somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাস্টার দাদুর রেফারেন্স !!

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের স্কুলের রাজ্জাক স্যার !
ভয়াবহ এক মারাত্মক স্যার। “সামাজিক বিজ্ঞান” নামের উদ্ভট এক প্রকার বিষয় পড়াতেন।
অবশ্য সম্পর্কে উনি আমার বাবার বাপের বউয়ের বড় ভাই ! এক কথায় দাদু। আদর করে উনাকে আমি মাস্টার দাদু বলেই ডাকতাম।
উনার শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিলও প্রতি ক্লাসের দেওয়া পড়া ঠিকঠাক বুঝিয়ে দিতে না পারলে, বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে হাত দুটিকে গগনের দিকে ঈশারা করে উনার হাতে বেশ কয়েকটা কাঁচা বাঁশের কুঞ্চির ছোঁয়া খেতে হতো।
পূর্বে বিষয়টি আমার এলাকার সাবেক ছাত্রদের মারফৎ জেনেছিলাম।
এবার ক্লাস নাইনে উঠার পর সৌভাগ্য নামের গোপন এক দুর্ভাগ্য হল তার ক্লাস করার। প্রথম ক্লাস হল, পরিচিতি পর্ব এবং পড়া নেওয়ার মধ্যে। দ্বিতীয় ক্লাস এ পড়া দেওয়ার পালা।
পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উনি অল্পক্ষণের মধ্যেই জানতে পারলেন, কারোই পড়া হয় নি। এতে প্রথমের দিকে অবশ্য আমি মনে মনে খুশীই হইলাম যে, কারোই যখন পড়া হয়নি তখন হয়তো উনি কাওকেই মারবেন না।
ওমা একটু পড়েই উনি সবাইকে বেঞ্চের উপর পূর্বের পজিশন (বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে হাত দুটিকে গগনের দিকে ঈশারা করে) অনুযায়ী দাঁড়াতে বললেন এবং এক এক করে উনার টেবিলের কাছে যেয়ে কাঁচা কুঞ্চির আশীর্বাদ নিয়ে আসতে বললেন।
পর্যায়ক্রমে আসলো আমার পালা। আমি মারের তীব্রতায় কাঁদো কাঁদো হয়ে কাঁপতে কাঁপতে উনার কাছে যেতেই উনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুই যা ” !
বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে যদি এখন আমি আমেরিকার নাগরিকত্ব পাই, তখন যে খুশী হবো ঠিক তার চেয়েও ঐ সময় খুব বেশী খুশী হয়েছিলাম।
যতই দূর সম্পর্কের হোক, উনি আমার দাদু জন্যই হয়তো ঐদিন উনি আমাকে মারল না !!
আজ চাকরিজীবন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে এই রেফারেন্স নামের ব্যাপারটার ছড়াছড়িতে হটাত করেই আজ উপলব্ধি করলাম ঐ দিনের ক্লাসের কথা।
এখন মনে হচ্ছে, ঐটাও বুঝি রেফারেন্স ই ছিলও।
এই রেফারেন্স রাজ্যর বিনাশ ঘটবে কবে, কেউ কি বলতে পারেন ????
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×