http://prothomnews.com
তেলের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধির কারণে নড়েচড়ে বসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্য তেলের(সয়াবিন, পামওলেল বা অলিন) মূল্য, মজুদ, এলসি পরিস্থিতি ও পরিবেশক পদ্ধতির কার্যকারিকতা পর্যালোচনা করার জন্য কাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সভা আহবান করা হয়েছে। এখানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে ভোজ্য তেলের আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের। তাদের কাছে এই বার্তাই পোঁছে দেয়ার চেষ্টা করা হবে-সিন্ডিকেট করে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে সেক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে জরিমানা সহ বাতিল করা হতে পারে পরিবেশক লাইসেন্সও। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কালকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য যাদের প্রতিনিধি পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে তারা হলো- বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদফতর, প্রধান নিয়ন্ত্রক (আমদানি-রফতানি), এফবিসিসিআই, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। এতে করে আমরা একদিকে বিস্মিত ও চিন্তিত। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প থেকে ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার মূল্য বিশ্লেষণ করে আমাদের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, আমদানি মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম মিল গেটে ১১১ টাকা। এর সঙ্গে বোতলের মূল্য ১৫ টাকা, পরিবেশকের ২ টাকা ও খুচরা ব্যবসায়ীর ২ টাকা মুনাফা যোগ করে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম হওয়ার কথা ১৩০ টাকা। কিন্তু এ মূল্যে কোথাও এখন ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে না। বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে লিটার প্রতি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা করে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে পাইকারি খোলা সয়াবিন তেলের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৫০০ টাকা। পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে তাদের বাজারে প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৩০০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১১৫ টাকা ২২ পয়সা। গতকাল প্রতি মণ খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১২৮ টাকা ৬২ পয়সা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা। আর সুপার পামের দাম বেড়েছে প্রতি মণে ৪০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা ৭১ পয়সা।
জাতীয় মনিটরিং সেলের হিসাবে, প্রতিমাসে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। এর বিপরীতে গত মাসে খালাস করা হয়েছে মাত্র ৫৫-৫৬ হাজার টন। এখনও দেশে বিভিন্ন টার্মিনালে প্রায় এক লক্ষ টন ভোজ্য তেল মজুদ রয়েছে। তাই বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি কোনো কারণ নেই। এখানে এক শ্রেণির ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করেই তেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে।
সূত্র :: Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।