ছোটবেলায় আপুকে দেখতাম লেখলেখি করতে । আপু তার লেখা কবিতাগুলা অতি উৎসাহে আমাকে আবৃতি করে শোনাতো । বুঝি আর না বুঝি শুনতে ভালই লাগতো আর আমি অবাক হয়ে ভাবতাম আপু এতো সুন্দর করে কেমন করে লেখে !!!!
তখন ক্লাস থ্রী-ফোরে পড়ি । আমকে লেখা-লেখির ব্যপারে আগ্রহী করার জন্য আপু আমাকে তার কাছে চিঠি লিখতে বলতো । আমিও নিজের ইচ্ছা মতো চিঠি লিখতাম । তারপর আপু সেইগুলো পড়ে হাজার-হাজার প্রশংসায় ভাসিয়ে দিতো ,আর আমার ছোট্ট মনটা হয়ে যেত অনেক বিশাল । পরে অবশ্য কিছুটা বড় হওয়ার পর(সম্ভবত ক্লাস টেন এ পড়ি) একদিন রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে ওই চিঠিগুলা আবিষ্কার করি, আপু যত্ন করে তুলে রেখেছিল লকারে!!!! তারপর ওই চিঠি পড়ার পরেতো হাসতে হাসতে প্রান যায় আর কি!!! কি-কি না লিখেছি আপুকে, আর এইগুলা পড়েই আপু কিনা এত্ত-এত্ত প্রশংসা করতো!!!!
সে যায় হোক, লেখালিখি বলতে ক্লাস সেভেন এর আগ পর্যন্ত কিছু ছড়া লিখেছিলাম তবে আপুকে দেখানোর সাহস পাইনি!!! সাধারণত খেলার সময় ছন্দ করে বলার জন্যই এইগুলা লিখেছিলাম । যেমন একটি ছড়া এমন --
গোল-গাল চেহারা
তাতেই কি পেয়ারা??!!
হতে পারে আম
নয়তো কালো-জাম
হতে পারে লিচু
নয়তো অন্য কিছু ।
তবে সম্পুর্ন কবিতা বলতে যেটা বোঝায় তেমন কিছু একটা লিখেছিলাম ক্লাস সেভেনে থাকতে । তাই ওইটাকেই মনে করি আমার লেখা প্রথম কবিতা হিসাবে। কবিতাটা ছিল বৃষ্টিকে নিয়ে । আজ এই বষ্টি দেখে আমার অই কবিতাটার কথা মনে পড়ে গেলো । সব থেকে মজার বিষয় হলো এই কবিতা আবৃতি করে দুইবার আমি স্কুলে কবিতা আবৃতি প্রতিযোগীতায় সেকেন্ড হয়েছিলাম!! কবিতাটা হচ্ছে--
কবে??
কৃষকরা আজ ভিজছে মাঠে,
মুরগীগুলো ভিজছে উঠানে ।
যেমন ফুটপাথে ভিজছে মানুষ
পাচ্ছেনা আশ্রয় ।
ধ্বনীরা আজ উপভোগ করছে বৃষ্টিকে ।
হয়তো আরাম কেদারায় বারান্দায় বসে চা এর কাপ হাতে ।
তাদের মনে হয়, এই বৃষ্টির শব্দে কত ছন্দ, কত সুর!!!!!
কিন্তু তারাতো জানেনা সেই সুরে ভাসছে লাখো গরীবের হাহাকার ।
যদি জানতো, তাহলে তারা উপভোগ করতোনা বৃষ্টিকে ।
তৈরি করতোনা কোন বিশেষ খাবার,
খোজ নিত গরীবদের ।
হয়তো তৈরি করে দিত ঘর, ভিজে কষ্ট পেতোনা তারা ।
কিন্তু ধ্বনীদের এই জ্ঞআন কবে হবে??
আমরা কবে দেখবো গরীবদের সুখ??
হয়তো এই জনমে নয়!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


