somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুযোগ পেলেই ঐ

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাফ প্যান্ট পরা অবস্থায় মাত্র বুঝতে শিখেছি যে, একটা মেয়ের সাথে একটা ছেলেকে জড়িয়ে কোন আলাপ-আলোচনা করলে ঐ ছেলে বা মেয়েটার চরিত্র সমাজে পুরোপুরি মাইনাস দৃষ্টিকোণে চলে যায়। তখন ঐ ছেলে বা মেয়েটা কিন্তু ঐ সময় ঠিকই একটা লোকলজ্জায় পড়ে যেতও। তাই প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই অন্তত:পক্ষে আশা করতো যে, তাঁদের জড়িয়ে যেনও এমন কোন আলাপ-আলোচনা করা না হয়।

যখন ফুলপ্যান্ট এ আমি তখন জানলাম, দেওয়াল বা গাছে অথবা বইয়ের পাতায় বা এই প্রকৃতির জায়গায় যদি “উমুক+তুমুক/উমুকের নামের অদ্যাক্ষর+ তুমুকের নামের অদ্যাক্ষর” লেখা প্রচার করা হয়, তাহলে ঐ উমুক নামের ছেলে এবং ঐ তুমুক নামের মেয়েটার চরিত্র সমাজে পুরোপুরি মাইনাস দৃষ্টিকোণে চলে যায়। তখন ঐ ছেলে বা মেয়েটা কিন্তু ঐ সময় ঠিকই একটা লোকলজ্জায় পড়ে যেতও। তাই প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই অন্তত:পক্ষে আশা করতো যে, তাঁদের জড়িয়ে যেনও এমন প্রকৃতির প্রিন্টিং মিস্টেক না করা হয়।

যখন হাইস্কুলে পড়াশুনা করতাম তখন আচমকা জানতে পারলাম এতদিন যেগুলি সিরিয়াস ভাবে ভেবে এসেছি সেগুলি আসলে কোন ঘটনা ই না। আসল ঘটনা হলও পারা /গ্রাম/থানা/জেলা /বিভাগ/দেশ এর একই অথবা ভিন্ন স্থানবিশিষ্ট দুই ছেলে বা মেয়ের মাঝে যদি চিঠি আদান প্রদান হয় তাহলেই কেবল ঐ ছেলে বা মেয়েটার চরিত্র সমাজে পুরোপুরি মাইনাস দৃষ্টিকোণে চলে যায়। তাই প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই তখন অন্তত:পক্ষে আশা করতো যে, তাঁদের কাছে যেনও ভুলেও এমন প্রকৃতির পত্র প্রদান করা না হয়। আর আসলেও যেনও কেউ টের না পায়।

যখন কলেজে পড়তাম তখন জানলাম, না আসলে যখন দুজন ছেলে মেয়ে পরস্পর একসাথে রিক্সায়/পার্কে/নদীর পারে/সমুদ্রসৈকতে ইত্যাদি জায়গায় ঘুরতে যাবে তখন এ ঘটনা যদি কেউ দেখে ফেলে তখন ঐ ছেলে বা মেয়েটার চরিত্র সমাজে পুরোপুরি মাইনাস দৃষ্টিকোণে চলে যায়। তাই প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই তখন অন্তত:পক্ষে আশা করতো যে, তারা ঘুরবে ঠিকই কিন্তু যেনও কেউ না দেখে ফেলে।

ভার্সিটি তে যেয়ে দেখি আরও এগিয়ে গেলো দেশ, না দেশের ছেলে মেয়েরা। এখন দেখলাম ঘুরছে ঘুরুক এক সাথে সমস্যা নেই। কিন্তু হাতে হাত বা বক্ষে বক্ষ মানে জড়িয়ে ধরলে আর কি, কাহিনী ঘুরপাক। যদি কেউ এমন পরিস্থিতি দেখে ফেলে, তখন ঐ ছেলে বা মেয়েটার চরিত্র সমাজে পুরোপুরি মাইনাস দৃষ্টিকোণে চলে যায়। তাই প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই তখন অন্তত:পক্ষে আশা করে যে, তাঁদের এমন ‘কাছে আয় দূরে যা” খেলা যেনও কেউ না দেখে। চলছে চলুক লোকচক্ষুর আড়ালে।

আর চাকরী জীবনের শুরুতে দেখেছি, জনসম্মুখে যদি একটি ছেলে ও একটি মেয়ে পরস্পরকে চুমু খায় তাহলে তখন ঐ ছেলে বা মেয়েটার চরিত্র সমাজে পুরোপুরি মাইনাস দৃষ্টিকোণে চলে যায়। তাই প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েই তখন অন্তত:পক্ষে চেষ্টা করতো যে, তাঁদের এমন ‘খাই খাই” খেলা যেনও কেউ না দেখে। গোপনে যতটুকু করা যায় আর কি।

আর এখন প্রত্যেকটি উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা আমরা কি করছি, “সুযোগ পেলেই ঐ”। ;) :P এই সব করছে কিছুই না, কিন্তু জানতে পারলে অনেক কিছুই। ঐ নেগেটিভ/মাইনাস দৃষ্টিকোণ আর কি। তাই এইটা ছাড়া বাকি উপরোক্ত সবগুলিই অবাধে প্রকাশ্যে চলছে । চলুক আরকি !

গত কয়েকদিন আগে ট্রেনের সিগন্যালে ঝুলুন্ত বাসে আটকে থাকা অবস্থায় এক রিক্সায় অজ্ঞাতনামা দুই ছেলে মেয়ের ঠোঁটে ঠোঁটে “খাই খাই” দৃশ্য দেখেই এই সম্পূর্ণ কাহিনীটি মাথায় কামড়ানো শুরু করলো। তাই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করলাম আরকি!

এই আধুনিক যুগে “সুযোগ পেলেই ঐ” টাই শুধু গোপনীয়তা রক্ষা করছে। তাহলে ভবিষ্যতে “সুযোগ পেলেই ঐ” ও কি কোন এক ট্রেন এর সিগন্যালে আটকে থেকে দেখতে হবে ??
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×