somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতি প্রেমাংশু

০৯ ই জুন, ২০১২ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়তমেষু,
আজ সকাল থেকেই ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষার এই সময়টাতে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও কোন এক অদৃশ্য কারনে গত সপ্তাহখানেক একফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি। এটা কি শুধুই প্রকৃতির বে-খেয়াল নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝা মুশকিল! সে যে কারনই হোক আজ কিন্তু মনের মতো করে বৃষ্টি হচ্ছে। ঝিরঝির বৃষ্টির তালে তালে প্রায়ই নেচে উঠছে মানকচুগুলো। হলুদ কৃষ্ণচূড়া গাছটিও অদ্ভুত ছন্দে দুলছে। আজ সকালে বৃষ্টি দেখে ভেবেছিলাম পুরনো ক্যাম্পাসে একবার ঘুরে আসবো কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন জানি ইচ্ছে করলোনা। মনে আছে ক্যাম্পাসের বৃষ্টিভেজা দূর্বাঘাস তুমি কত্তো পছন্দ করতে? জুতোজোড়া দূরে ফেলে আলতা রঙে রাঙ্গানো পা মেলে ছুটে চলতে দূর্বা মাড়িয়ে। তোমার নিশ্চয় মনে আছে ক্যম্পাসের সেই কদম গাছটির কথা। সৌন্দর্য্যহানির দোহাই দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেই গাছটি কেটে ফেললো এই ক’দিন আগে। সত্যি বলতে কি গাছটা এমন এক অবস্থানে ছিলো যে আমারও দেখতে ভালো লাগতোনা। কিন্তু এই কদম গাছটিকে তুমি এতোটাই ভালোবাসতে যে আমি সাহস করে এই অপছন্দের কথা কখনো বলতে পারিনি। ছোট্ট হলুদ বলের মতো দেখতে ওই ফুলে তুমি কি যে খুঁজে পেতে তা আমার কাছে আজও রহস্য! আমার প্রায়ই মনে হতো তুমি আমার চেয়ে ওই কদম গাছকেই বেশী ভালোবাসতে। ঝুম বৃষ্টিতে তুমি যখন ওই গাছ পানে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে তখন আমার দারুন হিংসে হতো। মনে হতো একটা সাধারণ উদ্ভিদ আমার ভালোবাসায় ভাগ বসাচ্ছে! তখন ইচ্ছে হতো তোমার অগোচরে গাছটি কেটে ফেলি। তোমাকে এ ভাবনাগুলো ঘুণাক্ষরেও জানতে দেইনি। তুমি বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা, সেই প্রতিদ্বন্ধী কদম গাছটি যেদিন সত্যি সত্যি আমার চোখের সামনে কেটে ফেলা হলো সেদিন আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। গণিত বিভাগের সামনে জন্মানো তোমার প্রিয় দূর্বাঘাসগুলোও আজ আর নেই। আসলে ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। তুমি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তোমার প্রিয় দুটো জিনিসও আমাকে ত্যাগ করে চলে গেলো।

তুমি যেদিন আমার কাছ থেকে শেষবারের মতো বিদায় নিয়ে গেলে সেদিনটিও ছিলো এমন বৃষ্টিস্নাত। তুমি বলেছিলে, তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। শুধু এতোটুকুই, আর কিছু নয়। সেশনজটের করালগ্রাসে আবদ্ধ আমার পক্ষে তোমাকে জীবনসাথীরূপে গ্রহণ করার সাহস ছিলোনা। আমি শুধু তোমার অশ্রুসিক্ত নয়নপানে চেয়ে ছিলাম। তুমিও অবাক বিষ্ময়ে নিষ্পলক চেয়ে ছিলে। আজ এতোবছর পর মনে হয় আমি সেদিন তোমার চোখের ভাষা সঠিকভাবে পড়তে পারিনি। তোমার সেই না বলা গভীর চাহনীর মধ্যে ছিলো একটি সুন্দর ও পবিত্র আকুতি। তোমাকে হারানোর আসন্ন যন্ত্রনায় আমি এতোটাই কাতর হয়ে গিয়েছিলাম যে তোমার সেই আকুতি আমি বুঝতে পারিনি। চিরকালের নির্বোধ আমি হয়তো তোমার চাহনীর মানে বুঝিনি কিন্তু তুমি তো পারতে মুখ ফুটে কথাটি বলতে। আমি জানি তুমি বড্ড অভিমানী। হয়তো সেই অভিমান থেকেই তুমি কিছু বলোনি।

আজ আমার বেকারত্ব ঘুচেছে। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এসেছে। বউকে দামী কাপড়, দামী গহনা কিনে দিচ্ছি, ছেলে-মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াচ্ছি কিন্তু এতোসব পাওয়ার মধ্যেও তোমাকে না পাওয়ার বেদনা আমাকে সবসময় কুঁকড়ে খায়। একটা কথা জানো আমার মেয়েটা না ঠিক তোমার মুখের আদল পেয়েছে। হয়তো সঙ্গমের কোন এক চূড়ান্তলগ্নে অবচেতন মনে তোমাকেই স্ত্রীরূপে কল্পনা করেছিলাম। স্ত্রী আমার সুন্দরী, সুশিক্ষিত। তবে প্রায়ই মনে হয় ব্যক্তিত্ত্বের দিক দিয়ে ও কোনভাবেই তোমার ধারেকাছেও যাবেনা। তোমার সেই অবাক অভিব্যক্তিমাখা সুন্দর চাহনী আমি ওর মধ্যে প্রায়ই খোঁজার চেষ্টা করি কিন্তু না কোনভাবেই সেই তোমাকে ওর মধ্যে খুঁজে পাইনা।

ছোট ছেলেটা পাশের ঘরে ভীষণ কাঁদছে। ছেলেটা আবার বাপের ভীষন ন্যাওটা। এবার কলম ছেড়ে তাই আমাকে পিতৃদায়িত্ব পালন করতে যেতে হবে। কাজেই তোমাকে লেখা এ চিঠি এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। আগামী বর্ষার প্রথম বাদল দিনে পুরনো ক্যাম্পাসে আসার নিমন্ত্রণ দিয়ে আজকের মতো কলম রাখছি।

ইতি
তোমারই প্রেমাংশু
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×