somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রীফাত
সাধারণ একজন মানুষের কথা

সেবাখাত হোক শিল্পভিত্তিক

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"কত ধানে, কত চাল"- এই প্রবাদ বাক্যকে অনেক সময় ইংরেজিতে মজা করে বলা হয়- "হাউ মেনি পেডি, হাউ মেনি রাইস"। আর আমি এই মুহূর্তে চাইনিজ কমলা খেতে খেতে ভাবছি- "হাউ মেনি চাইনিজ কমলা, হাউ মেনি বিচি"।
এই কমলা আকারে ছোট, রসালো, বিচি নেই বললেই চলে। চীনাদের নিয়ে আমার বিস্ময়ের অন্ত নেই। ওরা সাইজে ছোট, কিন্তু বুদ্ধিতে বড়। আমার মনে আছে, আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার ধারণা ছিল, কেবলমাত্র বড়লোক-দের বাসাতেই কালার টিভি আর ফ্রিজ থাকে। আজ আমার ছোটবেলার সংজ্ঞাতে বাংলাদেশে বড়লোক খুঁজতে গেলে সংখ্যাটা কোটি ছাড়াবে। আর এর পিছনে রয়েছে চাইনিজ পণ্যের ব্যাপক অবদান। স্যামসাং বা আইফোন এর মত দামী স্মার্টফোন ইউজ করার সাধ্য আমার কোনদিন হবে কিনা জানি না, তবু যে আমি একটা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারছি সেটাও তো চাইনিজ।
বিজনেসে প্রাইসিং স্ট্রাটেজি'তে আগে কস্ট এস্টিমেট করে, তার উপর মার্ক-আপ বসিয়ে প্রাইস নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চীনাদের হিসেব আলাদা, তারা আগে বায়ারকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কোন দামে কিনতে রাজি আছ? তারপর তারা কস্ট এস্টিমট করে। চীনারা একইসাথে ইনোভেটর এবং কপিয়ারও। জার্মানি আর জাপান বুলেট ট্রেন বানিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকে কখন চীন কপি করে ফেলে। কিন্তু চীনের কাছে বিক্রি না করেও উপায় নেই, ১৩০ কোটি লোকের দেশের বাজার। কেনার ৬ মাসের মধ্যেই সেই প্রযুক্তি কপি করে ফেলবে, আর ৩ মাসের মধ্যে ইনোভেট করবে । চীন এখন আর Ape Syndrome এ ভোগে না, ওরাও ব্রান্ডিং ও ইনোভেশন বুঝে গেছে। লেনোভো আর আলিবাবা এখন ডেল আর আমাজনকে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে।
সুতরাং চীনকে আমাদের দরকার। আবার চীন আমাদের ভয়ের কারন। চীনের কারনে আমাদের ক্ষুদ্র প্রযুক্তি শিল্প দাঁড়াতে পারছে না। এতদিনে আমাদের ইউপিএস, আইপিএস, ব্যাটারি শিল্প দাঁড়িয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু চীনের মত সস্তায় পণ্য উৎপাদন আমাদের দ্বারা সম্ভব না। ধোলাইখালকে কেন্দ্র করে আমরা একটা ভাইব্রেন্ট ইলেকট্রনিক শিল্প গড়ে তুলতে পারি। আর যে পণ্যগুলো আমরা বানাতে পারি, সেগুলো চীন থেকে আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যেতে পারে। আমরা না হয় একটু বেশি দামেই কিনলাম।
আগে আমাদের কপি শিখতে হবে। কপি করতে করতে আমাদের একটা শিল্প দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর আমরা আইসি বেসড প্রডাক্ট, ডিউরেবল প্রডাক্টে যাব। ততদিনে আমাদের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এ যাবে। এম আই টি, হাভার্ড থেকে আমাদের গ্রাজুয়েটরা ফেরত আসবে। ততদিনে আমরা ইনোভেশনে চলে যাব। নামকরা বিজনেস স্কুলের ছেলে-পেলে কাজ করবে ব্র্যান্ডিং এর।
চীনের জিডিপি'র ৯০ ভাগ আসে শিল্প ও সেবাখাত থেকে,বাংলাদেশের জিডিপি'র ৮৪ ভাগ আসে এই দুটি খাত থেকে, এর মধ্যে সেবাখাতের অবদান প্রায় ৫৪ শতাংশ। বিশ্বের সব উন্নত দেশের জিডিপি'র মেজর কন্ট্রিবিউশন আসে সেবাখাত থেকে। সবেমাত্র আমরা নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের কাতারে প্রবেশ করেছি , কিন্তু আমাদেরও জিডিপি'র মেজর কন্ট্রিবিউশন আসে সেবাখাত থেকে। কারন, শিল্প খাতে ফোকাস না করেই আমরা সেবাখাতে চলে গেছি। সেবাখাতকেন্দ্রিক আমাদের এমন একটা ইকনোমি গড়ে উঠছে, যেটা শিল্পখাত-ভিত্তিক না। আর এর ব্যাকওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশনে রয়েছে সস্তার চীনা পণ্য। আমাদের সেবাখাত মূলত সওদাগরি, আমরা চীন থেকে সস্তায় পণ্য কিনে এখানে বিক্রি করছি। আমাদের বাজার রয়েছে, সে বাজারে চাহিদা রয়েছে, সে চাহিদার যোগানও হচ্ছে, কিন্তু সেটা হচ্ছে সওদাগরির মাধ্যমে। আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে, সেটা কপি করেই হোক আর যেভাবেই হোক। উৎপাদনে গেলে শিল্প-ভিত্তিক একটা সেবাখাত পাব, যেটা হবে অনেক বেশি সাসটেইনেবল। বড় ধরনের এমপ্লয়মেন্ট হবে, রিসার্চ হবে, নিজের বাজারের গন্ডি পেরিয়ে আমরা অন্য বাজারে প্রবেশ করব।
চীন আমাদের আইডল হোক। কিন্তু আমরা যেন চীনের ডল না হয়ে যাই। আগামীর প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×