somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অমর একুশে বইমেলায় আমার বই!

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রাবণ প্রকাশনী প্রকাশ করেছে আমার প্রবন্ধ সংকলন 'চলচ্চিত্রের দেশ বিদেশ'। চলচ্চিত্র এমন একটি বিশাল মাধ্যম যে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও চলচ্চিত্রের প্রেমে পড়েছিলেন এবং একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৩২ সালের ২২ মার্চ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিচালিত ‘নটীর পুজা' সবাক চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। তার আগে ১৯৩১ সালে বিদ্রোহী কবি ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘ধূপছায়া’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। সেই ছবি’র সংগীত পরিচালনাও করেন কাজী নজরুল। এছাড়া তিনি বিষ্ণু’র ভূমিকায় অভিনয়ও করেন। ১৯৬৬ সালে সৈয়দ শামসুল হক পরিচালনা করেন উর্দু সিনেমা ‘ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো’।


চলচ্চিত্রে এই তিনজনের অবদানসহ চলচ্চিত্রনির্মাতা সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক কুমার ঘটক, আন্দ্রেই তার্কোভ্স্কি, জহির রায়হান, ঋতুপর্ণ ঘোষ, কেতন মেহতা ও আসগার ফারহাদিকে নিয়ে ‘চলচ্চিত্রের দেশ বিদেশ’ বইটি। এছাড়া মহানায়িকা সুচিত্রা সেন ও মহানায়ক রাজ্জাককে নিয়ে রয়েছে দুটি আলাদা নিবন্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস ও বাংলাদেশের সিনেমার বাজার নিয়ে রয়েছে নাতীদীর্ঘ আলোচনা। চলচ্চিত্রের স্টুডেন্ট, গবেষক, শিক্ষক, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষজন ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বই ‘চলচ্চিত্রের দেশ বিদেশ’।

এক রঙ্গা এক ঘুড়ি প্রকাশ করেছে আমার প্রবন্ধ সংকলন 'বাংলা গানের এপার ওপার'। মধ্য ত্রিশের দশক থেকে মধ্য আশির দশককে (১৯৩৮ থেকে ১৯৮৩) বলা হয় বাংলা গানের স্বর্ণযুগ। এই সময়ের মধ্যে যেমন ছিল বাংলা গানের লিরিক, তেমনি ছিল মনোহরি সুর। পাশাপাশি ছিল তেমনি দরদি কণ্ঠ। গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী মিলিয়ে এই সময়ে ছিল বাংলা গানের জয়জয়কার। এই সময়টা ছিল বাংলা গানের মিডাস টাসের মত। সবকিছুতেই তখন ছিল একটা আকাশছোঁয়া সাফল্য।


ডিভোশনাল সঙ, ফিল্ম সঙ, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, অতুল প্রসাদের গান, দ্বিজেন্দ্রগীতির বাইরেও তখন বিশাল একটা গানের জগত সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলা গানের স্বর্ণযুগের সেসব গান এখনো আমাদের প্রাণে উতাল হাওয়ার মত দোলা দেয়। আমাদের এক নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত করে। বাংলা গানের সেই স্বর্ণযুগের অনেক অন্তরালের ঘটনা পরম্পরাকে নিয়েই রেজা ঘটকের 'বাংলা গানের এপার ওপার' সংকলন। বইটি বাংলা গানের শ্রোতাদের এবং গান পাগোল মানুষদের আবারো সেই নস্টালজিয়ায় আবারো আক্রান্ত করবে।

এক রঙ্গা এক ঘুড়ি প্রকাশ করেছে আমার সম্পাদিত 'চিঠির ডায়েরি'। চিঠি ছিল একসময় দূর-যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তখন চিঠির গুরুত্ব ছিল প্রত্যেকের কাছেই অপেক্ষার অবসানের অপর নাম। ডাক পিয়ন যখন 'চিঠি আছে, চিঠি...' বলে চিৎকার দিতেন, তখন আমরা হাতের সব কাজ ফেলে সেই চিঠি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম। সদ্য পাওয়া সেই চিঠি'র প্রতিটি অক্ষরের মধ্যে লুকিয়ে থাকতো সেই নিকটজনের জন্য আমাদের আবেগ, ভালোবাসা, প্রেম, বিরহ ও কামনার এক একটি মানসচিত্র।


আমাদের জীবদ্দশাতেই চিঠি লেখার প্রচলন ধীরে ধীরে উঠে গেল। তাহলে কী আমরা ধীরে ধীরে যন্ত্রমানবে পরিণত হচ্ছি? আমরা যন্ত্রমানব না হলেও যন্ত্রের উপর আমাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেড়েছে। আর সেই নির্ভরতার ফাক গলে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের চিঠি লেখার অভ্যাস।

হারানো সেই অভ্যাসকে মলাটবন্দি করার প্রয়াস থেকেই এই চিঠি সংকলনের চিন্তা। 'চিঠির ডায়েরি' সংকলনের জন্য রেজা ঘটক স্যোশাল মিডিয়ায় একটি ঘোষণা দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, মানুষের মধ্যে চিঠি লেখার নতুন একটি অভ্যাসকে আবার একটু উসকে দেওয়া। 'চিঠির ডায়েরি' সংকলনটিতে বেশ কিছু ঐতিহাসিক চিঠি যুক্ত করে কিছুটা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া সমকালীন নানান বিষয়আশয় নিয়ে সাজানো হয়েছে 'চিঠির ডায়েরি'।

এছাড়া অমর একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আমার বেশ কিছু বই। বিদ্যাপ্রকাশে পাওয়া যাচ্ছে বসনিয়া যুদ্ধের উপর ঐতিহাসিক উপন্যাস 'বসনা'। উপন্যাসটিতে বসনিয়ার যুদ্ধ ও তখনকার বিশ্বরাজনীতির কূটকৌশল অত্যন্ত নিপুনভাবে উঠে এসেছে। অন্যপ্রকাশে পাওয়া যাচ্ছে আমার গল্পের বই 'ভূমিপুত্র'। ছায়াবীথিতে পাওয়া যাচ্ছে গল্পের বই 'পঞ্চভূতেষু'। সব্যসাচীতে পাওয়া যাচ্ছে গল্পের বই 'গল্পেশ্বরী'। শ্রাবণ প্রকাশনীতে পাওয়া যাচ্ছে 'ফিদেল দ্য গ্রেট কমরেড'। এবং ত্রয়ী প্রকাশন-এ পাওয়া যাচ্ছে আমার বেস্ট সেলার বই 'মুজিব দ্য গ্রেট'। বইটির এবছর পঞ্চম সংস্করণ বের হয়েছে।
----------------------
পহেলা ফাগুন ১৪২৫



সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৪:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×