somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক জোড়া জুতো কিনবো (গ্যারান্টিসহ - সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য ৩০০০ টাকা)

২০ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিনেছি জুতো,
কেতাদুরস্ত ।

অথচ -
বয়স মাত্র দু’মাস,
তাতেই নাভিশ্বাস ।

ক্ষয় নয়, বরং খসে পড়া,
চাই ক্ষতিপূরণ বা স্থায়িত্ব-বীমা ।

কবি নই । ক্লাস’টুর অপটু স্কুলছাত্র যেমন ছন্দ মেলানোর চেষ্টা করে, মাঝে মধ্যে সে রকম চেষ্টা করি । আজ করলাম শোকে, মনের দুঃখে ।

এবারের জুতো-জোড়া কিনেছি মাস দুয়েক আগে । খানিকটা গবেষণা আর সময় ব্যয়ের পর । কারণ আগের জুতোর মেয়াদ ছয মাসও স্থায়ী হয়নি । যতই দিন যাচ্ছে, কেনা জুতোর স্থায়িত্ব ততোই কমছে । প্রতি পদক্ষেপেই যদি সাবলীলতা না থাকে, তাহলে আত্মবিশ্বাসটা আসবে কোথা থেকে?

জুতোর জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছিলাম ২,৫০০ টাকা । হয়তো ভাল মানের জুতোর জন্য এতটুকু বরাদ্দ যথেষ্ট নয় । তবে আমারও তো ক্রয়ক্ষমতার একটা মাত্রা আছে !! বিশ্বাস ছিল, এই দামে জুতো পাবো 'ফার্স্ট ক্লাস' । বিশ্বমন্দা চলছে । চামড়ার দাম কমেছে কয়েকগুণ । বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য 'চামড়া শিল্প' নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন হয় না । জুম্মাবারে নিয়মিত মসজিদে গেলেই হয় । কোরবানী ঈদের পর থেকেই মসজিদ কর্তৃপক্ষ বেশি বেশি করে মুক্ত-হস্তে দান করার কথা বলছেন । কারণ, মূল আয়ের উৎস কুরবানীর চামড়ার বাজার দর এবার স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ম । সেই হিসেবে ভাবলাম, এবার তো জুতোর দাম নিশ্চয়ই কমবে । হায় ! আশা হলো দুরাশা । বাটা-র বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, কাঁচাবাজারের কাঁচামরিচের মতো জুতোরও অগ্নিমূল্য । পছন্দের জুতোর দাম ৫০০ টাকা । গন্ডারের চামড়ায় তৈরি কিনা তা অবশ্য জিজ্ঞাসা করা হয়নি । বুঝলাম, এ উচ্চমূল্যের প্রতিদান ক্রেতা-সাধারন পাবেন না । বছর শেষে শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন তিন অংকের 'ডিভিডেন্ড'-এর মাধ্যমে । এপেক্সও একই অবস্থা । মানে আর দামে কোনটাই জুতসই মনে হয় না । কয়েক জোড়ার মান মনে ধরলেও দামের উত্তাপ অনেক বেশি । অবশেষে, আড়াই হাজারের মধ্যে বাটা-র এক জোড়া 'টার্গেট' করলাম । ভাবলাম, কেনার আগে বাইরের বাজারেও একটু ঢু মারি । ইটালীর জুতো কেনার সাধ্য নেই । আর কোরিয়ান-থাই-চাইনিজ জুতো কেনার আগ্রহ নেই । এর আগের জুতো জোড়া থাই জেনেই কিনেছিলাম । তাও দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল 'বসুন্ধরা' থেকে । সে জুতো ছয় মাসও না টেকায় আবার 'ব্রান্ড'-এ প্রত্যাগমনের ভাবনা ।

এলিফ্যান্ট রোডের প্রথম দোকানটায় ঢুকেই আসলে ফাঁদে পা দিলাম । বলাবাহুল্য, সে ফাঁদ এড়ানোর মতো যথেষ্ট মেধাবী এই অধম নয় । আটশত থেকে শুরু করে আট হাজার টাকা দরের জুতোর 'ট্রায়াল' দেয়া শেষ । এবার তো পছন্দের কথাটা জানাতে হয় । 'হ্যাজার্ড' ব্র্যান্ডের এক জোড়া জুতো পছন্দ হলো, 'কান্ট্রি অব অরিজিন' নাকি কোরিয়া । দোকানদার ভাই দাম হাঁকলেন ৩,৬০০ টাকা । আমার নির্লিপ্ত জবাব, ১,৮০০ টাকা । বিক্রেতার ভাবখানা দেখে মনে হলো, আমি যেন তাকে চপেটাঘাত করেছি । তবুও পরম সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে তিনি ২,০০০ টাকা প্রস্তাবমূল্যের জুতো গছানোর সংকল্পে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন । কথা না বাড়িয়ে পা বাড়ালাম বাটা-র পথে । জুতোর দামও সেই সাথে খসে পড়লো তারকা পতনের চেযেও দ্রুততায় । ৩,৬০০ টাকা প্রস্তাবমূল্যের জুতো ১,৮০০ টাকায় বেচতে বিক্রেতার এখন আর কোন আপত্তি নেই । কি আর করা । স্বভাবসুলভ ভাবেই মনো হলো, 'ইস্‌, দামটা আসলে ১,২০০ বলা উচিত ছিল' ।

দামে ধরা খেলেও মানে হয়তো ধরা খাইনি, বিশ্বাস ছিল সেটা । নাহ্! আয়ু মাত্র দু'মাস স্থায়ী হলো । অর্ধেক আয়ুষ্কালের সমাপ্তি ঘটেছে, গত ২৮ এ জুলাইয়ের বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় । আর চুড়ান্ত মৃত্যুঘন্টা ঘটেছে গতকালের বৃষ্টিতে । বগলদাবা করেও বাঁচাতে পারিনি ।

অথচ শৈশব-কৈশোরে পরিহিত জুতোগুলো কতই না ব্যবহারপোযোগী ছিল ! কত অযত্নে-অবহেলায় ব্যবহার করতাম । রোদ, বৃষ্টি, ধূলো, কাদা কিছূতেই বাধ মানতাম না । টিকে যেত, তলাটা ক্ষয় না হওয়া পর্যন্ত । কমপক্ষে এক বছরতো বটেই । শুধু বাটা নয়, জাম্প কেডস্, বেইলী কেডস্, জাগুয়ার, এপেক্স । সবগুলোই উনিশ-বিশ মাত্রায় ভাল ছিল । আর এখন ??

৬,৮০০ টাকা স্কেলে চাকুরী করে দুই মাস অন্তর জুতো কেনা সম্ভব নয় । সে জুতোয় পা ভরলেও পেটটাকে হয়তো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে । জুতোর স্থায়িত্ব হ্রাস পাবার খানিকটা দায় সরকারেরও । নিয়মিত জুতো-যুগলকে যদি পানিতে হাবুডুবু খেতে হয়, তবে আয়ু তো কিছুটা কমবেই । আছে এবড়ো-থেবড়ো রাস্তার ভোগান্তি । মুড়ির টিনে সহযাত্রীদের পায়ের চাপা । তাই সরকারের কাছে মহার্ঘ-ভাতার মতো পাদুকা-ভাতা দাবী করা অযৌক্তিক হবে না । পাদুকার স্থায়িত্ব-বীমার ব্যবস্থাও বীমা কোম্পানীগুলোর জন্য ভাল ব্যবসা হতে পারে । কর্পোরেট চুক্তি, 'বাটা বনাম ঢাকা ইন্স্যুরেন্স' ।

দুঃখ-ক্ষোভ-অনুভূতির কথা লিখলাম । আরেক জোড়া জুতো কিনবো । এবার বাজেট ৫০০ টাকা বাড়িয়েছি । ৩,০০০ টাকা দামের মধ্যে মানসম্মত জুতো চাই । কমপক্ষে ১ বছর স্থায়িত্বের নিশ্চয়তাসহ । ব্লগার বন্ধুরা পরামর্শ দিন । দুএকজন জুতো ব্যবসায়ী ব্লগার বন্ধুও থাকতে পারেন । তারা হয়তো বলতে পারবেন, ভাল জুতো চেনার উপায় কি? তবে গামবুটের পরামর্শ পরিত্যাজ্য ।
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×