somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাড্ডির ঝিল!

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
দেশ বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে জানতে ভিজিট করুন http://prothomnews.com

শত শত মানুষের হাড় আর কঙ্কালে পূর্ণ একটি লেক, নাম রূপকুন্ড। তাও ভিনদেশের রহস্যময় কোনো স্থানে নয়, পাশের দেশ ভারতের উত্তরাখন্ডের দুর্গম এলাকার এক ভয়াল লেক এটি। ভরা শীতে জমাট বরফে ঢাকা অপরূপ সুন্দর রূপকুন্ড। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন বরফ গলতে থাকে, লেকের পানিতে ভাসতে থাকে অসংখ্য মানুষের কঙ্কাল। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো এক অভিশাপ নেমে এসেছিলো এই মানুষগুলোর ওপর। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে, উত্তরাখন্ডে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২৯ মিটার উচ্চতায় এ লেকের অবস্থান। ১৯৪২ সালে রূপকুন্ডের সন্ধান পান একদল ভ্রমণকারী।
আগে মানুষ এ তথ্য জানতো যে, এ কঙ্কালগুলো উনিশ শতকের জাপানি সেনাবাহিনীর। তারা হয়তো সেই সময় এখানে লুটের উদ্দশ্যে এসেছিলো। কিন্তু এখানকার দুর্গম-রুক্ষ প্রকৃতি তাদের এই সাজা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন এই মৃত্যু লেকের মৃত মানুষগুলোর পরিচয়ের সন্ধানে একদল অনুসন্ধানকারী পাঠায়। তাদের ধারণা, এখানে হয়তো তাদেরই একদল সৈন্য শত্রুর কবলে পড়ে এমন পরিণামের শিকার হয়েছে। কিন্তু তাদের অনুসন্ধানের ফল- কঙ্কালগুলো তাদের নয়, এমনকি জাপানিদেরও নয়।
তবে রূপকুন্ড নিয়ে অধিকাংশ ব্রিটিশ গবেষকের মতে, এ মৃতদেহগুলো কাশ্মীরের জেনারেল জোরওয়ার সিংয়ের সেনাবাহিনীর। ১৮৪১ সালে তিব্বতে এক যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা পথ ভুলে হিমালয় অঞ্চলে হারিয়ে যায়। আর নিষ্ঠুর হিমালয়ের প্রচণ্ড আবহাওয়ায় তাদের এমন করুণ পরিণতি। অবশেষে রেডিও কার্বন টেস্টে জানা যায়, এ কঙ্কালগুলো সেই ১২ শ থেকে ১৫ শ শতক আমলের। এ তথ্য থেকে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, মোহাম্মদ তুঘলকের দুর্ভাগা সেনাবাহিনীর কঙ্কাল এগুলো। হিমালয়ে তুঘলকের ব্যর্থ অভিযানের চিত্র এটি। তবুও এখনও সন্দিহান অনেকেই। তাঁদের ধারণা, উত্তরাখন্ডে কোনো এক অজানা মহামারির ফলেই এমনটি হয়েছে। আবার অনেক অ্যানথ্রোপলজিস্ট বলছেন, এটি কোনো এক ধর্মীয় আত্মহত্যার অজানা ইতিহাস।
এ রহস্যের কূলকিনারা করতে ২০০৪ সালে অভিযানে নামে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটি দল। কঙ্কালগুলোর ডিএনএ ও কার্বন টেস্টের ফলাফল আগের সব ধারণাকে ছাড়িয়ে যায়। তাঁরা জানান, এগুলো কল্পণারও বহু বছর আগের, সেই ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের। মাথার পেছনে চরম আঘাতে প্রত্যেকের মৃত্যু ঘটেছে। অথচ তা পাহাড় ধস বা তুষার ধস বা মাথার পেছনে শক্ত কিছুর আঘাতে তা ঘটেনি। ওই সময়ে এখানে বসবাসকারীদের মারণাঘাত এসেছিলো ওপর থেকে অর্থাৎ আকাশ থেকে। সম্ভবত, কোনো মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক শিলাবৃষ্টির কারণেই এমনটি ঘটেছে।
এ দুর্গম স্থানটিতে মানুষের কোনো আনাগোনা নেই। প্রাচীন আমলে এদিক দিয়ে কোনো চলাচলের রাস্তা ছিলো, এমন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণও নেই। তবে এর আশপাশ দিয়ে প্রতি ১২ বছর অন্তর তীর্থ যাত্রীদের আসা-যাওয়া পড়ে। তাঁদের মুখ থেকেই এই অজানা লেকটির গল্প ছড়ায় চারপাশে।
তবে হিমালয়ের মানুষদের মধ্যে একটি প্রচলিত গান রয়েছে। এ গানের কথায় তাঁরা বলেন- তাদের এক দেবী পাহাড়ের শান্তি বিনষ্টকারীদের উপর রুষ্ট হয়ে একবার লোহার মতো শক্ত পাথরের বৃষ্টি দিয়ে বিনাশ করেছিলেন। সূত্র: ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:২৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×