেন কিনা, এটা খুব গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। শোনা যায় মীর কাসেম দেশের বাইরে মিলিয়ন ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে জন কেরির কোনো বিশেষ উদ্যোগের খবর বিগত চার বছরে ছিল না। হঠাৎ করেই দিল্লী যাবার আগে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঢাকা সফরকে তাই সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি প্রতিরোধ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত আগ্রহের আড়ালে বরং তাদের নেতৃত্বেই সারাবিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি বিস্তারের ঘটনা ঘটছে। মিস্টার কেরির ঢাকা সফরের আসল উদ্দেশ্য যদি হয় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক ইস্যুতে এখনো এক বোকার স্বর্গে বসবাস করছে।

সিরিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিস্তারের নতুন ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে তুরস্ক। এতোদিন তুরস্ক মার্কিন নেতৃ্ত্বাধীন ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তাদের সহায়ক বন্ধু ছিল। তুরস্কে এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক ক্যু'র পরের তুরস্ক এখন মার্কিন জুজু ছেড়ে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিস্তারের জন্য মার্কিন প্রশাসনের সবসময় পছন্দের তালিকায় মুসলিম দেশগুলো। তাই বাংলাদেশকে খুব হিসাব কষেই মিস্টার কেরির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। হিসাবে চুল পরিমাণ ভুলের জন্য কিন্তু বিশাল অংকের মাসুল দেওয়া লাগতে পারে বাংলাদেশের।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগতম জানানোর আগে নিজেদের এজেন্ডা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি কোনো ধরনের চাপিয়ে দেওয়া কৌশলের কাছে নতি স্বীকার না করার ব্যাপারে দৃঢ় থাকাই হতে হবে বাংলাদেশের কৌশল। মনে রাখতে হবে আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর এবং তেল ও গ্যাস সেক্টরের উপর মার্কিনীদের দীর্ঘদিনের নজরদারি ও আগ্রহ রয়েছে। ভারত ও চীনকে বাগে আনতে বঙ্গোপসাগরে একটা স্থায়ী মার্কিন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার স্বপ্ন তাদের দীর্ঘদিনের। যে কোনো ধরনের টোপ বা কৌশলের বিনিময়ে ওরা এগুলো বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাতে পারে। তাই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কয়েক ঘণ্টার বাংলাদেশ সফর নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ বুমেরাং ফল দিতে পারে, এটা আমাদের যেন ঠিক সময়ে মনে থাকে।

আলোচনায় কোনো ছাড় না দিয়ে বরং বাংলাদেশের অপরচুনিটি কী হবে তা নিয়েই জন কেরির সঙ্গে কূটনৈতিক যুদ্ধ করতে হবে। খামাখা জন কেরিকে পরম বন্ধু ভাবার কোনো সুযোগ নাই। ১৯৭৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জারের বাংলাদেশ সফরকে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটু সময় নিয়ে যেন ভালোভাবে খতিয়ে দেখে, সেই অনুরোধ রইলো।

...............................
২৪ আগস্ট ২০১৬

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×