somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বীপাত্ব

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যখন অস্ট্রিচের মতো সারি সারি গাড়ি,
নদীর বুকে ঢেউ ভাঙা ফেরি
ছুটে যায়—গন্তব্য শহরের চিরচেনা বাড়ি।
ক্লান্তি নামে ল্যাম্পপোস্টের চোখে একই দৃশ্য দেখে
তখন আমার ঘুম ভাঙে,
ক্লান্তিগুলো নেড়েচেড়ে রেখে দিই পাশের টেবিলে।

রক্তসঞ্চালনের চাপ মেপে টের পাই স্ফিগমোম্যানোমিটারে—
এই উত্তাপ, তীক্ষ্ণ হুইসেল কিছুই আমার নয়।
পিচঢালা পথে যে ছাপ গিয়ে রেখেছে আমার পায়ের চাপ,
তাও মিশে গেছে কিছু হায়েনার ভিড়ে;
পরিচিত বলে কিছু নেই চরাচরে।
আমি তখন হয়তো তোমার কাছে ফিরে যেতে চাই।

শীতের সন্ধ্যায় মিশে যায় মগে এসপ্রেসো, লাতে, কাপুচিনো,
হালকা ধোঁয়ায় নিজের আঙুলগুলো বড় অচেনা মনে হয়,
যেমন অচেনা লাগে কুঠিবাড়ির দেয়ালে রবিঠাকুরের লেখা গান।
সেভাবেই শহরটা ক্রমশ ভেসে যেতে থাকে
একটি পরিচিত বারান্দার দিকে।
সেখানে তোমার স্নিগ্ধ হাতে শুয়ে টাইগার ফার্ণ
জুড়ায় উত্তপ্ত প্রাণ।

রাস্তার কুকুরগুলো হয়তো চেঁচায় আত্মপরিচয় ভুলে যাওয়ার শোকে,
আমিও সেই শোকেই আক্রান্ত।
তাকিয়ে থাকতে থাকতে
আলগা বালির মতো ঝরে পড়ে
আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, স্নায়ু, মস্তিষ্ক।
তারপরেও ভোজবাজির মতো বেঁচে থাকি,
অজাইম্যান্ডাইসের মতো নিজের ধ্বংস দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করি,
তখনো হয়ত তোমার কাছে ফিরে যেতে চাই।

হেঁটে যাচ্ছিলাম জিরাফ, জেব্রা, বুনো ঘোড়াদের সঙ্গে।
পেরিয়ে গেল পেছনের বনভূমি, জলাভূমি—
এখন চারদিকে মরুভূমি।
কোথায় দাঁড়াইনি আমি?
সমতলে জল ছিল, বনভূমি জুড়ে ছিল
হাঙরের দাঁতের মতো শ্বাসমূল।
বসতি স্থাপনের মতো শক্ত ভিত্তি ছিলনা কোথাও।

যে সমস্ত জমি আমি পেয়েছি উত্তরাধিকার সূত্রে,
তার পুরোটাই বন্ধ্যাভূমি।
শিরা কেটে রক্ত ঢেলেছি—তাতেও ফসল ফলেনি।
সহযাত্রী পশুদের মরদেহ একে একে পুঁতে রেখেছি,
তবুও কোনো চারা মেলেনি চোখ।

এখন দ্বীপের মতো ভেসে যাই মহাসাগরের বুকে,
রুক্ষ রোদে লবণের নোনা স্বাদ।
কোথায় যাচ্ছি আমি, কে জানে—
হয়ত এখনো আনমনে তোমার দিকেই হেঁটে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:০৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×