somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিউবার বিপ্লবের৬২ তম বার্ষিকী: বিশ্ব ইতিহাসের এক নজিরবিহীন অধ্যায়

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১লা জানুয়ারি কিউবা তার বিপ্লবের ৬২তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে।নিউ উপনিবেশবাদ,পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালের ১লা জানুয়ারি তাদের বিপ্লবের সফলতার শুরু।ফলস্বরূপ সাম্রাজ্যবাদের চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরশাসক বাতিস্তা তার সহযোগী সহ ডোমিনিকান রিপাবলিকে পালিয়ে যায়।এই বিপ্লবের মধ্যমে ৪৬৭ বছরের পড়ে কিউবানেরা তাদের দেশের অধিকার ফিরে পায়।১৫১০ সালে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যবাদ চেষ্টা করেছিল কিউবাতে আধিপত্য বিস্তারের এবং তারা সফলও হয়েছিল।১৮২৩ সালে থেকে শুরু হয়ে ২রা ডিসেম্বর ১৮৫০ সালে যখন মনোরো ডক্ট্রিন পরিপূর্ণ রুপ পরিগ্রহ করে তখন ল্যাটিন আমেরিকাতে স্পেনিশ এবং পর্তুগিজ সাম্রাজ্য বিস্তৃত।মনোরো ডক্ট্রিনের মুল থিউরি ছিল ওয়েস্টার্ন হেমেস্পেয়ারে আমেরিকা অন্য কারো আধিপত্য মেনে নিবে না।(কিউবার অবস্থান ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ৯০ মেইল দূরে) এরপর ১৯৮৯ সালের স্পেনিশ আমেরিকান যুদ্ধে স্পেনের পরাজয়ের মাধ্যমে কিউবার আধিপত্য আমেরিকার হাতে গড়ায়।
১৮৯৮ সালে স্পেনীয়-আমেরিকান যুদ্ধের সমাপ্তি এবং ১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লবের বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়ে আমেরিকা কিউবার উপর সাম্রাজ্য শক্তি প্রয়োগ করে কিউবার প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রন নিয়েছিল এবং তারাই কিউবার আভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ করতো।১৯৫২ সালের ১০ই মার্চ মার্কিন চর বাতিস্তা সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতারোহন করলে কিউবার সবকিছুই মার্কিনিদের হাতে চলে যায়।
বাতিস্তা ক্ষমতায় আসার তার অর্জিত অবৈধ সম্পদ সুইস ব্যাংকে রাখার সুবিধার বিনিময়ে কিউবার সকল ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রন মার্কিনিদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল।এখন যেমন মার্কিনিরা তাদের কর্পোরেশনগুলুর সুবিধার জন্য বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ করে ঠিক ঐ সময়ে কিউবাতেও তারা সেই কাজটা করে কিউবার পুরু অর্থনীতির নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে নিয়ে নেয়।১৯৫০ সালের হিসেবে কিউবার ইউটিলিটি সেক্টরের ৮০%,খনি সম্পদের ৯০%,তেল সম্পদের ১০০%,গবাদিপশু সেক্টরের ৯০%,চিনি শিল্পের ৪০% এর নিয়ন্ত্রন মার্কিনীরা নিয়ে নেয়।১০ই অক্টোবর ফিদেল ক্যাস্ট্রো যেটাকে ব্যাখা করেছিলেন এভাবে যে, ১৯৮৯ সালে কিউবাতে মার্কিন হোল্ডীং এর পরিমান ছিল ৫ মিলিয়ন পেসো,১৯০৬ সালে সেটা দাঁড়ায় ১৬০ মিলিয়ন পেসোতে,এবং ১৯২৭ সালে সেটা ১.৫ বিলিয়ন পেসোতে গিয়ে ঠেকে,আমি মনে করি না দুনিয়ার কোন দেশ সাম্রাজ্যবাদীরা এত দ্রুত দখলে নিতে পেরেছে।তারা আমাদের সেরা ফসলি জমি,সমস্ত খনি,প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস, দখলে নিয়েছিল।এমনি সরকারী সেবা খাত টেলিফোন,রেলপথ,বিদ্যুৎ এসব কিছুর দখল নিতেও কার্পণ্য করেনি।
কিউবা দীপটি মুলত হয়েছিল মার্কিনিদের খেলার মাঠ।মাদক পাচার,মাফিয়া,পতিতাবৃত্তির স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিলো।এসব কিছুই হয়ে উঠেছিলো স্বৈরশাসক বাতিস্তার হাত ধরেই।তার আমলে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক ছিল নিরক্ষর,৭০% শিশু শিক্ষার আলো পাইনি।সবচেয়ে বেশি শোষণের স্বীকার হয়েছিল নারীরা।গ্রাম্য নারীদের শহরে নিয়ে এসে পতিতাবৃত্তির কাজে লাগানো হত।হাভানায় মার্কিনিরা গড়ে তুলেছিল ৩০০ এর অধিক পতিতালয়। এবং এসব পতিতালয়ে তারা বিক্রি করতো মাদক।
এই পরিস্থিতিতে ক্যাস্ট্রোর উত্থান।১৯৫৩ সালের ২৬শে জুলাই ক্যাস্ট্রো এবং তার ১৬৫ জন সহযোগি মিলে সান্টিয়াগোর মনকাডা মিলিটারি ব্যারাকে হামলা করে বাতিস্তাকে ক্ষমতা থেকে সড়নোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।যেটা ২৬শে জুলাই মুভমেন্ট নামে পরিচিত।এই অপরাধে ক্যাস্ট্রোকে ১৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়।দেশব্যাপী তার পক্ষে অব্যাহত প্রচারনার মুখে ২ বছর জেল খাটার পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়।এরপর তিনি ম্যাক্সিকোতে পালিয়ে যান।ওখানেই তিনি তার সহযোগিদের অর্গানাইজ এবং প্রশিক্ষন দিয়ে একটা সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তুলেন। ১৯৫৬ সালে বাতিস্তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সব প্রস্তুতি শেষ করে।তারা ৮২ জনের নেতৃত্বস্থানীয় একটা গ্রুপ গঠন করেন যার নেতৃত্বে ছিলেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো।এই গ্রুপে ছিল সিএনফুয়েগোস,রাউল ক্যাস্ট্রো,চে গুয়েভারা,বস্কো।নভেম্বর ১৯৫৬ সালে তারা নদীপথে মেক্সিকো থেকে কিউবার উদ্ধেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।কিউবাতে পৌঁছে তারা সিয়েরা মাউন্টেনের পথে ধরেন।যাত্রা পথে বাতিস্তা সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে ৮২ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জন বেঁচে ছিলেন।এরপরেই শুরু হয় গেরিলা যুদ্ধ।যে যুদ্ধে সরকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু হয়েছিল ২০,০০০ মানুষের।
বিপ্লবের পড়ে কিউবা শাসন করে ক্যাস্ট্রো,প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে(১৯৫৯-১৯৭৬)এরপর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৭৬ থেকে ২০০৮ অবধি।বিপ্লবের পরেই তিনি কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন।প্রথমে তিনি হাত দেন ক্যাসিনো এবং পতিতাবৃত্তি ব্যাবসায়।তিনি ক্যাসিনো এবং পতিতাবৃত্তি পুরুটাই বন্ধ করে দেন।তিনি মার্কিন মালিকাধিন সব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে নেন।এর মধ্যে ছিল ব্যাংক,টেলিফোন সংস্থা,তেল কোম্পানি( শেল এবং এসো)।ভুমির মালিকানা সীমিত করে দেন।সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে বানিজ্য চুক্তি করেন।শিক্ষা এবং চিকিৎসা ফ্রি করে দেন।কিউবা হল ল্যাটিন আমেরিকার প্রথম দেশ যেটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি থেকে মুক্ত হতে পেরেছিল।
আমেরিকান কর্মকর্তারা কিউবার বিপ্লব এবং ক্যাস্ত্রো সরকার বাস্তবায়িত সমাজতান্ত্রিক সংস্কারের সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাদের কিউবার মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ আক্রমণ হিসাবে দেখছিলেন।এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়া তাদের ঘাড়ে এসে নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়ে যায়। মার্কিনিরা এটা তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে ধরে নিয়েছিল।প্রেসিডেন্ট আইসেন হাওয়ার জানুয়ারি ১৯৬১ সালে কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। Program of Covert Action Against Castro এর আওতায় কিউবার সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা করেন।এই আইনের আওতায় ১৪০০ প্রবাসি কিউবানদের প্রশিক্ষন এবং অস্র সরবরাহ করে।জন এফ কেনেডির আমলে এই গ্রুপ ১৯৬১ সালে Bay of Pigs আক্রমন করে।যেটা ব্যার্থ হয়।এরপর কেনেডি প্রশাসন ১৯৬২ সালে কিউবার উপর অবরোধ আরোপ করে।এটা শুধু অর্থনৈতিক এবং বানিজ্য নিসেদাজ্ঞা ছিল না।এর আওতায় মার্কিন নাগরিকদের কিউবা ভ্রমনেও নিসেদাজ্ঞা আরোপ করে।সাবেক মার্কিন সহকারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লেস্টার ডি মালোরি এপ্রিল ৬,১৯৬০ সালে বলেছিলেন, কিউবার মানুষ ক্যাস্ট্রোকে সমর্থন করে।তার সমর্থন কমানোর উপায় হচ্ছে অবরোধের মাধ্যমে মানুষের কস্ট বাড়িয়ে দেওয়া।অর্থনীতিকে দুর্বল করার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে।অর্থ সরবরাহ বন্ধ করার মাধ্যমে মুদ্রাস্পিতি বাড়াতে হবে যাতে প্রকৃত আয় কমে যায় এবং দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।আর এতেই কিউবার জনগন ক্যাস্ট্রোর বিপ্লবের বিরুদ্ধে গিয়ে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিবে।
মার্কিন আরোপিত নিসেদাজ্ঞাই কিউবার অর্থনৈতিক প্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রানলয়ের ভাষ্য অনুযায়ী অবরোধের কারনে মোট ক্ষতির পরিমান প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার(২০১৪)।
বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও আর্থিক অবরোধ ছাড়াও আমেরিকানরা কিউবার সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অস্থিতিশীল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের কৌশল অবলম্বন করেছিল, যার মধ্যে রয়েছে কিউবার নির্বাসিতদের সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ পরিচালনা ও দ্বীপের অর্থনীতিতে নাশকতা, রাসায়নিক ও জৈবিক কাজে জড়িত করার জন্য অর্থ যোগানো,রাসায়নিক এবং জৈবিক অস্রের সরবরাহের মাধ্যমে কিউবার বিপ্লবকে ধংস করা। সিআইএ ৫০০ বারের অধিক ক্যাস্ট্রোকে হত্যা চেষ্টা করেছিল।
১৯৯১ সালে অবরোধ নিরসনের জন্য জাতিপুঞ্জের সাধারন অধিবেসনের সহযোগিতা চাই। বিগত ২৯ বছরে সাধারন যতবার ভোট হয়েছে ততাবারই কিউবার পক্ষে পুর্ন সমর্থন দেখানো হয়েছে।সর্বশেষ ২০১৮ অবরোধ নিরসন প্রস্তাবে ১৯৩টা দেশের ১৮৯টি দেশ কিউবার পক্ষে ভোট দেয়।একমাত্র আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইউক্রেন কিউবার বিপক্ষে ভোট দেয়। কিউবার উপর আরোপিত নিসেদাজ্ঞা জাতিপুঞ্জের মানবধিকার ঘোষণার আর্টিকেল ২(।।।), ১৩(IV) এবং ২৫(V) সরাসরি লংগন।একই অবস্থা তারা করে রেখেছে ইরান এবং ভেনিজুয়েলার উপরে।১৯৯৭ সালে American Association for World Health এর তদন্ত রিপোর্টেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কিউবার উপর আরোপিত অবরোধের কারনে কিবার সাধারন মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ।এমনকি কিউবার স্বাস্থ্য সেক্টর টার্গেট করে ১৯৯২ সালে আরোপিত নিসেদাজ্ঞার কারনে ঔষধ এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জামের চরম ঘাটতি দেখা দেয়।এটার মুল কারন ছিল কিউবার স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা ছিল ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলুর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত এবং ফ্রি।কভিড দুরবস্থার মধ্যে সেটা স্পষ্টভাবে প্রমান হয়েছে।কিউবা অবরোধের মধ্যে থেকেও তার স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাকে বিশ্বমানে উন্নিত করতে পেরেছে।যার ফলে কভিড অবস্থায় সে তার চিকিৎসকদের বিভিন্ন দেশে প্রেরন করেছে।
সৌভিয়েত রাশিয়ার পতনের পরে কিউবার অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় পতিত হয়।কারন কিউবার রপ্তানি বানিজ্যের ৮০% এর গন্তব্য ছিল সৌভিয়েত রাশিয়া এবং আমদানির পরিমান ছিল প্রায় ৪০%।সৌভিয়েত রাশিয়ার পতনের নতুন করে ১৯৯২সালে Cuban Democracy Act এবং ১৯৯৬ সালে the Helms-Burton Act এর আওতায় অবরোধ আরো কঠোর করা হয় যার ফলে কিউবা চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়।
এই জটিল সময়ে কিউবা অর্থনীতিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।যার ফলে সীমিত আকারে বিদেশী বিনিয়োগ,ছোট আকারে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ব্যাবসা,এবং পর্যটনকে উন্মুক্ত দেয়া হয়।এই সময়ে বায়োটেকনোলোজী সেক্টরে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করে।কিউবার বর্তমান হোটেল এবং রিসোর্টগুলু ঐ সময়ের বিনয়োগের ফসল যেগুলু এসেছিল মুলত স্পেন এবং কানাডা থেকে।এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হল সৌভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর সে অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে সমাজতন্ত্রকে আর ধরে রাখতে চাইনা।এত কিছুর পরেও কিছু কিছু সেক্টরে কিউবার সাফল্য অবিশ্বাস্য।যেমন কর্ম সংস্থান,চিকিৎসা,শিক্ষা,মাতৃমৃত্যু হার,শিশু মৃত্যুহার,শিশুর পুষ্টি।এসব ক্ষেত্রে কিউবার অবস্থান প্রায় মার্কিন সমাজের কাছাকাছি এবং কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন অবস্থা থেকেও উন্নত।বিশ্বব্যাংকের মতে কিছু কিছু সেক্টরে বিশেষ করে শিক্ষা,স্বাস্থ্য সোশ্যাল সার্ভিসের ক্ষেত্রে কিউবার সাফল্য উন্নত দেশ থেকেও ভালো।জাতিপুঞ্জের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের রিপোর্ট অনুযায়ী(২০১৭) হিউমান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে,ল্যাটিন আমেরিকাতে কিউবার অবস্থান সবার শীর্ষে। এর বাইরে ১৯৫৯ সাল থেকে কিউবা প্রায় ৩ লক্ষ হেলথ প্রফেশনালকে দুর্যোগ প্রবন দেশগুলুতে প্রেরন করেছে।২০২০ সালের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৫০,০০০ হেলথ ওয়ার্কার দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজ করে।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মত কিউবার স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা দুনিয়ার যে কোন দেশের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার সাথে তুলনীয়।
পশ্চিমা মূলধারার প্রেসের বাইরে, বিপ্লব হওয়ার পর থেকে কিউবা শান্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্যতা এবং মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার জন্য প্রকৃতপক্ষে খ্যাতিমান। বিশ্বব্যাপী আর কোথাও 'আন্তর্জাতিক সংহতির চেতনা এতটা গভীরভাবে গড়ে উঠেনি।
১৯৬৩ সালে কিউবা ‘ভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়ায় সংহতি কমিটি গঠন করে। এই সংগঠনের মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধে সময় কিউবা থেকে চিকিৎসক,প্রকৌশলী প্রেরন করে। কিউবান সরকার ছিল ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের অদ্বিতীয় সমর্থক।কিউবা প্রথম দেশ যে,১৯৬৪ সালে ফিলিস্তিনি লিবারেশান অর্গানাইজেশানকে স্বীকৃতি(১৯৬৪) দিয়েছিল।ফিলিস্তিন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য কিউবা ছিল সব সময় অবারিত।১৯৭৩ সালে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইজরায়েলি যুদ্ধে সিরিয়াকে সহায়তার জন্য ৪০০০ কিউবান সৈন্য সিরিয়াতে পাঠিয়েছিলেন ক্যাস্ট্রো সরকার। ২০১২ সালে ক্যাস্ট্রোকে গাজাতে ইজরায়েলি আগ্রাসনকে বলেছিলেন প্যালেস্টিনিয়ান হলোকাস্ট।যেটা দুনিয়ার অন্য কোন দেশের সরকার মুখ দিয়ে বের করার সাহস দেখায়নি একমাত্র ইরান ছাড়া।আফ্রিকার দেশগুলুর স্বাধিকার আন্দোলনেও ক্যাস্ট্রোর ভুমিকা ছিল বিশাল।ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় শক্ত আলজেরিয়ার শক্ত সমর্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।স্যান্ড ওয়ারের সময় আলজেরিয়ার পক্ষে কয়েক হাজার সৈন্য প্রেরন করেছিলেন ক্যাস্ট্রো।
বিগত ৬০ বছর কিউবা যুদ্ধ করতেছে মানবতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাবান এবং ক্রুয়েল শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।কিউবার জনগন গত ৬০ বছরে তাদের স্বাধীন স্বকীয়তাকে তথাকথিত উন্নয়নের নামে বিকিয়ে দেয়নি।এটাকেই বলে বিপ্লব এবং এটাকেই বলে দেশপ্রেম।সেই থেকে দুনিয়াকে তারা শেখাতে পেরেছে যে,লিবারেলিজম থেকে জাতীয়তাবাদ অনেক শক্তিশালী অস্র।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:২৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×