somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৩৩ রান নাকি ২ উইকেট! কার পাল্লা ভারী!!!

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশের মধ্যেকার প্রথম টেস্টে রেজাল্ট হবে। এটা এখন শতভাগ নিশ্চিত। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৩ রান। আর ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে টাইগার্সদের ডেব্যু ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান অপরাজিত ৫৯ রানে। সাব্বিরকে সহযোগিতার জন্য অপর ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ১১ রানে। আগামীকাল খেলার পঞ্চম দিন। প্রথম সেশানেই চট্টগ্রাম টেস্টের রেজাল্ট আসবে।

এখন ক্রিকেট বোদ্ধাদের সকল হিসেব নিকেশ কে জিতবে চট্টগ্রাম টেস্ট। ইংল্যান্ড না বাংলাদেশ? নাকি টাই হবে এই টেস্ট? টাইগার্স ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান আজ যে মেজাজে ব্যাট চালিয়েছেন, সেদিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ সমর্থকরা এখনো আশায় বুক বাধছেন। ঠিক ২৮৬ রানের লক্ষ্য পেয়ে ম্যাচ জেতার ঘটনা ইতিহাসে আছে মাত্র একটি। ১৯২৯ সালে মেলবোর্ন টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৫ উইকেট হারিয়ে খুব সহজেই সেই ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এবার কী সেই একই লক্ষ্যে বাংলাদেশ জিততে পারবে?

বাংলাদেশ অলরেডি ৮ উইকেট হারিয়েছে। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার মত এখানে সমীকরণটি মোটেও সহজ নয়। এর আগে টেস্টে ২৮৫ বা তার বেশি রান তাড়া করে জেতার ঘটনা টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ৩৪বার ঘটেছে। ২২২৪ টেস্টের ইতিহাসে ৩৪ কিন্তু খুব ছোট্ট একটা সংখ্যা। টেস্ট ক্রিকেটে রান তাড়া করে সবচেয়ে বড় জয় পাওয়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগুয়া টেস্টে ৪১৭ রান তারা করে ৭ উইকেট হারিয়ে ৪১৮ রান করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ব্রায়ান লারার দল। আর টেস্টে চারশো রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার ঘটনা মাত্র তিনটি।

এখন চট্টগ্রাম টেস্ট পুরোপুরি সাইকোলজি গেম। যারা টেমপারমেন্ট ধরে রাখতে পারবে, আগামীকাল সকালে সেই দল জিতবে। বাংলাদেশ গত ১৪ মাস টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে ছিল। সেখানে ইংল্যান্ড এই সময়ে ১২টি টেস্ট খেলেছে। একদিক দিয়ে এখন ইংল্যান্ড এগিয়ে। ওরা আমাদের থেকে অভিজ্ঞ দল। আমরা নবীন। অন্যদিক দিয়ে টাইগার্সরা এগিয়ে। কারণ বিগত ১৪ মাস টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে থেকে ইংল্যান্ডকে এমন একটি পর্যায়ে টেনে আনার সবটুকু কৃতিত্ব টাইগার্সদের।

আমি বরং এই পর্যায়ে আমাদের সিলেকটরদের ভুল দেখতে পাই। অভিজ্ঞ জেনুইন পেসার আল আমিন, রুবেল, ইবাদতদের একাদশের বাইরে রেখে শফিউল আর রাব্বিকে নেয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পেস অ্যাটাক এই টেস্টে জিরো লেভেলে। সিলেকটররা দ্বিতীয় যে ভুলটি আজ করেছে, সেটি হলো রাব্বীর জায়গায় তাইজুল বা সফিউলকে পাঠালে হয়তো বাংলাদেশের হাতে এখনো তিন উইকেট থাকতো ৷ কারণ, তখন ইংলিশ ক্যাপ্টেন আলস্টার কুক আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে দিনের অবশিষ্ট ৫ ওভার স্পিন আক্রমণে রিস্ক নিতে বাধ্য হতেন ৷কেননা এই পর্যায়ে পুরো খেলাটা এখন চরম মনসতাত্বিক গেইম ৷ আর স্পিন দিয়ে এই শেষ ৫ ওভার ওরা আক্রমণে থাকলে হয়তো সাব্বির আজকেই এক ঐতিহাসিক জয় এনে দিতে পারতেন।

বাংলাদেশের জয়ের এখনো নিভু নিভু প্রদীপটা জ্বালিয়ে রেখেছে এই নবম উইকেট জুটি। চূড়ান্ত প্রত্যাশা নিয়ে এখনো উইকেটে আছেন সাব্বির। অভিষেক টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সাত নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে ফিফটি করা মাত্র চতুর্থ ব্যাটসম্যানের কীর্তিও গড়েলেন আজ সাব্বির। পাশাপাশি সাব্বিরের জন্য এখন আরেক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মঞ্চ প্রস্তুত। বাংলাদেশের ক্রিকেটে মহানায়ক হয়ে ওঠার এক বিশাল সুযোগ সাব্বিরের সামনে। সাব্বির রাত পোহালে সেটা কোথায় কীভাবে নিয়ে যাবে, এটা এখনই বলা মুশকিল!

বাংলাদেশ ৩৩ রান করে জয় ছিনিয়ে নিতে পারলে তা হবে টেস্ট ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক বিজয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ড মাত্র ২টি উইকেটের জন্য প্রাণপন লড়াই করবে। এমন পরিস্থিতিতে যারাই সাইকোলজিক্যালি স্ট্রং থাকবে, তারাই জিতবে। পুরো ব্যাপারটা সাব্বির কীভাবে সামাল দেবে, তার উপর এই জয় পরাজয় নির্ধারিত হবে। এমনিতে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২টি ভালো বল। তাছাড়া বিতর্কিত আউট দেওয়ার জন্য মাঠে দুই আম্পায়ার ধর্মসেনা আর গ্যাফানে তো আছেই। যে কারণে আমি ভরসা রাখতে পারছি না পুরোপুরি। বাট, চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি আশাও ছাড়ছি না। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ টাই হবারও লক্ষণ কিন্তু আছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯৩ (মঈন আলী ৬৮, বেয়ারস্টো ৫২; মিরাজ ৬/৮০, সাকিব ২/৪৬, তাইজুল ২/৪৭)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৪৮ (তামিম ৭৮, মুশফিকুর ৪৮, মাহমুদুল্লাহ ৩৮, সাকিব ৩১; স্টোকস ৪/২৬, মঈন আলী ৩/৭৫, রশিদ ২/৫৮, ব্যাটি ১/৫১)

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২৪০ (স্টোকস ৮৫, বেয়ারস্টো ৪৭, ওকস ১৯*; সাকিব ৫/৮৫, তাইজুল ২/৪১, মিরাজ ১/৫৮, কামরুল ১/২৪)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৭৮ ওভারে ২৫৫/৮ (তামিম ৯, ইমরুল ৪৩, মুমিনুল ২৭, মাহমুদুল্লাহ ১৭, সাকিব ২৪, মুশফিকুর ৩৯, সাব্বির ৫৯*, মিরাজ ১, কামরুল ০, তাইজুল ১১*; ব্যাটি ৩/৬৫, ব্রড ২/২৬, মঈন ২/৬০, রশিদ ১/৫৫)।

................................
২৩ অক্টোবর ২০১৬

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:৫৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×