দাশ গুপ্তার রসালো এবং অমৃতের মত মিষ্টির উতস ছিল খুবই গোপন । এই গোপন তৈরীর প্রণালী ও কাউকেই বলত না । আসলে ওর কারখানাই ছিল না, ছিল এক জাদুর হাড়িঁ ! হাড়িঁ উপুড় করিবা মাত্র মিষ্টি পরিতে বাধ্য । গুপ্তার এহেন কর্মকান্ড তার পরিবারের অবগতই ছিল । সেই অর্থে নিবোর্ধ -বোকা-সরেশ গুপ্তা অথার্ত দাশ গুপ্তার ছেলেটিও বাদ রইল না ।
একদিন সান্ধ্যাক্ষণে খুবই জরুরী মোকদ্দমার ইসতিহার এর জন্য বিপদে পড়ে একমাত্র বিশ্বাস করার যোগ্য পুত্রের হাতে রাজ্য ভান্ডার তথা মিষ্টির দোকার অপর্ণ করে আপন পথে পাঁ বাড়াল । পুত্র জীবনের প্রথম পিতার দেওয়া দায়িত্ব সাড়া অঙ্গে পাতিয়াঁ নিল । পিতা ঘুণাক্ষরেও টের পেল না, ভবিষ্যত কি অনাংক্ষিত অনাচার ডেকে আনছে । তবে পিতার ভয়ের অন্ত ছিল না, তাই পূর্বে হতেই হাড়িঁটি অতিব সুরক্ষিত জায়গায় রেখেছে যেখানে কেচোঁ, সাপ কিংবা বেজী কিংবা নেংটি ইদুরঁ ব্যতীত কোন প্রানীরই জানা অসম্ভব ছিল ।
এই তল্লাটে গুপ্তার যেরকম বন্ধু ছিল তেমনি শত্রুও ছিল । যার মধ্যে লাল মিয়া ছিল ঘোরতর বিরোধী । এত মিষ্টি একা কিভাবে দাশ গুপ্তা বানায় তারই পেছনে লেগে থাকে সারাটা সময় । লাল মিয়া আবার রাজার পায়েক সুতরাং বায়েস্কোপ দেখা ছাড়া আর কোন কর্ম সম্পাদন করে না ।
পিতর অনুপস্থিতিতে (Abwesenheit (die) (absence)(আবভেসেনহাইট)) লাল মিয়া গুপ্তার গোপন রহস্য ভেদ করিবার চিন্তা করল । বোকা পুত্রকে যদি একবার বকের মত বাকাঁনো যায় তাহলে গাছেল মূল সমূলে উতপাটন আবশ্যিকভাবে সহজ হইবেক । যেই চিন্তা সেই কারবার ।
লাল মিয়া বেকুব পাবলিককে পেয়ে প্রশ্নবান তীর থেকে ছুড়ঁতে থাকে । জবাব দিতে দিতে দাশ পুত্রের অবস্থা নাকাল । শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাখতে না পেরে বলেই বসল :
''আমি বলব কেন ?যে, আমার পিতার একটি রহস্যাবৃত হাড়িঁ আছে । আমি বলব কেন ? যাকে পিতা সাধ করে মিষ্টির হাড়িঁ বলে সম্বোধন করে । আমি বলব কেন ? আর হাঁড়ি উপুড় করলে মিষ্টি ঝাকে ঝাকেঁ পড়ে। আপনি কি আমাকে গাধাঁ পেয়েছেন, আমি কি এতই বোকা এত বড় মিথ্যা কথা আপনার সাথে ভাগাভাগি করব । আমি বলব কেন? পিতা আমাকে এই ব্যাপারে কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন । আমি বলব কেন?
যাবেন নাকি পায়েককে পয়গম দিব ।
লাল মিয়া এহেন অপমানে অপমানিত হয়ে, দ্রুত প্রস্থান করল ।
বি:দ্র: লাল মিয়া আরও একজন ব্লগের সদস্য আছেন । তবে তাকে উদ্দেশ্য করে এটি রচিত নয় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






