somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমতা, শান্তি এবং তত্ত্ব: বৈশ্বিক সংঘাত ও সহযোগিতার ধারণা

২৯ শে জুলাই, ২০২৫ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকের পৃথিবীটা যেন আগের চেয়ে অনেক ছোট। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আপনি এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যেতে পারেন। মুহূর্তেই টাকা পাঠাতে পারেন যেকোনো দেশে। আর পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কী ঘটছে, তা আপনি এখনই জানতে পারেন। এমন এক আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে আমরা বাস করছি। তবুও, যুদ্ধ কেন হয়? কেন রাষ্ট্রগুলো এখনও একে অপরকে ভয় করে? কেন প্রতিযোগিতাই সহযোগিতার উপর বিজয়ী হয়ে থাকে?

এই প্রশ্নগুলোই প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে—জোসেফ নাই এবং ডেভিড ওয়েলচ (Joseph Nye and David Welch) রচিত Understanding Global Conflict and Cooperation বইয়ে। এই অধ্যায়ের নাম—“Are There Enduring Logics of Cooperation in World Politics?”—তত্ত্বের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি আমাদের নিয়ে যায় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে, তত্ত্বের জগতে, আর রাষ্ট্রের মনস্তত্ত্বের গভীরে।

অধ্যায়টি শুরু হয় একটি দারুণ বৈপরীত্য দিয়ে। একদিকে, আমরা ভাবি এখনকার পৃথিবীতে সব কিছু সহজ হয়েছে—বাণিজ্য, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, প্রতিষ্ঠান। তবুও, যুদ্ধ হয়। সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, শাসনের লড়াই, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি—এসব কিছু চলছেই। নাই এবং ওয়েলচ বলেন—বিশ্ব বদলেছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রের আচরণের মূল যুক্তি—ভয়, অবিশ্বাস, প্রতিযোগিতা—অদৃশ্য হয়নি।

ইতিহাসের পেছনে ফিরে দেখা
জোসেফ নাই এবং ডেভিড ওয়েলচ আমাদের তিনটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে তাকাতে বলেন:

• সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা, যেখানে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বাকিদের শাসন করে
• সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে আনুগত্য বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত থাকে
• গণতান্ত্রিক-নিরপেক্ষ ব্যবস্থা, আজকের মতো, যেখানে কোন কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব নেই

আমরা এখন যে "ওয়েস্টফালিয়ান" রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাস করি, সেটি হলো এক আত্মনির্ভর ব্যবস্থার প্রতীক—যেখানে প্রত্যেক রাষ্ট্র নিজেই নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে।

বাস্তববাদ বনাম উদারবাদ: দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্ব
লেখকদ্বয় দুইটি প্রধান তত্ত্ব তুলে ধরেন:

• বাস্তববাদ বলে, রাষ্ট্রগুলো সর্বপ্রথম নিজের অস্তিত্ব ও শক্তিকে রক্ষা করতে চায়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এক ধরনের চিরন্তন প্রতিযোগিতা।
• উদারবাদ আশাবাদী। তারা বলে, বাণিজ্য, সংলাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিশ্বে শান্তি আনা সম্ভব।

এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্ব কেবল তাত্ত্বিক নয়—এটি প্রতিদিনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলে।

চিন্তা বদলে দেয় দুনিয়া: কনস্ট্রাক্টিভিজমের পাঠ
সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল তৃতীয় তত্ত্ব—কনস্ট্রাক্টিভিজম। এটি বলে, রাষ্ট্রের পরিচয়, চিন্তা ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রের আচরণকে গঠন করে।একটি দেশকে কেন হুমকি হিসেবে দেখা হয়, অন্যটিকে মিত্র বলা হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় চিন্তাধারার ভিতরে। এই তত্ত্ব মনে করিয়ে দেয়—ধারণা বদলালে নীতিও বদলায়।

শান্তি সম্ভব, কিন্তু সহজ নয়
অধ্যায়টি কোনো সহজ সমাধান দেয় না। এটি আমাদের চিন্তা করতে শেখায়। বুঝতে শেখায়—শান্তি অর্জন করতে হয়, সহযোগিতা গড়ে তুলতে হয়, এবং সেই আস্থাকে রক্ষা করতে হয়। যতক্ষণ না আমরা বিশ্ব রাজনীতির এই অদৃশ্য কিন্তু প্রভাবশালী ধারাগুলো বুঝি, ততক্ষণ আমরা সত্যিকারের শান্তির স্বপ্ন দেখতে পারব না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২৫ দুপুর ১২:৪২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×