প্রিয় লেখক ব্লগার খায়রুল আহসান স্যার এর লেখা ছিল স্মৃতিচারণ মুলক তাই আমি আজকের একটি চিত্র তুলে ধরলাম । ভালোবাসা লেখকের প্রতি তিনি আমাদের নগরীকে এতো ভালোবাসেন তাই।।
কিছু কিছু জিনিস আজো আছে। কৃষ্ণা কেবিন।ভার্সিটির সুতিয়াখালি যাওয়ার শেষ মোড়ের গেইটে বিখ্যাত মালাই চা।আর এখনো আছে অনেক কিছু, কালিবাড়ি রোডে সেই মিষ্টি দোকান।তবে ট্রেন গুলোর নাম এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। শুধু যারা মুরুব্বি আছে। তদের মুখে শুনি।। আমাদের এক আংকেল ছিলো। তার চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে। তিনি ৭১ থেকে চাকরি করেন। আব্বুর অফিসে এম এল এস এস ছিলো। তার কাছে শুধু গল্প শুনতে যেতাম। আজ নাই ১১আপ ও নাই। সেভেন আপ ও নাই। শুধু বোতলে পাওয়া যায়। পান করার সেভেন আপ।অনেক কিছু বদলেছে।আবার অনেক নতুন যুক্ত হয়েছে।শ্যামা নামে একটা রোড আছে শ্যামা চরণ রোড।। আরো আছে বিপিন পার্কের নানান স্বাদের চা। তেতুল চা, মরিচ চা, ককটেল চা, আদা চা, মাল্টা চা, হরলিক্স চা, কমলা চা, আপেল চা, আঙুর চা, আরো আছে নানান পদের চা। আছে আমাদের বিখ্যাত শশী লজ।

হাওর জঙ্গল মহিষের শিং, এই তিনে ময়মনসিং- প্রবাদ প্রবচনে এভাবেই পরিচয় করানো হতো এক সময় ভারতবর্ষের বৃহত্তম জেলা ময়মনসিংহকে।ময়মনসিংহে রয়েছে প্রাচীন স্থাপনার অনবদ্য কীর্তি যার মধ্যে মুক্তাগাছার রাজবাড়ী, আলেকজান্দ্রা ক্যাসল, শশী লজ, সিলভার প্যালেস, রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি ও গৌরীপুর রাজবাড়ী বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়। তাছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ জাদুঘর, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, বিপিন পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি পর্যটকদের কাছে সমান ভাবে জনপ্রিয়। আর সব কিছু দেখা হয়ে গেলে মুক্তাগাছার মণ্ডা খেয়ে চলে আসতে পারেন।
আপনার যদি একটু ক্লান্ত লাগে যেতে পারেন আমাদের নদের ধারে । সেখানে আপনি পাবেন অভাবনীয় শান্তির ছোয়া। আর এই প্রাণ জুড়িতে যাবে। বারবার আসতে চাইবেন আমার ব্রহ্মপুত্র নদে।
মন্ডা নিয়ে একটি কিংবদন্তি লোকাচার কাহিনী রয়েছে। ময়মনসিংহ শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে মুক্তাগাছা। দুই শতাধিক বছর আগে মুক্তাগাছার প্রসিদ্ধ মন্ডার জনক গোপাল পাল এক রাতে স্বপ্নাদিষ্ট হলেন। শিয়রে দাঁড়িয়ে এক ঋষি তাকে আদেশ দিচ্ছেন মন্ডা মিষ্টি তৈরি কর। পরদির গোপাল ঋষির আদেশে চুল্লি খনন শুরু করলেন। দৈবাৎ উদয় হলেন সাধু। তিনি হাত বুলিয়ে দিলেন চুল্লিতে। শিখিয়ে দিলেন মণ্ডা তৈরির কলাকৌশল গোপালকে। দুধ ও চিনি দিয়ে তৈরি হলো মন্ডা। গোপাল তার নব উদ্ভাবিত মন্ডা পরিবেশন করলেন তৎকালীন মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর রাজদরবারে। মন্ডা খেয়ে মহারাজা পেলেন পরম তৃপ্তি , আর বাহবা দিলেন গোপালকে। মুক্তাগাছার গোপাল পালের মন্ডা। শুরু হলো মণ্ডার যাত্রা। গোপাল সম্বন্ধে জানা যায়, বাংলা ১২০৬ সালে তৎকালীন ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। নবাব সিরাজদৌলার মৃত্যুর পর গোপাল মাতৃভূমি রাজশাহীতে চলে আসেন। পরে বাংলা ১২৩০ সালে তিনি মুক্তাগাছায় বসত গড়েন। প্রথম মণ্ডা তৈরি হয় বাংলা ১২৩১ সালে।।

.এ জেলায় জন্মেছেন বেশকিছু বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ।মুক্তিযুদ্ধ কালীন আফসার বাহিনী নামে পরিচিতি আফসার উদ্দিন আহমেদ।মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় বিশাল এক বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া বাঙালি সুবেদার মেজর (অব.) আফসার উদ্দিন আহমেদ।
আনন্দমোহন বসু,তিনি ছিলেন বাঙালি রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক।সৈয়দ নজরুল ইসলাম,তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।অধ্যাপক ড. আনোয়ারুর রহমান খান,তিনি এ.আর খান নামেই বেশি পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম পথিকৃৎ ও বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী।যতীন সরকার,তিনি অসাধারণ বাগ্মীতার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়।হেমেন্দ্রমোহন বসু,তিনি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিস্ময়কর যান্ত্রিক প্রগতির বিভিন্ন নিদর্শনকে এদেশ প্রবর্তন করেন।
আব্দুল জব্বার,১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ।আবুল মনসুর আহমেদ,তিনি বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
আবুল কাসেম ফজলুল হক,বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ।।গোলাম সামদানী কোরায়শী,বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক ও অনুবাদক।এছাড়াও ময়মনসিংহ জেলা মৈমনসিংহ গীতিকা,মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদীনা, চন্দ্রাবতী, কবিকঙ্ক, এর জন্য বিখ্যাত।
____________________________________________________
তথ্য==কিছু নাম বিখ্যাত নাম গুলো উইকিপিডিয়া হতে নেওয়া। ইতিহাস, ও জীবনী উইকিপিডিয়া।
আমাদের ময়মনসিংহ এর পেইজ আছে চাইলে ভিজিট করতে পারেন।।।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




