http://prothomnews.com
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের মিসেস মাজোলার অতি প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছে বেড়ালটি। প্রায় ছয় দিন হলো একে নিয়মিত খাবার আর দুধ দিচ্ছেন তিনি। বাদামি-কালো-সাদার মিশেলে চমৎকার বেড়ালটি সম্ভবত হারিয়ে গেছে। তিনি বেড়ালটিকে নিয়ে এক পশু চিকিৎসকের কাছে হাজির হলেন। সেখানেই জানতে পারলেন, এর গায়ে সাঁটানো একটা মাইক্রোচিপে বেড়ালটির নাম পরিচয় রয়েছে। এর নাম হলি। তার আসল মালিক জ্যাকোব ও বনি রিচার দম্পতি। মিসেস মাজোলার বাড়িটি থেকে এক মাইল দূরেই তারা একটা ক্যারাভানে থাকতেন। হঠাৎ করেই একদিন তারা হলিকে হারিয়ে ফেলেন। অবশেষে হলিকে ছাড়াই পাড়ি জমান এখান থেকে দুশো মাইল উত্তরে ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূলে নিজেদের বাড়িতে। তাও মাস দুয়েক আগের ঘটনা এটি। অথচ হলি গত দুমাস ধরে কীভাবে খুঁজতে খুঁজতে দুশো মাইল দূরে তার মালিকদের কাছে নিজ বাড়িতে পৌঁছে গেল, তা সত্যিই আশ্চর্যজনক এক ঘটনা।
পশু-পাখিদের চোখ বা কান বা ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক বেশি। কিন্তু একটা বেড়াল দুশো মাইল দূরে তার বাড়ির খোঁজ বের করে ফেলবে তা আশা করা যায় না। এর সঠিক ব্যাখ্যায় কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীর আচরণ বিষয়ক গবেষক প্রফেসর মার্ক বেকফ বলেন, এ ঘটনা একটা রহস্য। ধরে নেওয়া যাক, বেড়ালটির গন্ধ বা পরিচিত দৃশ্য সবিকছু সম্পর্কে সুতীক্ষ্ণ জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু এ বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে মালিকের কাছে ফেরা অসম্ভব ঘটনা। হলির গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্যে এর চার পায়ের থাবা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেড়ালটি সরাসরি রাস্তা ব্যবহার করেছে। সে মাঠ-ঘাট দিয়ে যায়নি। মানুষ বা গাড়ি চলাচলের রাস্তা দিয়ে হাঁটার কারণে হলির থাবার নখ যথেষ্ট ক্ষয়ে গেছে।
এখন হলি তার প্রিয় মালিক বিমানের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রিচারের কোলে। রিচার বলেন, হলি সাগরকে বাম পাশে রেখে উপকূলের উদ্দেশে মূল রাস্তা দিয়ে হেঁটেছে। এ রাস্তায় হাজার হাজার আড়া-আড়ি রাস্তা রয়েছে। কিন্তু আমি জানি না, সে কীভাবে এত ব্যস্ত রাস্তায় নিজেকে সঠিক পথে ধরে রেখেছে।
প্রাণীবিদরা বলছেন, এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে যায় এমন পাখি বা বন্য পশু রয়েছে। কিন্তু একটা বেড়াল যে এমনটা করতে পারে তার কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। হলির ভেতরে হয়ত পরিযায়ী পশু-পাখিদের মত বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
তবে সত্যিটা হল, হলি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সুদীর্ঘ পথের যাত্রা শেষে এখন সুস্থ রয়েছে সে, জানালেন রিচারের স্ত্রী। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত নার্স। হলির যত্ন নিচ্ছেন। দুশো মাইল পথ হেঁটে হলির ১৩ পাউন্ড ওজনের দেহটি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ধকলে অসুস্থ হলি এখন খাবার-পানি সামান্য পরিমাণ খাচ্ছে। তাকে কাছে ফিরে পেয়ে আত্মহারা রিচার দম্পতি, খুশি সবাই আর অবাক প্রাণী বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।