আগে মানুষ এ তথ্য জানতো যে, এ কঙ্কালগুলো উনিশ শতকের জাপানি সেনাবাহিনীর। তারা হয়তো সেই সময় এখানে লুটের উদ্দশ্যে এসেছিলো। কিন্তু এখানকার দুর্গম-রুক্ষ প্রকৃতি তাদের এই সাজা দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন এই মৃত্যু লেকের মৃত মানুষগুলোর পরিচয়ের সন্ধানে একদল অনুসন্ধানকারী পাঠায়। তাদের ধারণা, এখানে হয়তো তাদেরই একদল সৈন্য শত্রুর কবলে পড়ে এমন পরিণামের শিকার হয়েছে। কিন্তু তাদের অনুসন্ধানের ফল- কঙ্কালগুলো তাদের নয়, এমনকি জাপানিদেরও নয়।
তবে রূপকুন্ড নিয়ে অধিকাংশ ব্রিটিশ গবেষকের মতে, এ মৃতদেহগুলো কাশ্মীরের জেনারেল জোরওয়ার সিংয়ের সেনাবাহিনীর। ১৮৪১ সালে তিব্বতে এক যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা পথ ভুলে হিমালয় অঞ্চলে হারিয়ে যায়। আর নিষ্ঠুর হিমালয়ের প্রচণ্ড আবহাওয়ায় তাদের এমন করুণ পরিণতি। অবশেষে রেডিও কার্বন টেস্টে জানা যায়, এ কঙ্কালগুলো সেই ১২ শ থেকে ১৫ শ শতক আমলের। এ তথ্য থেকে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, মোহাম্মদ তুঘলকের দুর্ভাগা সেনাবাহিনীর কঙ্কাল এগুলো। হিমালয়ে তুঘলকের ব্যর্থ অভিযানের চিত্র এটি। তবুও এখনও সন্দিহান অনেকেই। তাঁদের ধারণা, উত্তরাখন্ডে কোনো এক অজানা মহামারির ফলেই এমনটি হয়েছে। আবার অনেক অ্যানথ্রোপলজিস্ট বলছেন, এটি কোনো এক ধর্মীয় আত্মহত্যার অজানা ইতিহাস।
এ রহস্যের কূলকিনারা করতে ২০০৪ সালে অভিযানে নামে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একটি দল। কঙ্কালগুলোর ডিএনএ ও কার্বন টেস্টের ফলাফল আগের সব ধারণাকে ছাড়িয়ে যায়। তাঁরা জানান, এগুলো কল্পণারও বহু বছর আগের, সেই ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের। মাথার পেছনে চরম আঘাতে প্রত্যেকের মৃত্যু ঘটেছে। অথচ তা পাহাড় ধস বা তুষার ধস বা মাথার পেছনে শক্ত কিছুর আঘাতে তা ঘটেনি। ওই সময়ে এখানে বসবাসকারীদের মারণাঘাত এসেছিলো ওপর থেকে অর্থাৎ আকাশ থেকে। সম্ভবত, কোনো মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক শিলাবৃষ্টির কারণেই এমনটি ঘটেছে।
এ দুর্গম স্থানটিতে মানুষের কোনো আনাগোনা নেই। প্রাচীন আমলে এদিক দিয়ে কোনো চলাচলের রাস্তা ছিলো, এমন কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণও নেই। তবে এর আশপাশ দিয়ে প্রতি ১২ বছর অন্তর তীর্থ যাত্রীদের আসা-যাওয়া পড়ে। তাঁদের মুখ থেকেই এই অজানা লেকটির গল্প ছড়ায় চারপাশে।
তবে হিমালয়ের মানুষদের মধ্যে একটি প্রচলিত গান রয়েছে। এ গানের কথায় তাঁরা বলেন- তাদের এক দেবী পাহাড়ের শান্তি বিনষ্টকারীদের উপর রুষ্ট হয়ে একবার লোহার মতো শক্ত পাথরের বৃষ্টি দিয়ে বিনাশ করেছিলেন। সূত্র: ইন্টারনেট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।