somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে যেভাবে এলো ফার্টি ফার্ষ্ট নাইট

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বারো মাসে তেরো পার্বণে অভ্যস্ত বাঙালি জাতি খুবই উৎসব প্রিয়। যে কারণে নিজস্ব উৎসব ছাড়াও অন্যের উৎসবেও রঙ ছড়াতে দ্বিধাবোধ করে না।

আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব আর ভিন দেশে গিয়ে শিখে আসা; যেভাবেই হোক না, তা আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। আজ আমার লেখার মূল বিষয় থার্টি ফার্স্ট নাইট।
অনেক আগে ৯০ এর দশকে, দেখতাম বড়ভাইরা নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে একে অন্যকে কার্ড দিত। আর ৩১ ডিসেম্বর রাতে পিকনিক করত, জোড়ে জোড়ে গান বাজাতো। অর্থাৎ ধুমধাম করে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করে নিতো। তখন থার্টি ফাস্ট নাইট বলে কিছু শোনা গেলেও কেউ কেউ ক্ষুদ্র আয়োজনে পালন করতে থাকে। ১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর রাতে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বাঁধন নামের একটি মেয়ে ১০/১২ জন মদ্যপ যুবক কর্তৃক শালীনতা হানীর শিকার হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় খবরটি প্রকাশের পরে দেশজুড়ে পরিচিতি পায়।

আমাদের দেশের সাংস্কৃতিতে অভিভাবকদের নিয়ে উৎসবে (ঈদ, পয়লা বৈশাখ, জামাই ষষ্টি) অংশ নেয়ার রীতি থাকলেও, পশ্চিমা সাংস্কৃতিতে তা দেখা যায় না। বাবা-মা ছায়া থেকে মুক্ত তরুণ তরুনীরা নতুনত্বের স্বাদ নিতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে অপকর্মে।

বিভিন্ন দেশে আতশবাজি, লেজার শো, সুর ও সঙ্গীতের মূর্ছনায় নতুন বছরকে বরণ করা হলেও এখানে মদ পানের মাধ্যমে স্বাগত জানানোর একটি রীতির প্রচলন ঘটতে শুরু করেছে। ফলে বারবারই ঘটে অনাকাক্ষিত ঘটনা। ৯৯ সালের ঘটনার পুনারাবৃত্তি দেখা যায় আবার ২০১২ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর। এরপর থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিবারই এ দিনে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করে। পুলিশী তল্লাসী, টহল বেড়ে যায়, বন্ধ রাখা হয় বার, ক্লাব।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করলেও ১ জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। প্রটেস্টান খ্রীষ্টানরা এর বিরোধীতা করলেও ক্যাথলিক এ ক্যালেন্ডারটি জনপ্রিয় পেতে থাকে। ধীরে ধীরে স্পেন, পর্তুগাল, লিথুনিয়াম, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এরই ধারবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া।

আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন বছর। তবে ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধারণাটি আসে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে। তখন মেসোপটেমিয় সভ্যতার (বর্তমান ইরাক) লোকেরা নতুন বছর উদযাপন শুরু করে। তারা তাদের নিজস্ব গণনা বছরের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করতো।

তবে রোমে নতুন বছর পালনের প্রচলন শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ সালে। পরে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করেন। যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত।

রোমে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের অন্তর্গত বছরের প্রথম দিনটি জানুস দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। জানুস হলেন প্রবেশপথ বা সূচনার দেবতা। তার নাম অনুসারেই বছরের প্রথম মাসের নাম জানুয়ারি নামকরণ করা হয়।

এতো গেলো যিশুর জন্মের আগের কথা। যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি এই ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন। যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়ার পালন শুরু হয় ১৯ শতক থেকে। নতুন বছরের আগের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর হচ্ছে নিউ ইয়ার ইভ। এদিন নতুন বছরের আগমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।

তথ্যসূত্র:
http://www.somewhereinblog.net/blog/sayedibnrahmat/29514721
http://www.onlinekhobor.com/sports/news/34101
http://blog.bdnews24.com/mamunurrashid/141232
http://bigganjatra.org/history-of-new-year/
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:১৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিভ্রম

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪৪



ধর্মেশ্বর একজন চিকিৎসক। যথেষ্ট পরিমাণ পড়ালেখা করেছেন, দেশে ও প্রবাসে পড়ালেখা সহ ট্রেইনিং নিয়েছেন। তারপরও তিনি শহর ছেড়ে - জেলা শহর ছেড়ে অন্ধগ্রাম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে আছেন। সম্ভব... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×