somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাসেম বিন আবুবাকার কিছু ভাবনা!

০১ লা মে, ২০১৭ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাসেম বিন আবুবকর সাহেব কে নিয়ে কিছুই লিখব না ভেবেছিলাম, তাঁর লিখা আমি পড়িনি, তাঁর নাম আমি জানতাম না, এই অজ্ঞতা নিয়ে আমি লজ্জিতও নই। অনেক বই পড়েছি, এখনো পড়ছি, তারপরও সমগ্র পৃথিবী থাক বাংলা সাহিত্যেরও এধার ওধার করতে পারিনি, কত কি পড়ার আছে বাকী। কাসেম সায়েবের লিখা না পড়া কোন অপরাধ না। এই তোলপাড়ে কিছু অনলাইনে পড়া হয়েছে, আমার খুব ভালো লাগেনি, এটা হতেই পারে এক একজনের রুচি এক এক রকম। তাঁকে নিয়ে আমি মশকরা করার পক্ষপাতি নই, আবার মাথায় তুলে নাচতেও রাজি নই। সময়ের বিচারে যার যার লিখা বেঁচে থাকবে, থাকবে। এতে সাহিত্যের কিছু আসে যায় না। রবিঠাকুরের লিখা নিয়ে ডি, এল রায়ের নাক সিটকানো সংলাপ, এখন প্রায় প্রবাত প্রতিম। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ঠাকুর রবি হয়েই আছেন, সাহিত্যের আকাশে। কাসেম সাহেব সে রকম বড় কিছু হয়ে উঠবেন আমার সে রকম মনে হয় না, না হলেও তাঁর পাঠক প্রিয়তায় কিছু ভাটা পরবে বলে মনে হয় না।
হিরো আলম, অনন্ত জলিল, কাসেম এই ধরনের ব্যাক্তিদের নিয়ে সাধারন মানুষের হাসি তামাশা আমার কাছে নিতান্তই অন্যায় মনে হয়, এদের হেও করে নিজেদের বেশ “শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি” আদলে প্রকাশ করার চেষ্টা হাস্যকর নিঃসন্দেহে। আবার একেই সাথে এদের মাথায় নিয়ে নাচার কিছু নেই। সব কিছুর ভালো মন্দ আছে, থাকবেই। হিরো আলম, অনন্ত জলিল, কাসেম তারা এমন কোন কাজ করেন নাই যে তাঁদের জন্য অন্যদের যাতা বলতে হবে। “আফসান” সাহেবের লিখা পড়লাম “কাসেইম্মা আইসা গেসে... ইত্যাদি ইত্যাদি” তো হয়েছেটা কি! আম জনতা পড়ছে, আম জনতার জন্য লিখা তো আম জনতাই পড়বে। আরনেস্ট ফিসার এর লিখায় পড়েছিলাম “আর্ট ফর আর্টস সেইক”- শিল্পের জন্যই শিল্প, সব শিল্প সবার জন্য না। কেউ রাগ দরবারী কানাড়া শুনবে মৃদু মাথা দোলাবে আতর খুসবু শুঁকবে, কেউ বা সিস্টেম অফ অ্যা ডাউন শুনে হেড ব্যাঙ্গিং করবে! তারপরও ভালো মন্দের বিচার আছে সব শিল্পতেই! সব “কলা”ই যে কলা তা নয় কিছু কিছু গ্যাঁড়া “কলা”ও হয়ে যায়।

যার তেমন সুদীর্ঘ আবেদন নেই, শুধুই কিছু উপরি তলের আন্দোলন আছে এর কোন মুল্য নেই, এ গ্রহের বিশাল শিল্প ভাণ্ডারে। যে কারনে মমতাজের “ফাইট্টা যায়” কিংবা “ আগুনেরই গোলা” যখন কোন জাতিও কিংবা আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের ওপেনিং এ গাওয়া হয় আমার লজ্জা লাগে। কিন্তু এরও তো শ্রোতা আছে (আমি বিদগ্ধ শ্রোতা তা দাবি করছি না, একটু সংগীত শোনা হয় আর কি, অত কিছু জানি তাও নয়)। কাসেম সাহেবের সাহিত্যও উঁচু দরের কিছু না, এটা বলা যেমন দোষের না, আবার হ্যাকছি করবারও কিছু নয়। আবার শরৎচন্দ্র কিংবা হুমায়ুনের জনপ্রিয়তার সাথেও তুলনা করার মত কিছু না, যে মাথায় নিয়ে নাচতে হবে, আর কাসেম সাহেব কেন, মিলন, আনিসুল হক এদেরও অনেক নিম্ন মানের লিখা আছে, (মিলনের “লাভ স্টোরি” বা এই জাতিও কোন নাম, আনিসুল হকের “ফাজিল”) কিন্তু সব মিলিয়ে তাঁদের অনেক ভালো লিখা তাঁদের এই জায়গাটায় নিয়ে এসছে।
রোমেনা হাফাজ, নিহার রঞ্জন, জরাসন্ধ এমন আরও কত লেখক আছেন প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষ আগে পড়ত। আজ কোথায় সে “বনহুর” ( বেনহার কিন্তু এখনো মানুষ পড়ে), কোথায় সে নিহার রঞ্জনের “কালো ভ্রমড়া”। এই হচ্ছে বাস্তবতা! নিষ্ঠুর সময় যাকে চাইবে তাকেই রাখবে আর বাকী সব ভেসে যাবে। জেমস জয়েস এর চেয়ে নিঃসন্দেহে সিডনি শ্যাল্ডনের পাঠক বেশি তাতে কি জেমস জয়েস ভেসে যাবে?
আসুন স্পষ্ট কথা বলি, কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলি, বলার সাহস রাখি। অযথা মানুষকে নিয়ে মশকরা করে নিজেদের হাস্যস্পদ না করি, আবার এঁদের মাথায় তুলে অযথা নিজেদের নষ্ট হতে থাকা কালচারকে পিঠ চুলকে আর নিঃশেষ না করি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৭ রাত ১১:৫০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×