somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাপমোচন

২২ শে আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ছেলেটা যে স্কুলে পড়ে, কাজের ছেলেটাও সেখানে পড়ে (অবশ্য বাইরের মানুষের সামনে আমি ভুলেও কখনো ‘কাজের ছেলে’ শদটা উচ্চারণ করি না)। এ কারনে সবাই আমাকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখে, আমিও ব্যাপারটা খুব এনজয় করি। এসব কাজে ভাল নাম ফাটে, সমাজে স্ট্যাটাস বাড়ে। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আমি দু’জনকে গাড়িতে করে স্কুলে নামিয়ে আসি। ছেলেকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, স্কুলের সবচেয়ে নামী টিচারকে হাউস টিউটর হিসেবে রেখেছি। ছেলে পড়তেই চায় না, সারাদিন ভিডিও গেম আর কম্পিউটার নিয়ে মেতে থাকে। আমি মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হই, আবার ভাবি- খারাপ কী, হাইটেকের সাথে তো পরিচয় হচ্ছে। আমাদের সময়ে মায়েরা ছিল মূর্খ, কিন্তু সন্ধ্যার পর ঠিকই তারা সন্তানের পড়ার টেবিলে বসে থাকতেন। এখন মায়ের শিক্ষিত, কিন্তু সন্তানের জন্য তাদের সময় কই। আমার স্ত্রী ব্যস্ত তার জগত নিয়ে। সে জগতের বড় একটা অংশ জুড়ে আছে হিন্দী চ্যানেল আর শহরের নামী সব পার্লার। অবশ্য এখন যুগটাই প্যাকেজের, টাকা খরচ করলে ছেলের পড়াশোনা নিয়ে ভাবতে হবে না।

স্কুলের রেজাল্ট হবে, আমি আমার ছেলে আর কাজের ছেলে দুইজনকে নিয়ে রেজাল্ট আনতে গেলাম। রেজাল্ট দেখে রীতিমত চমকে গেলাম, কাজের ছেলেটা দেখি আমার ছেলের চেয়ে ভাল রেজাল্ট করেছে। সবাই এসে আমার খুব প্রশংসা করল- রনী সাহেব, আপনার কোন তুলনা হয় না। আপনি নিজের ছেলের সাথে কাজের ছেলের কোন প্রভেদ করেন না। সত্যি আপনার মত মানুষের সমাজে খুবই দরকার। আমি হাসিমুখে সব প্রশংসা শুনলাম, যদিও আমার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছিল। বাসায় ফিরে দেখি আমার স্ত্রী তার সিরিয়ালে মত্ত, মেজাজ আরও খিঁচে গেল। আমার মুখে স্পষ্ট বিরক্তি, স্ত্রী বলল- কী হয়েছে তোমার, এমন লাগছে কেন। আমি খুবই ঠান্ডা মাথার মানুষ, কখনো খুব বেশি উত্তেজিত হই না। নিরুত্তাপ কন্ঠে বললাম- ছেলেটা তো সারা জীবন আমাদের বাসায় থাকবে না, এক সময় না এক সময় ওর ঠিকই রিয়েলিটি ফেস করতে হবে। এসব পড়াশোনা করে ওর আসলে কোন লাভ হবে না। আর কাককে ময়ূরের পুচ্ছ পরালে সে’তো ময়ূর হবে না। সে না পারবে কাকের দলে থাকতে, না পারবে ময়ূরের দলে থাকতে। ওকে পড়াশোনা করানো মানে কাককে নকল ময়ূর বানানো। কি বল? আমার স্ত্রী আনমনে বলল- তুমি যা ভাল মনে কর, তার চোখ তখন ‘কাহানি ঘর ঘর কি’-তে
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×