somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলাম না

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কতগুলো প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি | কোনো সন্দেহ নেই যে, একাত্তরে পাকিস্তান প্রেমীরা খুন,ধর্ষন,হত্যা,লুটপাটসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল | সে জন্য তারা গঠন করেছিল রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটির মতো কতগুলো সংগঠন | কিন্তু যে প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজছি তা হল :

ক. রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটি সবগুলো নিশ্চয় একটি একিভূত সংগঠন ছিল না | যেমন, শান্তি কমিটি গঠিত হয় এপ্রিল মাসে | মে মাসে গঠিত হয় রাজাকার এবং সেপ্টেম্বরে অধ্যাদেশ জারি হয় | রাজাকার ইষ্ট পাকিস্তান অর্ডন্যান্স নং দশ, উনিশশত একাত্তর আদেশবলে গঠিত হয় | আল বদর এবং আল শামস কোন মাসে গঠিত হয়?

খ. কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সাংগঠনিক সদস্য ও কর্মীদের তালিকা আমরা দেখতে পাই ৩৪ জন:
http://www.muktadhara.net/page42.html
অথচ উইকিপিডিয়া তে উল্লেখ করা হয়েছে ২১ জন এবং শান্তি কমিটির সদর দপ্তর ছিল মগবাজার |
Click This Link

গ. ইসলামি ছাত্র সংঘ এর সদস্য সংখ্যা ছিল ২০ জন এবং আল-বদর হাই কমান্ড বলতে এদেরকেই বোঝানো হয় |এদের মাঝে ক্রমানুসারে ১.নিজামি ২.মুজাহিদ,৩.মীর কাশেম,৪.ইউনুস উল্লেখযোগ্য | তবে, শান্তি কমিটির কোন সদস্য এখানে নেই বা এই কমিটির কোন সদস্য শান্তি কমিটিতে নেই | আল-শামস বাহিনীর সদস্য কতজন ছিল তা কি কারো জানা আছে অথবা এ সম্পর্কিত অনলাইনে কোন পোষ্টিং ?

ঘ. আল-শামসের কেও কি শান্তি কমিটির সদস্য ছিল অথবা শান্তি কমিটির কেও আল শামসের ?

ঙ. শান্তি কমিটি, আল-বদর,আল-শামস এই কমিটিগুলো কি কোন অধ্যাদেশ বলে জারি করা হয়েছিল ?

চ. রাজাকার ইষ্ট পাকিস্তান অর্ডন্যান্স নং দশ, উনিশশত একাত্তর আদেশবলে গঠিত হয় এবং এর সাংগঠনিক কার্য এবং প্রশিক্ষনের কথাও উল্লেখিত রয়েছে | কসাই টিক্কা খান কতৃক গঠিত মেজর জেনারেল জামশেদের নেত্রীত্বে রাজাকারের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয় আব্দুর রহিমের উপর | কিন্তু রাজাকারের বাকি সাংগঠনিক সদস্য কারা ছিল ? শান্তি কমিটির, বদর বাহিনীর, মালেক বাহিনীর সদস্যদের তালিকা দেয়া থাকলেও রাজাকারের সাংগঠনিক পদবি দখলকারীদের তালিকা কোথায় ? অথচ রাজাকার বাহিনী ইষ্ট পাকিস্তান অর্ডন্যান্স নং দশ, উনিশশত একাত্তর আদেশবলে গঠিত হয় এমনকি তাদের নিজামি কতৃক সাক্ষরিত পরিচয়পত্র ছিল | তাছাড়া, দাবিতে কিন্তু আমরা বলি , "রাজাকারের ফাঁসি চাই" |

ছ. রাজাকার,আল-বদর,আল-শামস,শান্তি কমিটি,মালেক কমিটি,এডুকেশন রিফর্ম কমিটি ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল | যেমন কসাই টিক্কা খান কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়ে এডুকেশন রিফর্মিং কমিটি গঠন করেছিল যেন বাংলা মনোভাবি শিক্ষকদের শায়েস্তা করা যায় | রাজাকার পরিচালিত হতো সামরিক বাহিনী দারা | তারা প্রত্যক্ষ অস্ত্র চালনা করত | আল-শামস,আল-বদর,শান্তি কমিটি তাদের সাংগঠনিক পরিচালনার তফাং কোথায় ছিল অর্থাং কেন তারা আলাদা আলাদা সংগঠন ?

জ. নিন্মোক্ত কয়টি দল যে একাত্তরে মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিল তা নিয়ে কারো কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয়:
১. রাজাকার (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা জানা নেই)
২. আল- বদর (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা ২০ জন )
৩. আল শামস (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা জানা নেই)
৪. শান্তি কমিটি (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা ৩৪ অথবা ২১ জন )
৫. সেন্ট্রাল পিস এন্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিস (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৬ জন)
৬. মালেক বাহিনী (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ২ জন)
৭. এডুকেশন রিফর্মিং কমিটি (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৭ জন)
৮. ফিজিক্যাল এডুকেশন সেন্টারের পাকিস্তানি দোসর (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৮ জন)
৯. আ.ই.আর এর পাকিস্তানি দোসর (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৩ জন)
ও অন্যান্য সংস্থা |

সে যাই হোক, যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলাম না সেগুলোর উত্তর পেলে হয়তো একাত্তরের একটা চিত্র পাওয়া যাবে | কারো কাছে তথ্য থাকলে শেয়ার করে সহায়তা করবেন |

পরিশেষে, দল মত নির্বিশেষে আত্মীয়-পরিজন সম্পর্ক উর্দ্ধে রেখে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপকর্মে জড়িত সকল অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি চাই | আমরা অন্তরে যে যেই দলেরই মনোবৃত্তি পোষন করি না কেন এক্ষেত্রে কোন আপোষ না করে আসুন প্রতিটি দলের মধ্য থেকে এসব অপরাধী চিহ্নিত করি |
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×