প্রশ্নের উত্তরে সবাই দোষারোপ করতে থাকলেন নিজ সেক্টর বাদে অন্য সেক্টরে কর্মরতদের। অর্থাৎ পরিচালক দোষ দেন প্রযোজককে। তার মতে, প্রযোজক যা চায় পরিচালককে অসহায়ভাবে তাই করতে হয়। আবার প্রযোজক দোষ দেন পরিচালককে। প্রযোজকের মতে, তিনি মুভির কিবা বোঝেন! পরিচালক যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই তো মুভি নির্মিত হচ্ছে।
অনেক সময় প্রযোজক-পরিচালক একই ব্যক্তি হলে দোষ চাপান হল মালিকদের ওপরে। তাদের মতে, হল মালিকরা মুভির মাঝে অশ্লীল দৃশ্য সংযোজন করছে বেশি দর্শকের আশায়। হল মালিকরা আবার অস্বীকার করছেন এসব অভিযোগ। তাদের মতে, মুভিটি যে অবস্থাতেই হলে আসে তাই তারা দেখান। এর বেশি কিছু নয় কোনোমতেই।
আর মুভির আর্টিস্টদের মতে তারা তো প্রযোজক-পরিচালকদের হাতের পুতুল। তারা যেভাবে খেলা করাবেন তাদের সেভাবেই খেলতে হবে। নইলে নতুন কোনো মুভির জন্য সেই আর্টিস্টকে ডাকা হবে না।
এতো সব পরস্পর বিরোধী কথাবার্তায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে, আসলে মূল সমস্যা তাহলে কোথায়? সবাই যদি ভালো ও অশ্লীলতামুক্ত মুভি বানাতে এতোটা আগ্রহী হয়, তবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন?
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় উঠে আসাটা স্বাভাবিক যে, সমস্যা আসলে প্রতিটি সেগমেন্টেই রয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য মুখে অনেক কিছু বললেও ভেতরে আসলে প্রত্যেকেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল। এ ক্ষেত্রে অশ্লীলতামুক্ত ও সুস্থধারার মুভি নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা যে বিষয়টি বেশি হাইলাইট করেন তা হলো, প্রশাসনকেই এখন মূল ভূমিকায় নামতে হবে, অশ্লীলতা দূর হবে। দু-চারজন পরিচালক, প্রযোজক কিংবা হল মালিকের বিরুদ্ধে যদি অশ্লীলতার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে প্রশাসন প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়ে জেল-জরিমানা করুক। দেখা যাবে এতে করে অন্য সবাই সাবধান হয়ে যাবে।
মুভির আর্টিস্টদের বিরুদ্ধে যদি অশ্লীলতার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে তাদের মুভিতে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। তাতে করে অন্য আর্টিস্টও আর সাহস পাবে না অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করার।
দেশের রাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন যেভাবে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশি মুভি ইন্ডাস্ট্রিতেও শুদ্ধি অভিযান চালানোটা অপরিহার্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তাহলেই কেবল দেশি মুভিতে সুস্থ ও অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



