somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ The Prestige

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবাই নতুন নতুন মুভির রিভিউ দিচ্ছে। কিন্তু আমি ফিরে গেলাম সেই ২০০৬ এর পুরোনো মুভির রিভিউ দিতে। কার যেন সেরা টুইস্টিং মুভি রিভিউ পড়েছিলাম। টুইস্টের কথা শুনেই এটার কথা মনে পড়লো।
স্পয়লার এলার্টঃ মুভির ৮৫-৯০% কথা বলা আছে। তবে বাকি যেই ১০-১৫% আছে - মুভি আসলে ঐটুকই। বাকিটা হুদাই!



মুভিঃ The Prestige
Genre: Sci-fi, Mystry, Drama
ডিরেক্টরঃ Chritopher "Twister' Nolan
স্ক্রিন প্লেঃ Jonathon Nolan & Christopher Nolan
সময়ঃ ১৩০ মিনিট
মিউজিকঃ David Juliyan
বেসড অনঃ The Prestige - Christopher Priest (1995)
IMDB Rating: 8.5

কাস্টঃ Hugh Jackman, Christian Bale, Micheal Caine, Scarlett Johansson, Rebecca Hall (মাল্টিস্টার কাস্ট - এরমাঝে মরগান ফ্রিম্যান না থাকায় দুঃক্ষ পাইছি!!! :( )


কাহিনীর হালকা বিবরণঃ
মুভির প্রথম ডায়লগ, "Are you watching closely?'

অনেকেই বলে যে, নোলানের সবচেয়ে প্যাচের মুভি ইনসেপশন। কিন্তু আমার কাছে এইটার চেয়ে বেশি প্যাচের মুভি মনে হয়ছে প্রেস্টিজকে।

দুই ম্যাজিশিয়ানের কাহিনী। তারা স্ট্রাগলার থাকে প্রথমে।

হিউ জ্যাকম্যান নায়ক ভূমিকায়।
আর ক্রিশ্চিয়ান বেল!! সে আসলে থাকে এক ভূমিকায় - যেইটাকে বলা যায় এন্টি হিরো।

যাই হোক, মুভির শুরুতে হিউ জ্যাকম্যান মারা যায়! সেইটার জন্য ধরা পড়ে ক্রিশ্চিয়ান বেল।



তাদের শত্রুতার কারণের জন্য একটু পিছনেই যেতে হয়,

এক ম্যাজিশিয়ান বা ইল্যুশনিস্ট মিল্টন। তার সহযোগী থাকে জুলিয়া। জুলিয়া হল রবার্ট অ্যাঞ্জিয়ারের (হিউ জ্যাকম্যান)। মিল্টন তার একটা ট্রিকে জুলিয়াকে হাত বেঁধে পানিপূর্ণ পাত্রে বন্দী করে। ঠিক একমিনিট পর জুলিয়া এস্কেপ করে ঐ পাত্র থেকে। এর জন্য দর্শক সারি থেকে দুজনকে ডাকা হয় হাত-পা বেঁধে দেওয়ার জন্য। একজন রবার্ট আরেকজন আলফ্রেড (বেল)। এই ট্রিকটির আর্কিটেক্ট কাটার (মাইকেল কেইন)।
একবার আলফ্রেডের ভুলে জুলিয়া এস্কেপ করতে পারে না। মারা যায়।

আলফ্রেড আর রবার্টের দ্বন্দ্ব শুরু তখন থেকেই।
দুইজনই ম্যাজিশিয়ান! দুইজনই চায় একজন আরেকজনকে ডুবাইতে। সেই সূত্রে, রবার্ট ছদ্মবেশে আলফ্রেডের শো তে যায় আর ট্রিকসের অংশ হিসেবে গুলি করে। কিন্তু রবার্ট সত্যিকারের গুলিই ছুড়ে! যার ফলে আঙ্গুল হারায় আলফ্রেড।

এরপর রবার্ট "The Great Danton' গিমিকে শো করা শুরু করে। কিন্তু সে অতটা দাম পায় না। কাটার যতই তার জন্য ট্রিকস ডিজাইন করুক - কোনটাতেই কাজ হত না।

অন্যদিকে, শহরেই "The Professor' গিমিকে আলফ্রেডও শো করা শুরু করে। তার একটি ট্রিক সব মানুষের মন তো বটেই - রবার্টের মনকেও জয় করে নেয়।
ট্রিকটি হল "The Transported Man'. এই ট্রিকে আলফ্রেড এক দরজার সামনে থেকে বল ছুড়ে দেয় - এবং বলটি সমান্তরালে থাকা আরেকদরজার কাছে আসতেই ধরে ফেলে। মানে, এক দরজা দিয়ে ঢুকে তার থেকে কয়েক মিটার দূরের আরেক দরজা দিয়ে বের হয় - মাত্র ১ সেকেন্ডেই। অসম্ভব এক ট্রিক।

রবার্ট ট্রিকটা চুরির তালে থাকে। সব বুঝলেই - রবার্ট ধরতে পারে না, আলফ্রেড এত তাড়াতাড়ি কিভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়!!
কাটার বললো, হয়ত ডুপ্লিকেট কেউ! কিন্তু রবার্ট এত বার ট্রিকটি দেখেছে যে - তার কাছে ডুপ্লিকেট কাউকে মনে হয়নি। কারণ, সে গুলি করায় আলফ্রেডের যে আঙ্গুল কাঁটা গিয়েছিল - সেইটা তো ডুপ্লিকেটের থাকবে না। কিন্তু আঙ্গুল কাঁটা থাকায় বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ঐ ট্রিকে একজনই আছে। আলফ্রেড।
আলফ্রেডের জনপ্রিয়তা তার সহ্য হয় না।

কাহিনীর শুরু এর পর থেকেই। রবার্টও এইটাকে মডিফাই করে তার শো তে প্রদর্শন শুরু করে। সে ধরতে পারেনি ট্রিকটি - কিন্তু একদম তার আইডেন্টিকাল এক ডুপ্লিকেট থাকায় সে ট্রিকটি দেখাতে পারে। কিন্তু একসময় ধরা খায়।
এরপরও দমে না। নতুন করে আবার শুরু করে। নতুন রূপে। আলফ্রেডের ট্রিকটিই আরো মডিফাই করে। সাহায্য নেয় পদার্থবীদ নিকোলা টেসলার।

আর এরপর?
মুভি দেখেন এরপরেরটা জানতে। ঐটা কইতে পারুম না!!! এরপরের কাহিনী মাথার উপরে দিয়া যাওয়ার মত। পুরাই টাশকি কাহিনী।

যাই হোক, শেষে আলফ্রেডের ফাঁসি হয়।

মুভিটির সতর্কীকরণঃ
দেখলে প্যাচ খাইবেন।
একসময় দেখবেন - তারা জানে জিগরী দোস্ত, একই সময়ে শত্রু।
আলফ্রেড জেলে বন্দী, আবার সেই সময়ই শহরের কোনায় কোনায় শো দেখাইতেছে।
রবার্ট একবার খোঁড়া, একবার স্মার্ট, আরেকবার ক্ষেত, সাথে একই সময়ে ড্যান্টন, রবার্ট, অ্যাসিস্ট্যান্ট। আবার ঐসময়ই টেসলার লগে গপ্প করতাছে।

মানে পুরাই আওলা।

এই মুভি কতবার দেখছি তার কোন হিসাব নাই। প্রত্যেকবারই চমকাই।
ক্রিস্টোফার নোলান আসলেই বস।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:১৫
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×