একলোক সরকারের উচ্চপর্যায় চাকুরি করেন। তিনি কিছুটা ভাবুক প্রকৃতির, মাঝেমাঝে সাহিত্যচর্চাও করেন। উচ্চপর্যায় চাকুরির কারনে তার আশেপাশে সবসময় মানুষের ভীড়। এদের অনেকেই তার কাছ হতে কাজ বা নানান সুবিধা বাগানোর জন্য কায়দা করে তেলমর্দন করতো। চাটুকারের দল জানে, তার লেখা নিয়ে কথা বললে তিনি খুশি হন। তাই এরা কর্তার মনভঞ্জনে প্রায় সময় কর্তার কবিতার এক লাইন বা দুই লাইন লিখে পকেটে রাখে। যখন কাজ বাগানোর দরকার তখন রুমে ঢুকে আওরাতে থাকেন তার কবিতার যে কোন ১/২ টি লাইন। কবিতার পংক্তি আওড়ানো শেষে বলেন, " যা লিখেছেন ভাই। মনটাই ভরে গেল। রবীন্দ্রনাথের পর এতো সুন্দর বাক্য বিন্যাস কেউ করতে পারেননি। অপুর্ব অপুর্ব ভাই চালিয়ে যান।"
রুমে বসা কেউ একজন যোগ করেন, এই তো সময়। নেক্সট বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঠেকায় কে!
কবি একটু বিব্রত হন।
শুস্ক কন্ঠে জিগেস করেন, পুরা কবিতা পড়েছেন?
- হ্যা হ্যা পড়েছি বলেই তো অপুর্ব অপুর্ব বলছি।
ভারী চশমার গ্লাস মুছতে মুছতে কবি মহোদয় বলেন, ও আচ্ছা। পরের লাইনটা কি ছিল মনে আছে?
উপস্থিত লোক দুটো কিছুটা ঘাবড়ে যায়। কিন্তু দমবার পাত্র নয়। তাদের ফাকিবাজি ঢাকতেই জোর কন্ঠে বলেন,, " আপনার সব কবিতাই হিট। বেদের মেয়ে জোতস্নার রেকর্ড ব্রেক করেছে।এতো শতো আপনার কবিতা পড়েছি যে পরের লাইন কোনটা রেখে কোনটা বলি। ভাল জিনিষ এক লাইন দুই লাইন পড়লেই ভাবার্থ সব বুঝা যায়। "
কবি উদাস নয়নে জানালার বাহিরে তাকিয়ে আনমনা হয়ে পড়েন। তিনি ভাল করে জানেন , এ সব লোক তার কবিতা পড়ে না। চাটুকারিতা, তোষামোদী করার জন্য এরা তার বই কেনেন, অটোগ্রাফ নেন।
কাল তার চাকুরির শেষদিন। এ লোকগুলি ভুলেও তার কবিতা কখনো পড়বে না। ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলবে তার বই।কবি ঘামতে থাকেন। বুকের বা দিকটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠে। ঢলে পড়ার শেষ মুহুর্তে শুধু তার প্রিয় নদীর কথাই মনে পড়ে। মনে পড়ে ছেলেবেলার সেই ঝাঁঝালো দুপুরে বটপাকুড়ের ছায়ায় শীতল হওয়ার কথা। আহা কতদিন এরকম শীতল হইনা!
কবি'র মগজে তখন এম্বুলেন্সের সাইরেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

