somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাদাই ও তার বেবী হাতি

২৭ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দাদাই, ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, চল না ভিজি?
ওকে, চল...। কত যে পাগলামো করতে পারিস মনি...। আমার কি আর সেই বয়স আছে তোর মত?
ধুর, কি যে বলিস না!! বৃষ্টিতে ভিজতে বুঝি বয়স লাগে?
জানিস ভার্সিটিতে পড়ার সময় খুব ভিজতাম বৃষ্টিতে, এখন আর হয়ে ওঠেনা...।
তাতে কি? আমি আছি না? আবার ভিজবি।।এখন চল তো, নইলে বকবক করতে করতে বৃষ্টিই শেষ হয়ে যাবে...।।

দাদাভাই, আজ একটু সময় দিবি আমায়?
কেনরে? রোজই তো দেই। আজ আবার কি হল?
আজ আমার মনটা ভিষন খারাপ...
তাহলে চল ঘুরে আসি কোথাও থেকে...
চল রমনায় যাই, বড় বড় গাছের নিচে...২ ভাই-বোন জম্পেশ আড্ডা হবে...
...কিরে বসতে আসছিস নাকি ফুল কুড়োতে?
দাভাই দেখ না ওই ফুলটা কত সুন্দর...দে না পেড়ে...
হু, তোর জন্য এই বুড়া বয়সে লাফ-ঝাঁপ দেই আর কি??
ধুর দাভাই, তুই যে কি না??...।

দা’মনি খুব জ্বর আসছে...। একা হোস্টেলে ভাল লাগছে না...। একটু কথা বলতে পারবি আমার সাথে?
হুম পারব। সারা রাত কথা বলব। বেশি কষ্ট হচ্ছে সোনা? জ্বর কি বেশি?
না, তুই গল্প বল...আমি তোর কোলে মাথা রেখে ঘুমাই...
আচ্ছা, আয়। এক দেশে ছিল এক রাজকন্যা...।।

দাভাই, তুই টি-শার্ট পড়িস?
হ্যা পড়ি তো। কিন্তু জব লাইফে ঢুকার পর আর তেমন পড়া হয়নি...। সবই কেমন যান্ত্রিক হয়ে গেছে রে।
চল তো আজিজে যাব।
কেন? ওখানে কি এই গরমে?
এমনি যাব...চল চল...।
......। মনি আমি কিন্তু ভিষন রাগ করব। এই টাইপ পাগলামি আমার পছন্দ না।
হাহাহা, তোর রাগ কে কে পাত্তা দেয় রে? তোকে এই টি-শার্টটায় দারুন মানাবে বিশ্বাস কর...।

মনি, লাইফটা যখন খুব বেশি পেইন হয়ে গেছিল, ঠিক তখনই তুই এসেছিলি পেইন কিলার হয়ে...। ভালোবাসার হাতে-খড়ি হয়তো তোর বউদির কাছে, কিন্তু পূর্ণতা পেয়েছে তোকে পেয়ে। তুই আমার নিজের বোন কেন হলিনা বল তো?
ধুর...তোর যে কত আজে-বাজে কথা...। কে বলেছে আমি তোর বোন না? রক্তের সম্পর্কই কি সব?
কোন শালা বলবে তুই আমার ভাই না? মেরে হাড় গুড়ো করে দেব না?!

দাভাই এত ছবি তুলে কি হয় বল তো? তোর সাথে আমার ১ টাও ছবি নাই। আয় না ১ টা ছবি তুলি?
নারে, আমার নিজের ছবি তোলার আগ্রহ নাই। তারচে বরং তোর ছবি তুলি। এই ফুলগুলো হাতে নে তো দেখি...ওই ফুলটা চুলে গুজে নে...এইদিকে ফির একটু। হুম এইবার ঠিক আছে...।

তোর কি হইছে ভাইটি?
কিছু না রে। মনটা ভাল না...
তাই? চল ঘুরে আসি কোথাও থেকে
কই যাবি?
চল সাভার যাই...
উফফ মনি এত গরমে তোর মত তার ছিড়া মানুষই এত দূরে আসে...
দেখছিস। গরমে তোর কষ্ট গলে ঘামের সাথে বেড়িয়ে গেছে?? হিহিহি...

দাদাভাই দেখছিস আমি কত মোটা হয়ে গেছি...আমার চেহারা কি খুব পঁচা দাভাই?
হুম খুউউউব...
সত্যি? সত্যি পঁচা লাগছে? এখন আমি কি করি??!! দিলি তো মাথা টা গরম করে...!! একজন বলল, আমি তোকে জিজ্ঞেস করলাম, তুইও বলছিস...!!!
কোন বেয়াদব বলেছে রে তুই সুন্দর না? এই যে কত সুন্দর বোঁচা নাক, কাঁচা-পাকা চুল...
খুব হচ্ছে না? নিলি এক চোট ফাক পেয়ে। তুই সুন্দর আর খাড়া নাক বলে খুব বাহাদুরি? এক ঘুসিতে যদি তোর নাকও আমি বোঁচা না করেছি...।
ওরে আমার বেবি হাতি টা রে...। আমার বোন আমার কাছে সব সময় সুন্দর...। যে বলেছে তার চোখ ই নাই...।

দাভাই গান জানিস?
এক সময় গাইতাম, বাথরুম সিঙ্গার আর কি...
চল গান গাই...
রাগার বৃষ্টি গানটা শুনেছিস?
না...তুই গা আমি শুনি...
“ধীরে ধীরে বৃষ্টি পড়ে...দেখে আমি আবেশী...
বয়ে যাওয়া জল-স্রোতে আমার পায়ের জলছবি...।“

দা’মনি আজ একটু দেখা করতে পারবি?
কেন রে? অফিস করে এসে সময় পাব না তো
৫ মিনিট প্লিজ...। আজ তোর বার্থডে আর আমার সাথে তোর দেখা হবেনা, এটা সম্ভব?
আচ্ছা আয় তাহলে বিকেলে...
কি পাগলামি এসব মনি? এই বয়সে কেক কাটবো? তাও আবার লেক এ বসে?!!
হুম, বাকি জীবন মনে থাকবে। হিহিহি...আরে ছবি তো তুলতে দে...নইলে প্রুভ থাকবে না তো। পরে বলবি তোকে উইশ করিনি...।

ভাইটি, আমি তোর বিয়েতে সব শপিং এই যাব, ওকে?
দেখা যাবে। আগেই এত খুশি হোস না...। আমার কাজিনরা আছে, তোকে কোন পরিচয়ে নিব?
তোর বোন হিসেবে!!! কেন আমাকে দেখলে তোর বোন মনে হয়না? তুইও ফর্সা, আমিও, তুই যে ফ্রেমের গ্লাস পড়িস আমিও পড়ি, শুধু তোর নাকটা খাড়া আর আমারটা বোঁচা। তো? এই যে দেখ তোর আর আমার হাতের সেইম যায়গায় ১ টা করে তিল আছে। তাও বলবি আমি তোর বোন না??...
পাগলি, আমার কাছে তুই অবশ্যই বোন, কিন্তু বাইরের দুনিয়া কি মানবে?
না মানে নাই, আমি দুনিয়ার থোড়াই কেয়ার করি...!!

ভাইটি সোনা, চাঁদের কনা
ফোন ধরতে নেইকো মানা...



আমায় ছেড়ে যাস নে দাভাই
আমি যেন মোর ভাই না হারাই...
এই পাগলি, কি হইছে সোনা তোর?
কিছুনা দাভাই, ১ টা বাজে স্বপ্ন দেখেছি। আমি তোকে হারিয়ে ফেলেছি। কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা...!!!
ধুর পাগলি, স্বপ্ন স্বপ্নই। সেটা নিয়ে মন খারাপ করতে হয়? বড় হয়েছিস না?
আমায় ছেড়ে কোনদিন যাবি না তো ভাইটি? খুব কান্না পাচ্ছে কেন যেন...
মাইর লাগাব কাঁদলে। কই যাব বোকা? আমি সব সময় তোর পাশে আছি...

মনি আমি তোর কথা তোর বৌদিকে বলেছি
!!! কেন? কেন বলতে গেলি? ও মানবে না। ইশশ...তোর সাথে আমার আর যোগাযোগ রাখা হবেনা দাদাই...
কেন? তুই আমার বোন। আর ও আমার হবু বউ। ওকে না বললে কিভাবে হবে?
দাদাই। বৌদি যতই ভাল মানুষ হোক, অন্য ধর্মের প্রায় সম বয়সি একটা মেয়েকে সে ননদ হিসেবে মেনে নিবে না রে।
তোর বৌদি এমন না। ও অনেক ভাল। দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে।

মনি, আমার পক্ষে তোর সাথে কন্ট্যাক্ট রাখা আর সম্ভব না রে...
কেন ভাইটি? কি হইসে?
কিছুনা। তোর বৌদি অনেক মন খারাপ করে...দুরে থাকে, বুঝিস ই তো।।
হুম বুঝি...ওকে। তোরা ভাল থাকিস...। মাঝে মাঝে কি খোঁজ নিতে পারব?
কি দরকার বল? তোর বিয়ে হয়ে গেলেও তো কন্ট্যাক্ট অফ হয়ে যেত তাইনা?
না হতোনা। যে আমার ভাইকে মেনে নেবে না, এমন কাউকে আমি বিয়েই করব না...!!!

দাভাই কেমন আছিস?
ভাল
মেসেজ দেয়ায় রাগ করেছিস?
না দিলেই ভাল হয়...
!!! আচ্ছা...ভাল থাকিস ভাইমনি। পারলে খোঁজ খবর জানাস।
মনি, আমি তোকে শিফট ডিলিট করিনি আমার লাইফ থেকে। করবোনা তুই জানিস। ভাল থাকিস...।

আজ তুই নেই দাভাই আমার পাশে। তোকে গড আমার কাছে গিফট হিসেবে পাঠানোর আজ ২ বছর হলো। কিন্তু আমি অভাগা তোকে হারিয়ে ফেলেছি...। যেখানেই থাকিস, খুব ভাল থাকিস, সুখে থাকিস...। happy 2 years vaity…
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×