কতগুলো প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি | কোনো সন্দেহ নেই যে, একাত্তরে পাকিস্তান প্রেমীরা খুন,ধর্ষন,হত্যা,লুটপাটসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল | সে জন্য তারা গঠন করেছিল রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটির মতো কতগুলো সংগঠন | কিন্তু যে প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজছি তা হল :
ক. রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটি সবগুলো নিশ্চয় একটি একিভূত সংগঠন ছিল না | যেমন, শান্তি কমিটি গঠিত হয় এপ্রিল মাসে | মে মাসে গঠিত হয় রাজাকার এবং সেপ্টেম্বরে অধ্যাদেশ জারি হয় | রাজাকার ইষ্ট পাকিস্তান অর্ডন্যান্স নং দশ, উনিশশত একাত্তর আদেশবলে গঠিত হয় | আল বদর এবং আল শামস কোন মাসে গঠিত হয়?
খ. কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সাংগঠনিক সদস্য ও কর্মীদের তালিকা আমরা দেখতে পাই ৩৪ জন:
http://www.muktadhara.net/page42.html
অথচ উইকিপিডিয়া তে উল্লেখ করা হয়েছে ২১ জন এবং শান্তি কমিটির সদর দপ্তর ছিল মগবাজার |
Click This Link
গ. ইসলামি ছাত্র সংঘ এর সদস্য সংখ্যা ছিল ২০ জন এবং আল-বদর হাই কমান্ড বলতে এদেরকেই বোঝানো হয় |এদের মাঝে ক্রমানুসারে ১.নিজামি ২.মুজাহিদ,৩.মীর কাশেম,৪.ইউনুস উল্লেখযোগ্য | তবে, শান্তি কমিটির কোন সদস্য এখানে নেই বা এই কমিটির কোন সদস্য শান্তি কমিটিতে নেই | আল-শামস বাহিনীর সদস্য কতজন ছিল তা কি কারো জানা আছে অথবা এ সম্পর্কিত অনলাইনে কোন পোষ্টিং ?
ঘ. আল-শামসের কেও কি শান্তি কমিটির সদস্য ছিল অথবা শান্তি কমিটির কেও আল শামসের ?
ঙ. শান্তি কমিটি, আল-বদর,আল-শামস এই কমিটিগুলো কি কোন অধ্যাদেশ বলে জারি করা হয়েছিল ?
চ. রাজাকার ইষ্ট পাকিস্তান অর্ডন্যান্স নং দশ, উনিশশত একাত্তর আদেশবলে গঠিত হয় এবং এর সাংগঠনিক কার্য এবং প্রশিক্ষনের কথাও উল্লেখিত রয়েছে | কসাই টিক্কা খান কতৃক গঠিত মেজর জেনারেল জামশেদের নেত্রীত্বে রাজাকারের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয় আব্দুর রহিমের উপর | কিন্তু রাজাকারের বাকি সাংগঠনিক সদস্য কারা ছিল ? শান্তি কমিটির, বদর বাহিনীর, মালেক বাহিনীর সদস্যদের তালিকা দেয়া থাকলেও রাজাকারের সাংগঠনিক পদবি দখলকারীদের তালিকা কোথায় ? অথচ রাজাকার বাহিনী ইষ্ট পাকিস্তান অর্ডন্যান্স নং দশ, উনিশশত একাত্তর আদেশবলে গঠিত হয় এমনকি তাদের নিজামি কতৃক সাক্ষরিত পরিচয়পত্র ছিল | তাছাড়া, দাবিতে কিন্তু আমরা বলি , "রাজাকারের ফাঁসি চাই" |
ছ. রাজাকার,আল-বদর,আল-শামস,শান্তি কমিটি,মালেক কমিটি,এডুকেশন রিফর্ম কমিটি ইত্যাদি বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল | যেমন কসাই টিক্কা খান কতিপয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়ে এডুকেশন রিফর্মিং কমিটি গঠন করেছিল যেন বাংলা মনোভাবি শিক্ষকদের শায়েস্তা করা যায় | রাজাকার পরিচালিত হতো সামরিক বাহিনী দারা | তারা প্রত্যক্ষ অস্ত্র চালনা করত | আল-শামস,আল-বদর,শান্তি কমিটি তাদের সাংগঠনিক পরিচালনার তফাং কোথায় ছিল অর্থাং কেন তারা আলাদা আলাদা সংগঠন ?
জ. নিন্মোক্ত কয়টি দল যে একাত্তরে মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিল তা নিয়ে কারো কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয়:
১. রাজাকার (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা জানা নেই)
২. আল- বদর (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা ২০ জন )
৩. আল শামস (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা জানা নেই)
৪. শান্তি কমিটি (কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যা ৩৪ অথবা ২১ জন )
৫. সেন্ট্রাল পিস এন্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিস (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৬ জন)
৬. মালেক বাহিনী (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ২ জন)
৭. এডুকেশন রিফর্মিং কমিটি (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৭ জন)
৮. ফিজিক্যাল এডুকেশন সেন্টারের পাকিস্তানি দোসর (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৮ জন)
৯. আ.ই.আর এর পাকিস্তানি দোসর (প্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা ৩ জন)
ও অন্যান্য সংস্থা |
সে যাই হোক, যে প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলাম না সেগুলোর উত্তর পেলে হয়তো একাত্তরের একটা চিত্র পাওয়া যাবে | কারো কাছে তথ্য থাকলে শেয়ার করে সহায়তা করবেন |
পরিশেষে, দল মত নির্বিশেষে আত্মীয়-পরিজন সম্পর্ক উর্দ্ধে রেখে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপকর্মে জড়িত সকল অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি চাই | আমরা অন্তরে যে যেই দলেরই মনোবৃত্তি পোষন করি না কেন এক্ষেত্রে কোন আপোষ না করে আসুন প্রতিটি দলের মধ্য থেকে এসব অপরাধী চিহ্নিত করি |

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


