somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেভারপাড়েরর গল্প

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত শতকে সতুরের দশকের মধ্যভাগ । আমার বয়স তখন সাত কি আট হবে । থাকি চট্্রগ্রাম , আগ্রাবাদ ডেভার পাড় । আমার দাদার বাসায় অসংখ্য লোকজন । দাদা,দাদী, বাপ চাচারা ৪ভাই, ৪ ফুপি, মা ও মেঝ চাচী , বাড়ির হেশেল সামলানোর জন্য ২ জন পুরুষ বার্বুচী, ২জন কাজের মহিলা ছাড়াও আমার বাবার বেশ ক'জন চাচাতো ভাই নিয়ে বিরাট একান্নবর্তী পরিবার ।তার উপর আমরা ৩ ভাই বোন ও আমার মেঝ চাচার বড় ছেলে পলাশ । জ্ঞান হবার পর থেকেই দেখেছি সকাল থেকেই এই বাড়িতে আমার বাবা-চাচা,ফুপিদের বন্ধু-বান্ধবীদের আনাগোনা লেগেই থাকতো রাত অবধি । কে কখন যে আসছে যাচ্ছে , খাওয়া দাওয়া করছে তার কোন হিসেব ছিলো না । সারাদিনই চুলায় বড় বড় সিলভারের কেটলিতে চা'র পানি টগবগ করে ফুটতো । এখনো মনে পড়ে এবং শুনেছি যারা এই বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন তাদের মুখে । কেউ কোনদিন না খেয়ে এসেছেন এমন হয়নি । সময়টা সকাল-দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা কিংবা রাত যাইহোক না কেন ।
আমার বাবা-চাচারা ছিলেন খুবই সংস্কৃতি সজ্জন মানুষ । পড়াশুনোর পাশাপাশি সবাই কমবেশী নাটক, খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।
পাড়ার সালহউদ্দীন ইনস্টিটিউটে বিকেল থেকেই নাটকের রির্হাসেল চাচাদের ব্যস্ত দেখতাম । সেখানেই প্রথম মঞ্চ নাটক দেখার
অভিজ্ঞতা হয়েছিল । নাটকের নাম এখন আর মনে পড়ছে না ।তবে নাটকের একটি গান মনে আছে । আমার ছোট চাচা খুব করুন
মুখে গেয়েছিলেন' আমার সকল দু:খের প্রদীপ জ্বেলে..' । সেই চাচা খুব ভালো অভিনয় করতেন ।অামার ছোট ফুপা ,ছড়াকার অাহসান মালেক তিনিও ভাল অভিনয় করতেন । পরে অবশ্য আর কখনো তাদের অভিনয় করতে দেখিনি ।শুনেছি আমার বাবাও অভিনয় করতেন। চিটাগং কলেজে তার সহপাঠি ছিলেন আজকের খ্যাতনামা অভিনেতা আবুল হায়াত । মঞ্চে তাদের সাথে অভিনয় করতেন পাথরকাটার মেয়ে , সেই সময়ের মীনা দত্ত ,যিনি আজকের বিখ্যাত অভিনেত্রী কবরী । তবে অভিনয়ের চেয়ে আমার বাবা ও সেঝ চাচা ভালো ক্রিকেট খেলতেন ।মনে পড়ে বাবা চাচাদের সাথে আগ্রাবাদ জাম্বুরী ফিল্ডে প্রচুর খেলা দেখতে গিয়েছি । এই খেলার জন্য যে সাদা পোষাক প্রয়োজন তখনই জেনেছি । ক্রিকেট খেলার নিয়ম-কানুন না বুঝলেও দেখতে যেতাম টফি খাবার লোভে ।বড় হয়ে সেই টফি বহু খুজেছি । অনেক দামী টফি খাওয়া হলেও সেই টফির স্বাদ কোথাও পাইনি !

২.
পানি ভীতি আমার কখনোই ছিলো না ।আমাদের বাসার ১০০গজের মধ্যেই ছিলো বিশাল দীঘি । যা চট্লার ভাষায় ডেভা নামে সমাধিক পরিচিত ।এতো বড় দীঘিতে গোসল করে, লাফিয়ে -ঝাপিয়ে আমার শৈশব কেটেছে । কিন্তু ভালোভাবে সাতার শেখা হয়নি কখনো । ডেভায় নামা নিয়ে আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনীর আমার বয়েসী ছেলেদের সাথে কত যে মারামরি করেছি ! প্রতিবারই সেসব মারামারিতে আমার ত্রানকর্তা হয়ে উদ্ধার করতে আসতেন চাচার বন্ধুরাই । এখন মনে হলে অনেক হাসি চলে আসে ।
এখন আফসোস হয় এতোবড় দীঘি বাসার পাশে থাকার পরও কেন যে ভালো সাঁতার শেখা হলো না !
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×