somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৪১ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রথম রায় আজ

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে ভিজিট করুন : http://prothomnews.com/

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৪১ বছরের ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারও বিরুদ্ধে আজই প্রথম ঘোষণা করা হবে রায়।

যে রায়ে জামায়াতের সাবেক রুকন মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২-এ রায় ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য হলেন বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও মো. শাহিনুর ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ গতকাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। আবুল কালাম আযাদ এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর সময় থেকেই পলাতক। শুনানিকালে প্রসিকিউশন তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন চলে আসছে। একাত্তরের ঘৃণ্য অপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায় তোলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। শুরুর দিকে এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নিজামুল হক। পরে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। গত মাসে স্কাইপ সংলাপ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নিজামুল হক পদত্যাগ করেন। এরপর সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান হন বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল ২-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসানকে। জামায়াতের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মামলারও বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তার মামলায় যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে। দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার কার্যক্রম একবার শেষ হলেও এখন নতুন করে মামলাটির যুক্তিতর্ক আবার শোনা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলিমের।
যেভাবে এগিয়েছে আযাদের মামলা
আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ১০ই এপ্রিল। গত বছরের ২৫শে মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উত্থাপন করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আবুল কালাম আযাদকে গ্রেপ্তারেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়। ৩রা এপ্রিল আযাদকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু উত্তরখানে তার বাসায় গিয়ে পুলিশ তাকে পায়নি। এর আগেই সে পালিয়ে যায়। ২৫শে সেপ্টেম্বর দু’টি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আযাদকে ৭ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু সে হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে পলাতক ঘোষণা করে তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।

৭ই অক্টোবর পলাতক আযাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মো. আবদুস শুকুর খানকে নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ৪ঠা নভেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮টি অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৬শে নভেম্বর থেকে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য নেয়া শুরু হয়। ২০শে ডিসেম্বর শেষ হয় সাক্ষ্য। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেনসহ রাষ্ট্রপক্ষের ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়। তবে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান কোন সাক্ষী হাজির করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৩শে ডিসেম্বর দিন ধার্য করে। দু’পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত বছরের ২৬শে ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। ট্রাইব্যুুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিউদ্দিন মাহমুদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনাল আগে মামলাটি রায়ের জন্য সিএভি রেখেছিল। এখন রায়ের জন্য দিন ঠিক করেছেন। কাল (আজ) বিষয়টি কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, গভীর প্রত্যাশা নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম এ রায়ের জন্য। সাক্ষ্য-প্রমাণ যা দিয়েছি, সেগুলোই রায়ে প্রতিফলন হবে বলে আমরা আশা করছি। প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। এ রায় ঘোষণা হবে তার বিরুদ্ধে আনা ৮টি অভিযোগের ভিত্তিতে। এসব অভিযোগ আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি।
অভিযোগ : আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২) ধারায় ৮টি অভিযোগে আনা হয়েছে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে। প্রথম, দ্বিতীয় ও অষ্টম অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে অপহরণ, আটক রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হলো: একাত্তরের জুনে রণজিৎ নাথ ওরফে বাবু নাথকে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন, ২৬শে জুলাই আবু ইউসুফ ওরফে পাখিকে অপহরণ করে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে নির্যাতন এবং ১৮ই মে এক নারীকে আটকে রেখে নির্যাতন।

আযাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ অভিযোগে। যাদের হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- কলারন গ্রামের জমিদার সুধাংশু মোহন রায়, পুরুরা নমপাড়া গ্রামের মাধবচন্দ্র বিশ্বাস ও ফুলবাড়িয়া গ্রামের চিত্তরঞ্জন দাস। পঞ্চম অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নতিবদিয়া গ্রামের দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। আযাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগটি আনা হয়েছে ৭ নম্বর অভিযোগে। এ অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ১৭ই মে তিনি ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র রাজাকারকে নিয়ে ফরিদপুুরের বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় হামলা চালান। সেখানে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শরৎচন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, যতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৫৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×