
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই কি ভারতের বর্তমান Gen-Z মুভমেন্ট থামিয়ে দিতে যথেষ্ট? আমার তা মোটেও মনে হয়না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হয়ত কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে বটে কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার এই করুণ পরিণতির সংস্কার? নিয়োগ বানিজ্য? দূর্নীতি? জবাবদিহিতার সরকার ব্যবস্থা?
এরপর রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকদের নানান ধরণের আন্দোলন। মনিপুর,কৃষক আন্দোলন,সিএএ/এনআরসি বিরোধী আন্দোলন তো বহুদিন ধরে রয়েছে। ভারত সরকারের বর্তমানে কোন বন্ধু প্রতিবেশি নেই,পৃথিবীজুড়ে ভারতীয় নাগরিকদের ছোট করে দেখা হচ্ছে,অপমান অপদস্ত।
আমার মনে হয়না এত কিছুর পরেও মোদি সরকার কিংবা বিজেপি টিকে যেতে পারবে দীর্ঘ সময়ের জন্য। বৈশ্বিক বিপ্লব,রাজনৈতিক সামাজিক কালচারাল ও টেক বিপ্লবের পরে নতুন ভাবনা ও নতুন দিনের রাজনীতি করতে না পারলে টিকে থাকা দুস্কর হয়ে পড়বে।
মোদি'জি বা বিজেপি হয়ত সাময়িক ভাবে সব ম্যানেজ করে নিতে পারবে,কিন্তু ভবিষ্যৎ?
ভারতের জনগণ ইতিমধ্যে স্বাধীনতা অনুভব করা শুরু করেছে,তারা মোদি কিংবা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ আন্দোলন দূর্গ গড়ে তুলেছে তা আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাই। ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে,যে মোদি অমিত শাহ দের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভয়ে জনগন সমুদ্রের পাড়েও মন খুলে গাইতে পারতোনা সেই ভূখণ্ডের তরুণরা মোদি ও বিজেপি সরকারকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে গদি নড়িয়ে দিলো।
হয়ত শ্রীলংকা,নেপাল,বাংলাদেশের মত একইরকম হবেনা,তবে এই বিপ্লবের শেষ ফসল হবে মোদি সরকার বা বিজেপির পতনের মধ্যে দিয়ে।
তবে বিজেপি সরকার বা মোদি,অমিত শাহ'রা মনে করেন তারা ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকবেন কিংবা ক্ষমতার অগ্রভাগে তাহলে কিছু পদক্ষেপ তাদেরকে নিতে হবে।
স্যাক্রিফাইসের তালিকা বাড়াতে হবে,রাজনৈতিক,রাষ্ট্রীয়,সামাজিক,পারিবারিক বিষয়গুলোতেও ফোকাস দিতে হবে।
সর্বপরি নিজেরা সেচ্ছায় এমন একটা সংস্কারপন্থী ক্যাবিনেট গঠন করা নিজেদের উদ্যোগে,যাতে করে কুয়েশ্চন করার মত এবিলিটি না দাঁড়ায়,এমন সিচুয়েশন দীর্ঘ সময়ের জন্য বিজেপি সরকার বা মোদি সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হতে পারে।
তবে বিজেপি কতটুকু নিজেদের সংস্কার করতে পারবে,মোদি'জি অমিত শাহ,অজিত দোভালরা স্যাক্রিফাইস করতে পারবেন সেটাই দেখার বিষয়। কারণ এটা শুধুমাত্র শাসনের বিষয় ও নয়,বরং রাজনৈতিক সক্ষমতা,ইগো এবং আত্মমর্যাদার বিষয় ও।
তবে মোদি বা বিজেপি সরকারের স্যাক্রিফাইসই মূলত নির্ধারণ করবে তারা কতটা নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার মসনদে সার্ভাইব করবেন।
বিপ্লবী তরুণ-তরুণীদের প্রতি সংহতি
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




